বর্তমানে বিশ্বের একের তৃতীয়াংশ পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি কেন্দ্রগুলি রাশিয়ার জল দিয়ে ঠাণ্ডা করা ও জল দিয়েই চালানো পারমানবিক রিয়্যাক্টর লাগিয়ে তৈরী করা হচ্ছে ও হয়েছে. বিশ্বে রাশিয়ার পারমানবিক বিশেষজ্ঞদের এই সাফল্যের কারণ কি? উত্তর খুবই সহজ: রাশিয়া নিরাপত্তার বিষয় টিতেই বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে, যা বিশ্বের পারমানবিক শক্তির বাজারে রাশিয়ার পারমানবিক প্রযুক্তিকে পছন্দের কারণ হয়েছে.আমাদের বিদেশী সহকর্মীরা সোভিয়েত দেশ ও পরবর্তী কালে রাশিয়ায় তৈরী পারমানবিক প্রযুক্তিকে খুবই উচ্চ মূল্য দিয়ে এসেছে. কিন্তু আগামী বহু দশকের জন্য রাশিয়ার পারমানবিক শক্তি প্রযুক্তি বিষয়ে পুরোধা হতে পারার কারণ ছিল ২০০৬ সালে চীনের তিয়ানভান শহরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ. এই প্রকল্পে প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল রিয়্যাক্টরের সক্রিয় অংশের গলে যাওয়া ধরে ফেলার জন্য ফাঁদ – নামে এক অনন্য প্রযুক্তি. এই প্রযুক্তি তথাকথিত নিষ্ক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ, যা মানবিক ভুল হওয়া সম্পূর্ণ ভাবে পূরণ করতে পারে. চেরনোবিল পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দূর্ঘটনা ঘটার একটি অন্যতম কারণই ছিল মানুষের ভুল. এই জন্যই বর্তমানে তিয়ানভান শহরের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র কে মনে করা হয় বিশ্বের একটি নিরাপদতম কেন্দ্র.  শুধু এই একটা বাস্তব কারণই আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ও রাশিয়ার প্রযুক্তির উত্কর্ষ ব্যাখ্যার জন্য যথেষ্ট হতে পারত. কিন্তু নিরাপত্তাই শুধু অন্যতম কারণ নয় রাশিয়ার পারমানবিক প্রযুক্তির বিদেশে এত চাহিদার জন্য: "রসঅ্যাটম" সংস্থা যারা বিশ্বে রাশিয়ার পারমানবিক শিল্পের একটি উচ্চাভিলাষী প্রতিনিধিত্ব করে আসছে, তারা তাদের বিদেশের সহকর্মীদের শুধুমাত্র পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার বিষয়েই পরিষেবা দিচ্ছে না, পারমানবিক কেন্দ্রের সামগ্রিক পরিচালনা ও মেরামতের দায়িত্বও নিচ্ছে. এই কারণেই যৌথ প্রকল্প গুলির এত দাম হওয়া স্বত্ত্বেও বিদেশী গ্রাহকদের রাশিয়ার সঙ্গে পারমানবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য আকর্ষণ করে. অংশতঃ বর্তমানে রাশিয়ার সহযোগিতাতে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে বুলগারিয়া, হাঙ্গেরী, চেখ, স্লোভাকিয়া ও ইউক্রেনে. এশিয়ার দেশ গুলিও পেছিয়ে নেই – রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন ইরানে, পরে হতে চলেছে ভিয়েতনাম, ইজিপ্ট ও তুরস্ক তে. পূর্ব্বের বড় প্রকল্প গুলির মধ্যে "রসঅ্যাটম" সংস্থার ভারতে কুদানকুলাম শহরে নির্মীয়মাণ বিদ্যুত কেন্দ্রের ছয়টি রিয়্যাক্টর নির্মাণকে অবশ্যই অন্যতম বড় প্রকল্প বলা যেতে পারে.২০০২ সালে ভারতের তামিলনাডু রাজ্যে এই পারমানবিক প্রকল্প নির্মাণ শুরু হয়েছিল, ভারতের "ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস" পত্রিকা জানিয়েছে যে, প্রথম ব্লকটি এই বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই কাজ করতে শুরু করবে. রাশিয়ার পারমানবিক প্রযুক্তি সরকারি ভাবে এই দেশের বাইরে যারা সরবরাহ করে, সেই ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী "অ্যাটমস্ত্রোইএক্সপোর্ট" সংস্থার তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের সম্পাদক ওলগা শিলেভা এই বিদ্যুত কেন্দ্রের কাজের শেষ পর্যায়ের সম্বন্ধে "রেডিও রাশিয়া" কে জানিয়ে বলেছেন:"রসঅ্যাটম" সংস্থার প্রতিটি প্রকল্পই অনন্য যে ভাবে তার বাস্তবায়ন করা হয় তার দিক থেকে. ইরানের বুশের শহরে, যেমন, সমস্ত কিছুই তৈরী করছে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা. কুদানকুলাম শহরের প্রকল্পের বিশেষত্ব হল যে সেখানে সব কিছুই তৈরী করছে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা. তারাই প্রধান বরাত দিয়েছে – তারাই পুরো কাজটাও করছে. "অ্যাটমস্ত্রোইএক্সপোর্ট" নিয়ন্ত্রণ করছে কাজ, যন্ত্রপাতি দিচ্ছে কিন্তু কাজের গতি নির্ণয় করছে ভারতীয়রা, কারণ তারা এই প্রকল্প নির্মাণের সমস্ত দায়িত্ব নিচ্ছে. আমরা শুধু প্রযুক্তিগত ভাবে প্রকল্পের গতি প্রকৃতি দেখছি.আশা করা হয়েছে মস্কোতে ২রা আগষ্ট মন্ত্রী পর্যায়ে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে কুদানকুলামের এই প্রথম রিয়্যাক্টর ব্লক সংক্রান্ত সমস্ত মত বিনিময় শেষ হবে. কিন্তু আজকেই কুদানকুলাম প্রকল্পকে বলা যেতে পারে পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি কেন্দ্রগুলির মধ্যে নতুন একক.