১০ বছর আগে আজকের দিনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে রাশিয়ার জ্ভেজদা (তারা) মহাকাশ যান জোড়া লেগেছিল. এই মডিউল জোড়া লাগার সঙ্গে শুরু হয়েছিল মহাকাশচারীদের থাকা ও কাজ করার জন্য জায়গার ব্যবস্থা – কক্ষপথে বাড়ী.    এই মহাকাশ স্টেশন সম্বন্ধে জানিয়েছেন "মহাকাশচারনা সংবাদ" পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ইগর মারিনিন. তিনি রেডিও রাশিয়াকে এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:    "ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আই এস এস) তথা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার একটি সমন্বিত প্রকল্প। এই পাঁচটি সংস্থা হচ্ছে -
  • ন্যাশনাল এরোনটিক্‌স এন্ড স্পেস এডমিনিস্ট্রেশন বা নাসা (যুক্তরাষ্ট্র)
  • রাশিয়ান ফেডারেল স্পেস এজেন্সি (রাশিয়ান ফেডারেশন)
  • জাপান এরোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাপান)
  • কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (কানাডা)
  • ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি বা এসা (এর ১৫টি সদস্য দেশ বর্তমানে অংশ নিচ্ছে; অস্ট্রিয়া, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল এবং ফিনল্যান্ড অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; [[গ্রীস] এবং লুক্সেমবার্গ পরবর্তীতে এসাতে অংশ নেয়. অপরদিকে ব্রাজিল স্পেস এজেন্সি সরাসরি অংশ না নিয়ে নাসার সাথে স্থাপিত অন্য একটি চুক্তির মাধ্যমে আই এস এসের স্থাপনায় কাজ করে যাচ্ছে. ইটালিয়ান স্পেস এজেন্সি এসার সক্রিয় সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আই এস এসের কাজে সরাসরি অংশ না নিয়ে অনুরুপ কিছু চুক্তির মাধ্যমে কাজ করে. তবে ইটালির চুক্তিগুলো এসার সাথে.
মহাকাশ স্টেশনের বর্তমান ল্যাবরেটরীর আয়তন ফুটবল মাঠের সমান, প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উচ্চতায় সেখানে মানুষ বহুদিন ধরে একটানা থাকছে ও কাজও করছে, বলা যেতে পারে মানুষের তৈরী মহাকাশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম কমপ্লেক্স ও একসঙ্গে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করার একটা বড় প্রমাণ.    প্রথম মডিউল ছিল মার্কিন বরাতে তৈরী রাশিয়ার জারিয়া (ভোর) নামের মডিউল, তারপর তার সঙ্গে জোড়া লেগেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা বড় নয়, এমন মডিউল ইউনিটে, তারপরই কক্ষপথে জোড়া লেগেছিল জ্ভেজদা, আর সেই সঙ্গে প্রথম সুবিধা হয়েছিল মহাকাশে থাকার. মহাকাশে প্রথম যে দল অভিযানে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে, তার কম্যাণ্ডার ছিলেন অ্যাস্ট্রোনট উইলিয়াম শেপার্ট ও দুজন বোর্ড এঞ্জিনিয়ার সের্গেই ক্রিকালিয়ভ ও ইউরি গ্নিজদেঙ্কো. তাঁরা রাশিয়ার সইউজ মহাকাশ যানে চড়ে স্টেশনে পৌঁছেছিলেন".    জ্ভেজদা মডিউলের মধ্যে থাকা সম্ভব, সেখানে প্রত্যেক মহাকাশচারীর জন্য আলাদা করে ঘর আছে, চিকিত্সার যন্ত্রপাতি আছে, ব্যায়াম করার জন্য যন্ত্র রয়েছে, রান্নাঘর, খাওয়ার টেবিল, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য রক্ষার জিনিসপত্র সব কিছুই.গত দশ বছরে স্টেশনের সঙ্গে আরও কয়েকটি মডিউল জোড়া হয়েছে, সেখানে আজ অবধি ১৮৯ জন মানুষ গিয়েছেন. তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ছাড়াও বিশ্বের আরো অনেক দেশের লোক. রাশিয়ার মস্কো উপকণ্ঠের করোলিয়ভ এবং আমেরিকার টেক্সাসে হিউস্টন থেকে এই স্টেশন কে পরিচালনা করা হয়ে থাকে, দুই কেন্দ্রেই অন্য দেশের বিশেষজ্ঞরা সব সময়ে রয়েছেন. তাঁরা যে কোন রকমের কর্ম জটিলতা সমাধান করার জন্যই রয়েছেন.    এ বছরে রাশিয়া সহকর্মী দেশ গুলিকে মহাকাশ স্টেশন থেকে বিশ্বের কক্ষ পথের বাইরে উড়ে যাওয়ার জন্য মহাকাশ যান তৈরী করার জন্য প্রস্তাব করেছে, যেটি মহাকাশ স্টেশনে জোড়া লাগানো হতে পারে. এই কক্ষ পথের কসমোড্রম থেকে মহাকাশ যান উড়ে যাবে চাঁদে বা অ্যাস্টেরয়েড দের দিকে. কাজ শেষ করে আবার মহাকাশ স্টেশনেই ফিরে আসবে. বিদ্যুত চালিত স্বল্প শক্তির মোটর ও রোবট ম্যানুপুলেটর দিয়ে তৈরী এই মহাকাশ যান বহুবার কাজে লাগানো সম্ভব হবে. মহাকাশচারীরা এই ভাবে মহাকাশের নানা পদার্থকে পরীক্ষা করতে পারবেন.    কিছু দিন আগে পাঁচটি মহাকাশ সংস্থার প্রধানেরা জাপানের টোকিও শহরে এক আলোচনা সভাতে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ২০২০ সাল অবধি মহাকাশ স্টেশনের আয়ু বৃদ্ধি করতে কোন রকমের যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত অসুবিধা নেই. সুতরাং আজকের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা খুব কম করে হলেও আরও দশ বছর জ্বলজ্বল করতে থাকবে.