বিগত কিছু কাল ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে খবর আসছে সাফল্যের সঙ্গে স্থানীয় মাদক চক্রের জালের নেতাদের গ্রেপ্তারের. এই রকম একটা পরিবেশে খুবই আশ্চর্যের বিষয় হয়েছে, এই বিষয়ে কোন রকম সাফল্যের খবর, কেন আফগানিস্থান থেকে নেই. আর জানাই আছে যে, এই দেশে একদিকে, দুনিয়ার শতকরা ৯০ ভাগ হেরোইন উত্পাদন হয় যা লোকে ব্যবহার করে এবং অন্যদিকে, পশ্চিমের বিশেষ বিভাগ গুলি বিনা বাধায় কাজ করবার সুযোগ পায়. তাহলে স্থানীয় অথবা বলা যেতে পারে বিশ্বের মাদক চক্রের চাঁই দের ধরতে তাদের বাধা কোথায়? "এই প্রশ্নটি আমরা করেছিলাম এই অঞ্চল সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রবীণ বৈজ্ঞানিক কর্মী ভিক্তর নাদেইন রায়েভস্কি কে. কিন্তু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, এই প্রশ্নটাই সঠিক নয়: আফগানিস্থানের মাদক উত্পাদকেরা বিশ্বের মাদক পাচার চক্রের কোন ভাবেই চাঁই নয়. তিনি বলেছেন: মাদক পাচার চক্রের আসল চাঁই দের আফগানিস্থানের পাহাড়ে খুঁজে লাভ নেই, যদিও এই দেশ মাদক চক্রের প্রধান উত্পাদনের জায়গা. আফগানিস্থানের বিজ্ঞানী আবদুল হাকিম ফাজেলি এই পরিস্থিতিটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন: আন্তর্জাতিক মাদক মাফিয়া আফগানিস্থানে মাদক উত্পাদন ও তার পাচার নিয়ন্ত্রণ করে, যার কেন্দ্র রয়েছে পশ্চিমের দেশে. রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থায় মনে করা হয় যে, এই চক্রের কিছু মাথা, যারা আফগানিস্থান থেকে মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করে, তারা রয়েছে সম্ভবতঃ আরব উপদ্বীপের দেশ গুলিতে. আরব দেশ গুলিতে মাদক সংক্রান্ত আইন খুবই কঠোর, সেখানে কেউ মাদক নিয়ে যায় না. সেখানে শুধু আফগানিস্থান ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আনা মাদক দ্রব্য যাতায়াতের পরিকল্পনা করার জন্য দপ্তর থাকতে পারে. কিন্তু খুব ভাল করেই জানা আছে, ইউরোপের সেই অঞ্চলটাকে, যেখানে বিভিন্ন দেশের জন্য মাদকের ভাগাভাগি করা হয়ে থাকে. এটা কোসভা. এখানে কাজ করে, যেমন, ওসমানী মাফিয়া দল, যারা এই অপরাধ ব্যবসায় বিশেষ ভাবে জড়িত. তাদের নেতা কোন এক ফেলিক্স চাজিম, যাকে রক্ষা করে কোসভার সবচেয়ে বড় আলবেনিয় ব্যবসাদার বেদজেটা পাক্কোলি. সে আবার সারা ইউরোপে যারা আফগানিস্থানের হেরোইন ছড়ায় সেই ইতালির মাফিয়ার সঙ্গে যুক্ত". ব্যাপারটা অদ্ভূত হল: জায়গা জানা আছে, নির্দিষ্ট লোক জানা আছে, কিন্তু কিছুই করা হচ্ছে না এই সব অপরাধীদের ধরার জন্য, কিন্তু কেন? "কিছু কাজ তাও করা হচ্ছে. কিছুদিন আগে ইতালিতে ধরা হয়েছে জেনেরাল জামপাওলো গানজেরা কে. কাজের চরিত্র অনুযায়ী তার নিজেরই মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে লড়ার কথা, কিন্তু সে নিজেই মাদক পাচার করত আর তার আবার ছড়ানোর ব্যবস্থাও করেছিল. আর এটা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, মাদক পাচারের ব্যবসার সঙ্গে সরকারি উচ্চ পদস্থ আমলাদের প্রতিনিধিরা কতটা জড়িত হতে পারে. বোঝাই যায়, তাদের অনেক উপায় আছে, সমস্ত গিঁটের ফাঁস গুলিকে লুকিয়ে রাখার আর জামপাওলো ধরার পড়া ব্যাপারটা একটা হঠাত্ ঘটে যাওয়া ঘটনা মাত্র. মাদক পাচার চক্রের মাথারা খুবই বিশ্বাস যোগ্য আড়ালের পিছনে আছে. কোসভার মাদক পাচার চক্রের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখানের প্রশাসনের সঙ্গে – আর যেমন মনে করা হয় আমেরিকার সি আই এ সংস্থার সঙ্গেও. আফগানিস্থানের মাদক পাচার চক্রের একেবারে শুরু থেকেই ভরসা যোগ্য গা ঢাকা দেওয়ার ব্যবস্থা জুটেছে – সেই সি আই এ সংস্থার আড়ালেই. এই সংস্থা সেই সময়ে মাদক ব্যবসাকে উত্সাহ দিয়েছিল আর সেই অর্থ থেকে আফগানিস্থানে থাকা সোভিয়েত সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে রসদ জুটিয়েছিল. আফগানিস্থানে গোপন সব কাজের প্রাক্তন প্রধান চার্লস কোয়েন খুবই সন্তর্পণে উল্লেখ করেছেন যে, 'ঠাণ্ডা যুদ্ধের প্রয়োজনে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কে বলি দিয়ে ছিলাম'. ইতিহাস প্যারাডক্স পছন্দ করে. এখন মাদক ব্যবসার থেকে পাওয়া অর্থ তালিবেরা ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ রত আমেরিকার সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে". কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও আফিমের ক্ষেত ধ্বংস করতে তাড়া করছে না. একদল বিশেষজ্ঞ বলছেন, আফগানিস্থানের মাদক দ্রব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবধি পৌঁছতে পারছে না, আর ইউরোপ বা রাশিয়ার বিপদে আমেরিকার লোকেদের কিছু যায় আসে না. অন্যরা এই সমস্যার মূলে দেখতে পাচ্ছে যে, আফগানিস্থানের মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে সেই সব লোকেরা জড়িত, যাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগের মতই অভিভাবকত্ব করছে, যদিও ঠাণ্ডা যুদ্ধ শেষ হয়েছে বহু দিন আগে. কিংবা হতে পারে দুটো মতই সত্যি?