পাকিস্থানে ওসামা বেন লাদেন কে নিয়ে একটা কমেডি সিনেমা ঘিরে প্রচুর বিতর্কের ঝড় উঠেছে. "তেরে বিন লাদেন" নামের সিনেমার নামেই দুটো মানে লুকিয়ে আছে: "তোমার বেন লাদেন" অথবা "তোমাকে ছাড়া - লাদেন". এই কথা নিয়ে খেলা অনেকটা এই সিনেমা ও তার হিরো কে ঘিরে যে অদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে তাকে প্রতিফলিত করেছে. সিনেমাটি প্রথম দর্শকের দরবারে উপস্থিত করার কথা ছিল একেবারেই কিছু না বিশেষ করে না ভেবে মার্কিন সরকারি সচিব হিলারি ক্লিন্টনের পাকিস্থান সফরের অব্যবহিত আগে, কিন্তু সিনেমাটি তখন দেখাতে দেওয়া হয় নি.

   

 বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

   

 ছবিটির গল্প খুবই সাধারন, পাকিস্থানের এক সাংবাদিক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাকাপাকি ভাবে চলে যাওয়ার জন্য ভিসার আশায় এক স্থানীয় চাষীর ইন্টারভিউ নেয়, যে কিনা মুরগী পালন করে. সাংবাদিক চাষীর সঙ্গে বেন লাদেন এর মুখের মিল খুঁজে পেয়ে তাকেই বেন লাদেন বলে চালাতে চায়, সে ভেবেছিল, তাহলে আমেরিকার ভিসা পেতে সুবিধা হবে. এই রকম একটা নাটকীয় গল্পে, কিন্তু স্থানীয় সেন্সর বোর্ড বিপদের সংকেত দেখতে পেয়েছে. তাঁদের মতে, চাষীর কুশ্রী চেহারা, খারাপ ভাষায় কথা, যাকে কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে, তা স্থানীয় ঐস্লামিক চরমপন্থীদের ক্ষিপ্ত করবে এমনকি তারা অপমানিতও বোধ করতে পারে, আর তাহলে দেশে দাঙ্গা হতে পারে.

   

 কিন্তু ঘটেছে, যা আশাই করা যায় নি. এই সিনেমার স্বপক্ষে কথা বলতে উঠে দাঁড়িয়েছেন, সেই সব লোকেরা যারা এই সিনেমা তৈরী করেছেন – অভিনেতা, সঙ্গীত শিল্পী, গায়ক আরও অনেক পাকিস্থানের সিনেমা প্রিয় মানুষ. অভিনেতা ও প্রখ্যাত গায়ক আলি জাফর, যিনি এই সিনেমাতে একটি মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন, ঘোষণা করেছেন যে, তিনি পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করবেন, যাতে এই সিনেমা দেখাতে দেওয়া হয়. অভিনেতার কথামতো, "সন্ত্রাসবাদ – এটা পাকিস্থানের কোন সমস্যা নয়, এটা দেশে বাইরে থেকে আমদানী করা হয়েছে. আমাদের বেন লাদেন কে ছাড়াই ভাল".

   

 কিন্তু ওসামা বেন লাদেন কে কেন পাকিস্থানে খোঁজা হচ্ছে, কেন প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্থানে নয়, অথবা অন্য কোথাও নয়? বর্তমানে কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্থানে সফরে আসা মার্কিন রাষ্ট্র সচিব আবারও ঘোষণা করেছেন যে, সম্ভবতঃ বেন লাদেন পাকিস্থানেই আছে. এই বিষয়ে পাকিস্থানের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ ফারুক আরশাদ বলেছেন:

   

 "ওসামা বেন লাদেন পাকিস্থানে নেই. তাই কেন এই ধরনের ঘোষণা করা হয়েছে, তা বলা মুশকিল. কিন্তু যদি এই বিষয়ে বলা হয়, তবে কিছু প্রমাণ থাকারও প্রয়োজন. আর তা নেই. যদি শ্রীমতী ক্লিন্টন পারেন, এই সম্বন্ধে কোন প্রমাণ দিতে, তবে পাকিস্থানের সেনাবাহিনী, ও গুপ্তচর বাহিনী, যারা তালিবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তাদের যথেষ্ট ক্ষমতা ও ব্যবস্থা আছে ওসামা বেন লাদেন কে ধরে ফেলার বা খতম করে দেওয়ার মতে. কিন্তু এই ধরনের কথার পেছনে অনেক সুদূর প্রসারী ধান্ধা থাকতেই পারে, যেমন, ওসামা বেন লাদেনকে ধরার ব্যাপারে পাকিস্থানের সরকারের অক্ষমতা বা অনিচ্ছা প্রমাণ করা যায়, আর তারপর আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর পাকিস্থানের পাহাড়ে বাধ্য হয়ে অভিযান চালানো. এটা কোন কল্পিত ব্যাপার নয়, এই রকম ঘটনা গত কয়েক বছর ধরে প্রায়ই হচ্ছে".

   

 হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গে বৈঠকের সময় পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি জারদারী ও প্রধানমন্ত্রী গিলানি দৃঢ় ভাবে বলেছেন যে, তাঁরা বেন লাদেন এর পাকিস্থানে থাকার বিষয়ে কিছু জানেন না, একই সঙ্গে হিলারি ক্লিন্টনকে বলেছেন, প্রমাণ থাকলে তা জানাতে.

 প্রসঙ্গতঃ ওসামা বেন লাদেন কোন সমস্যা নয়, তাকে গত ২০০৭ সালের পর থেকে কেউ দেখেই নি. কিন্তু আরো বড় আর গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে – এটা সন্ত্রাসবাদ. শুধু পাকিস্থানের জন্যই তা বিপজ্জনক নয়, অন্যান্য দেশ এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও তা বিপদের কারণ. আর এই বিপদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে, সমস্ত শক্তি ও সামর্থ্য দিয়ে. এই ক্ষেত্রে "তেরে বিন লাদেন" সিনেমা খুবই উপকারী হতে পারে.