রাশিয়ার কোম্পানীরা বিশ্বের একটি অন্যতম বিমান প্রদর্শনীতে গ্রেট ব্রিটেনের "ফার্নবরো – ২০১০" এ অংশ গ্রহণ করে নিজেদের কাজে সন্তুষ্ট হতে পেরেছে. তাঁরা প্রায় হাজার কোটি ডলারেরও বেশী দামের চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে.

   

"ফার্নবরো – ২০১০" প্রদর্শনীতে রাশিয়ার প্রায় সমস্ত সামরিক ও অসামরিক বিমান, ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ যোগ্য সামরিক যুদ্ধের প্রযুক্তি এবং কিছু আশাপ্রদ মহাকাশ সংক্রান্ত প্রকল্প উপস্থিত করা হয়েছিল. বিদেশী কর্পোরেশন গুলির সাড়া জাগানো প্রথম প্রদর্শনী, যেমন আমেরিকার "বোয়িং কর্পোরেশনের" ৭৮৭ মডেলের "ড্রিম লাইনার" অথবা ইউরোপের "এয়ারবাস – ৩৮০" ইত্যাদির মাঝে রাশিয়াও নিজের দেশ থেকে নিয়ে গিয়েছিল এর মধ্যেই বিশ্বে পরিচিত নতুন "সুখই কর্পোরেশনের" "সুপারজেট – ১০০" বিমান. এই মার্কার বিমানের নির্মাতা কোম্পানী মাঝারি পাল্লার এই ধরনের বেশ কিছু বিমানের জন্য এক ২৫০ কোটি ডলারেরও বেশী দামের চুক্তি করেছে.

   

ফার্নবরো শহরে রাশিয়ার লোকেদের জন্য আরও একটি বাঁধ ভাঙা আনন্দের কারণ হল, রাশিয়ার কর্পোরেশন "ইরকুত" ও মালয়েশিয়ার কোম্পানী ক্রেকম এর মধ্যে ৫০ টি "এম এস – ২১" মার্কা বিমান সরবরাহের চুক্তি স্বাক্ষর. এই চুক্তির বয়ান অনুযায়ী মালয়েশিয়া এই কারণে ৩০০ কোটি ডলার দেবে. রাশিয়ার এই উত্পাদকের জন্য মালয়েশিয়া প্রথম ক্রেতা দেশ হয়েছে. এছাড়া "ইরকুত" বেশ কয়েকটি রাশিয়ার কোম্পানীর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে, যেখানে কোম্পানী গুলি "ইরকুত কর্পোরেশনের" কাছ থেকে ৮০ টি এই ধরনের বিমান ও ১০টি "আন – ১৫৮" বিমান কিনবে.

   

২০১৩ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের মধ্যে "এরোফ্লোট – রাশিয়ার বিমান কোম্পানী" "এয়ার বাস কর্পোরেশনের" কাছ থেকে ১১টি ৩৩০ – ৩০০ মডেলের বিমান কিনবে বলে প্রদর্শনীর সময়ে চুক্তি করেছে.

   

বিশ্বের নানা জায়গায় অনুষ্ঠিত হওয়া বিমান প্রদর্শনী গুলির মধ্যে ফার্নবরো একটি অন্যতম জায়গা, তার সঙ্গে তুলনীয় ফ্রান্সের "লা বুর্জ", রাশিয়ার "মাক্স" এবং আরও কয়েকটি বৃহত্ প্রদর্শনী. বৃহত্তম বিমান নির্মাণ কর্পোরেশন গুলি তাদের উপস্থিতি এই প্রদর্শনীতে মনে করে অবশ্য কর্তব্য.রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর রুসলান পুখভ "রেডিও রাশিয়ার" জন্য বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া এই ধরনের প্রদর্শনীতে সবসময়েই খুব শক্তিশালী উপস্থিতি দেখিয়ে এসেছে. তিনি বলেছেন:     "সামরিক ও অসামরিক বিমান নির্মাণের ক্ষেত্রে "ফার্নবরো" "লা বুর্জের" দুটি প্রদর্শনীকেই সারা বিশ্বে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে. এর আগে আমরা বহু কাল ধরে এখানে সামরিক বিমানে উদাহরণ দেখিয়ে এসেছি. এখন অসামরিক বিমানের ক্ষেত্রেও আমাদের দেখানোর মত কিছু হয়েছে, এবারে "সুখই" কর্পোরেশন "ফার্নবরো" প্রদর্শনীতে তাদের নতুন অসামরিক বিমান "সুখই সুপারজেট ১০০" নিয়ে এসেছে. এখানে এই বিমান উড়ান প্রদর্শনীতে অংশ নেবে. এই বছরের শেষের মধ্যে এই বিমান সেই সমস্ত বিমান পরিবহন কোম্পানী, যারা বায়না করেছিলেন, তারা পেতে শুরু করবেন. আরও একটি আশাপ্রদ বিমান এম এস – ২১, এটিও বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানী কিনছে, এই চুক্তি গুলি প্রমাণ করছে যে, রাশিয়া এখন অসামরিক বিমান নির্মাণের ক্ষেত্রে শেষ কথা বলার মত না হলেও নব্বই এর দশকের পর হারিয়ে নিজের জায়গাতে আবার ফিরে আসতে পেরেছে".

    যদিও ফার্নবরো – ২০১০ এ রাশিয়ার আসল বিমান ও প্রযুক্তির জায়গায় তাদের মডেল ও ছবিই ছিল বেশী, তবুও রাশিয়ার কোম্পানী গুলির চুক্তি করতে কোনও অসুবিধা হয় নি. যদি সব মিলিয়ে রাশিয়ার ব্রিটেনের বিমান প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সাফল্য সম্বন্ধে মূল্যায়ন করতে হয়, তবে তা সন্দেহাতীত ভাবেই বেশী. "ফার্নবরো" প্রদর্শনীতে বিশ্বের সমস্ত প্রযুক্তির প্রদর্শনী হচ্ছে, আর রাশিয়ার প্রযুক্তি বিমান ও মহাকাশ ক্ষেত্রে সারা বিশ্বের মতই আভ্যন্তরীন বাজারের উপর শুধু নির্ভর করে না, আন্তর্জাতিক রপ্তানীর ক্ষেত্রেও করে থাকে. তাই বিশ্বের বাজারে সাফল্যের জন্য এই ধরনের প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া একটি আবশ্যিক শর্ত সম্ভাব্য ক্রেতাদের নতুন প্রযুক্তি ও বিমান নির্মাণের আধুনিক সাফল্য দেখতে পাওয়া জরুরী. আর এই সমস্ত চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থ আরও আধুনিক প্রযুক্তি নির্মাণের জন্য প্রয়োজন. বিদেশী সহযোগীদের কাছ থেকে বর্তমানে শুধু "রসআবারোনএক্সপোর্ট" কোম্পানীই রাশিয়ার প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য ৩৮০০ কোটি ডলারের বেশী চুক্তি করেছে. রাশিয়ার বিমান প্রযুক্তি উত্পাদনের বৃহত্তম ক্রেতা দেশ গুলি হল ভারত, আলজিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং মালয়েশিয়া. এই ধরনের সাফল্য রাশিয়াকে বিশ্বের বিমান মহাকাশ প্রযুক্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেতে সাহায্য করবে.