প্রায় এক মাস হতে চলল আবহাওয়ার পূর্ব্বাভাষ শোনাচ্ছে যেন রেহাই পাওয়ার উপযুক্ত ঠাণ্ডা কে কোন সুযোগ না দিয়ে নিষ্ঠুর আদালতের রায়ের মতো. ইউরোপে এবারের গরম সমস্ত ধারণা যোগ্য রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে. মস্কো শহর এখন সত্যিকারের বিষুবরেখার কাছের শহরের মতো, তাপমাত্রা তিরিশ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বহু উপরে, আবার বলা হয়েছে, এটাই শেষ নয়. এমন কি উত্তরের সুইডেন রাজার রাজত্বেও এই কয়েক দিনে থার্মোমিটারের পারা উঠেছিল ৩৪, ৩ ডিগ্রী, যা ১৭৫৩ সাল থেকে শুরু হওয়া তাপমাত্রা মাপার ইতিহাসে আজ অবধি সবচেয়ে বেশী. এই রকম, নরম করে বললে, অস্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ কি করে বেঁচে থাকতে পারে?     মস্কোর প্রধান রোগ প্রতিষেধক চিকিত্সক লিওনিদ লাজেবনিক এই সম্বন্ধে যা বলেছেন, তা রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিক শুনে এসেছেন. তিনি লিখেছেন, চিকিত্সকদের মতে গরম বেশী পড়লেও মস্কোতে অ্যাম্বুলেন্স লোকে অন্য বছরের এই সময়ের তুলনায় মাত্র তিন থেকে পাঁচ শতাংশ বেশী ডেকেছে, তাই বিপর্যয় হয়েছে বলা যায় না. যেমন, হৃদরোগ বা সন্ন্যাস রোগ বেড়েছে বলেও খবর নেই. আর সাধারণতঃ যাদের হৃদয় বা রক্ত চলাচল সংক্রান্ত রোগ আছে, তারাই আশঙ্কা জনকদের দলে পড়েন. তাদের জন্য চিকিত্সকদের উপদেশ হল, বেশী ওষুধ খাওয়া, কম শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করা, মাথায় টুপি পরা, ছাতা দেওয়া. প্রসঙ্গতঃ এই চালাকি হীণ উপদেশ সবারই কাজে লাগতে পারে, সে স্বাস্থ্য যতই ভাল হোক না কেন. মোদ্দা কথা হল শরীর বেশী গরম হতে না দেওয়া, লাজেবনিক বলেছেন:    "যেহেতু আমরা জানি যে, দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৬, ৬ ডিগ্রী, আর তা ঠিক থাকে শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যেতে পারলে তবেই, সুতরাং আমাদের উচিত হবে বাড়তি তাপ বের হতে দেওয়া. বাইরের তাপমাত্রা যত বেশী হয়, এই কাজ তত খারাপ হয়. তাই উচিত হবে শরীরের চামড়াকে সাহায্য করা, হাল্কা আর যা তাপ বেরিয়ে যাওয়াতে প্রতিরোধ করে না আর অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুষে নিতে পারে এমন কাপড়ের পোষাক পরা. সুতী, লিনেন, সিল্ক ছাড়া অন্য কোন রকমের কাপড় পরাই ঠিক নয়, যে সব কৃত্রিম তন্তু জাত কাপড়ের মধ্য দিয়ে হাওয়া ও ঘাম বেরিয়ে যেতে পারে বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, সেগুলি ও পরা ঠিক নয়".প্রয়োজনীয় উপদেশের মধ্যে তিনি যেগুলি বলেছেন তা হল:বেশী করে জল খাওয়া, তবে জলের সঙ্গে সামান্য নুন মিশিয়ে নেওয়া ভাল, তা না হলে শরীরে নুনের ভারসাম্য নষ্ট হয়. পুরনো রুশী অভ্যাস অনুযায়ী সকালে একটু নোনা মাছ খেয়ে নিলে শরীর গরমেও ভাল থাকে. যে সমস্ত শ্রমিক ধাতু গলানোর কারখানাতে কাজ করে, তাদেরও বহু কাল আগে থেকেই নোনা জল খেতে দেওয়া হত, তাতে কাজ করার ক্ষমতা কমত না.খাওয়া দাওয়া ঠিক করে করা দরকার, ফল, সব্জী, ঠাণ্ডা স্যুপ (টমেটো, বীট) এই সবের ঠাণ্ডা স্যুপ খাওয়া, মাংস কমানো, আইস ক্রীম ও কম খাওয়া, কারণ তাতেও চর্বি থাকে.ঘরের জানলা দরজা পারলে খুলে রাখা, তবে দেখতে হবে যাতে ধুলো ধোঁয়া কম আসে, দরকার হলে জানলায় পর্দা লাগাতে হবে জালি কাপড়ের, তা দিনে রাতে জল দিয়ে ভেজালে ভাল হয়, পাখা, এয়ার কণ্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে ঠাণ্ডা না লাগে. জৈব অবশেষ আগুন লাগায় ধোঁয়া হলে, সেখানে না থাকাই ভাল, নিরুপায় হলে নাক ঢাকার জন্য মুখোশ পরতে হতে পারে ওষুধের দোকান থেকে কিনে.চিকিত্সকের মতে এই কয় দিনের গরমে লোকের অভ্যাস হয়ে গেছে, কম অক্সিজেন, বেশী গরমে বেঁচে থাকার, মানুষের শরীর সব কিছুই সয়ে নিতে পারে. তিনি কৌতুক করে বলেছেন – "আমরা পরে সবাই গর্ব করব যে, সবচেয়ে রেকর্ড গরমের সময় সাক্ষী ছিলাম. রাশিয়া এত গরম কখনও দেখে নি".