তথ্য সম্প্রচারের দ্রুত উন্নতি সাইবার সন্ত্রাসের উদ্ভবকে সম্ভব করেছে. বর্তমানের তথ্য প্রযুক্তি নতুন ধরনের অপরাধের জন্ম দিয়েছে, সাইবার অপরাধ, যেখানে লক্ষ্য পূরণের জন্য বিশ্ব জোড়া কম্পিউটারের জালকে ব্যবহার করছে অপরাধীরা.

    নব্বই এর দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বের বহু দেশের জন্য সাইবার সন্ত্রাস বাস্তব ঘটনাতে পরিনত হয়েছে, যখন অপরাধীরা শুধুমাত্র অন্যের মস্তিষ্ক প্রসূত সম্পত্তিকে শুধু চুরি করছে না, সরকারি ও বেসরকারি বহু বিষয়ই এদের অপরাধের নতুন ঠিকানা হয়েছে. মানুষের জীবন বিপন্ন হতে চলেছে. উদাহরণের জন্য দূরে যাওয়ার দরকার নেই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ বি আই এক খুবই মূল্যবান সাক্ষীর জীবন রক্ষার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করেছিল তার হাসপাতালের আই সি ইউ ইউনিটে. কিন্তু অপরাধীরা সেই হাসপাতালের কম্পিউটার ব্যবস্থার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পার হয়ে, তা দখল করে এক হ্যাকার খুনিকে দিয়ে সেই লোকের হৃদযন্ত্র ঠিক রাখার মেশিন বিকল করে দিয়ে তাকে মেরে ফেলেছিল.   

জানা আছে যে, চীন বিশ্বের একটি বৃহত্তম ইন্টারনেট এলাকা, কিন্তু তার একটা কুখ্যাতি আছে সাইবার অপরাধের স্বর্গ বলে. চীনের বিজ্ঞানের ক্ষমতা এতদূর বেড়ে গিয়েছে যে, আমেরিকার লোকেরা মনে করেছে যে, তাদের দেশে সম্ভাব্য শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার মতো বা কোন দিক থেকে আক্রমণ আসতে পারে তা অনুমান করার মতো ক্ষমতা কমে গিয়েছে. রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা যে দেশের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিশেষ দপ্তর তৈরী করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তার পিছনে চীন থেকে আসা আক্রমণেরও ভূমিকা রয়েছে. মস্কোর "হ্যাকার" নামের সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নিকিতা কিসলিতসিন মন্তব্য করে বলেছেন:   

"শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, অন্যান্য দেশ গুলিও অংশতঃ চীন, দেশের প্রতিরক্ষা বিভাগে সাইবার দপ্তর তৈরী করেছে, যারা বিশেষ ধরনের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে কাজ করতে সক্ষম. কিছু তথ্য অনুযায়ী চীনের এই দপ্তরের কর্মী সংখ্যা বর্তমানে দুই লক্ষ ছাড়িয়েছে".     

সাইবার দপ্তরের এত বৃদ্ধি দেখে বলা যেতে পারে যে, এক ধরনের অদৃশ্য যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে, তা দেখা না গেলেও খুবই বাস্তব এবং নৃশংস. শেষ অবধি তা এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে যে, ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বিশ্ব জোড়া তথ্যের চলাচলের জাল, আর তা কেউই চায় না. এই ঘটনাকে প্রতিরোধ করতে হলে আন্তর্জাতিক ভাবে আইন গ্রহণ করার প্রয়োজন, যা ইন্টারনেটে কাজ কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করবে. বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশেই সাইবার অপরাধের জন্য বিচার পতিরা তাদের দেশের আইনের উপর নির্ভর করে শাস্তি দিচ্ছেন, কিন্তু এই সব আইন তার সম্পূর্ণ রূপ পাওয়া থেকে বহু দূরে এবং তা দিয়ে সার্বজনীন ভাবে গ্রহণ যোগ্য কোন সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না, তার ওপরে সাইবার অপরাধীরা তাদের ফাঁদ পাতছে, সেই সমস্ত জায়গায়, যেখানে কোন আইন নেই. অবশ্যই এই আইন দিয়ে চীনের বা অন্য দেশের বিশেষ দপ্তর দের আটকানো যাবে না, তার ওপরে যেখানে তার পিছনে সরকারই রয়েছে. 

এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথম পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে, রাশিয়া এর আগে বহুবার বলেছে সাইবার ক্ষেত্রে আচরণ করার আন্তর্জাতিক ভাবে সার্বজনীন গ্রহণ যোগ্য নিয়ম তৈরী করার কথা. কিছু দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান কিট আলেকজান্ডার বলেছেন যে, আমেরিকার পক্ষ থেকে রাশিয়ার সহকর্মীদের প্রস্তাব শোনা হয়েছে ও তারা আলোচনা শুরু করতে তৈরী. মূল কথা হল রাশিয়া প্রস্তাব করেছে আন্তর্জাতিক ভাবে সাইবার অস্ত্র কমানোর জন্য চুক্তির কথা. আর তা যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী কম্পিউটার নির্ভর দেশের মনে ধরেছে, তাকে শুধু স্বাগতমই জানানো যেতে পারে.