রাশিয়া ও পশ্চিম ইউরোপে অস্বাভাবিক গরম, দক্ষিণ আমেরিকায় অসম্ভব ঠাণ্ডা, চীনে প্রবল বন্যা, আর্কটিক অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া – এবারের গরমে প্রকৃতি মানব সমাজের সামনে কম অস্বাভাবিক বিস্ময়ের ঘটনা উপস্থিত করে নি. কিন্তু এখনও আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা তর্ক করে চলেছেন, এই ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা কতখানি দীর্ঘ সময় জুড়ে চলবে, এই রকম সময়েই মনে আসে ঘুমন্ত ভবিষ্যত বক্তা এডগার কেসি ও তার উক্তি গুলি. যিনি গত শতকের শুরুতে সেই সমস্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা বর্ণনা করেছিলেন, আজ যা দুনিয়ার সামনে সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে.    আমেরিকার এডগার কেসি তাঁর জীবত্কালেই নিজের ভবিষ্যত বাণীর জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন, যেগুলি তিনি ঘুমের মত এক রকমের ধ্যান মগ্ন অবস্থায় করতেন. তাঁর ভবিষ্যত বাণীর একটি ছিল বিশ্বের রূপের সম্পূর্ণ পরিবর্তন. সেখানে অংশতঃ বলা হয়েছিল যে, জাপান সমুদ্রের নীচে ডুবে যাবে, দক্ষিণ আমেরিকা পুরোটাই কেঁপে উঠবে, আগ্নেয় গিরি গুলির সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে, আর বিশ্বের অক্ষ সরে যাবে, আর ঠাণ্ডা জায়গা গুলিতে বিষুব রেখার কাছের জায়গার মত আবহাওয়া হবে.    যতই খারাপ হোক, কেসি যে সময়ে বেঁচে ছিলেন, তখনকার লোকেরা তাঁর সমসাময়িক ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হতে পেরেছিলেন, আর আমরা এখন তাঁর আবহাওয়া সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী নিজেরাই টের পাচ্ছি.    বিশ্ব বন্য প্রাণী সংস্থার আবহাওয়া ও শক্তি প্রোগ্রামের প্রধান আলেক্সেই ককোরিন অবশ্য প্রাকৃতিক পরিবর্তনকে বিশ্বের চৌম্বক অক্ষ পরিবর্তনের চেয়েও বেশী করে যোগ করেছেন বর্তমানে মানুষের চুড়ান্ত সক্রিয়তার সঙ্গে.     ককোরিন বলেছেন: "সূর্য, পৃথিবীর আবর্তন, পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব – এই সবই খুব গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তার ফল দেখা যায় প্রতি কয়েক সহস্র বছরের তুলনায়. আর আমরা যদি এই দশকের কথা বিচার করি, সেখানে প্রধান কারণ হল মানুষের কাজের ফলে প্রকৃতির পরিবর্তন. তার মধ্যে প্রথম হল মানুষ গ্রীন হাউস এফেক্ট বাড়িয়েছে. অবশ্যই এর অভিঘাত আবহাওয়াতে সবসময়েই ছিল, তা না হলে বিশ্বে জীবনের উদ্ভবই হতে পারত না. আমাদের গড় তাপমাত্রা হত মাইনাস উনিশ ডিগ্রী – আর আজ গড় প্লাস আঠেরো ডিগ্রী. মানুষ গ্রীন হাউস এফেক্ট খুব সামান্যই বাড়াতে পেরেছে, মাত্র দুই তিন শতাংশ, তবুও এই সামান্য যোগ টুকুই যথেষ্ট হয়েছে আবহাওয়ার স্থিতিশীলতায় দোলা দিতে. তার ফলেই আজ আমরা এই সমস্ত অস্বাভাবিক ঘটনার ওঠা পড়া দেখছি. কোথাও ঠাণ্ডা, কোথাও গরম, কোথাও খরা, কোথাও বন্যা. আর এটা গড় বৃষ্টিপাত বা গড় তাপমাত্রায় কোন হেরফের না হওয়া স্বত্ত্বেও".    আবহাওয়ার ভারসাম্যে দোলা দিয়ে ফেলে মানব সমাজের টনক নড়েছে. কিন্তু অনেক কিছুই আর ফিরিয়ে আনা যাবে না. ম্যানগ্রোভ অরণ্য, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, উরাল পর্বতমালার উপরের উদ্ভিদ জগত – আমরা এখনও সেগুলি দেখছি, কিন্তু আমাদের বংশধরে রা বোধহয় পাবে না. আমাদের সমস্ত চেষ্টা স্বত্ত্বেও বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেছেন যে, এই সমস্ত জীবনের জন্য প্রাকৃতিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছে যে, তাদের আর বাঁচানো যাবে না. শ্বেত ভল্লুকের অবস্থা একটু ভাল, প্রায় একশ বছর আগে একবার এরা বরফ গলে যাওয়া সহ্য করেছিল, কিন্তু আর্কটিক অঞ্চল ছেড়ে কোথাও যেতে চায় নি, আজ আবার তা হতে চলেছে, কিন্তু নতুন জায়গা, আবহাওয়া, খাবার এই সব না খুঁজে ভল্লুক চলেছে গ্রামে, মানুষের কাছে খাবারের সন্ধানে. তাতে ভাল কিছু হচ্ছে না. একদিকে মানুষ নিজেকে বন্দুক দিয়ে রক্ষা করছে, আর অন্য দিকে ভল্লুক অভিযোজন ক্ষমতা হারাচ্ছে.

    এডগার কেসি অন্যান্য ভবিষ্যত বক্তার মতই বিশেষ করে বলেছিলেন যে, ভবিষ্যতের কথা কোন পাথরে খোদাই করে লেখা নেই, এখন কিছু একটা পরিবর্তন করলে আমরা হয়ত ভবিষ্যতের অনেক ঘটনার প্রবাহকে বদলে দিতে পারব. এখন তাই শুধু আসা করা যাক.