চারিদিকেই স্থল বন্দী আফগানিস্থানের সমুদ্রের রাস্তা খুলে গিয়েছে. সম্ভব হয়েছে ইসলামাবাদে পাকিস্থান ও আফগানিস্থানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রানজিট ব্যবসা চুক্তির জন্য. এই চুক্তির ফলে পাকিস্থান আফগানিস্থানের জিনিসপত্রের কেনা বেচা ও তৃতীয় দেশে রপ্তানীর জন্য দেশের ভিতরে ১৫টি রাস্তা ও বন্দর গুলি খুলে দিয়েছে.    এখন প্রশ্ন হল, পাকিস্থানের ভিতর দিয়ে এত পরিমানে কি এমন জিনিস আফগানিস্থান বিদেশে রপ্তানী করবে? রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী ভ্লাদিমির সোতনিকোভ এই প্রসঙ্গে কি ভাবছেন তা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন:    "বোঝাই যাচ্ছে এটা কোন বাণিজ্যিক জিনিসপত্র নয়, কারণ আফগানিস্থানের সমস্ত শিল্পই গৃহযুদ্ধের বছর গুলিতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে. সুতরাং মনে হয় না যে, এগুলি কোন রকমের সাধারণ ভাবে চলে আসা আফগানিস্থানের জিনিস হবে – যেমন, শুকনো ফল, জলপাই অথবা কুটির শিল্প জাত কোন জিনিস. তা রপ্তানী করার জন্য এত রাস্তা আর বন্দরের দরকার হয় না. তাহলে বিদেশে রপ্তানীর জন্য জিনিস গুলি কি হবে? উত্তর  - শুধু একটাই হতে পারে: কাঁচামাল. বিগত কিছু সময় ধরে আফগানিস্থানে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুব আলোচনা চলছে – আফগানিস্থানের জমিতে কত খনিজ তেল, তামা, ইউরেনিয়াম, কোবাল্ট, লোহা ও অন্যান্য ব্যবহার যোগ্য খনিজ পদার্থ রয়েছে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, আফগানিস্থানের সমস্ত সম্পত্তির মোট দাম নিয়ে যতই বিতর্ক হোক – তার পরিমান বিশাল".    আমেরিকার লোকেরা বলেছে আফগানিস্থানের মোট খনিজের মূল্য ট্রিলিয়ন ডলার হবে, আর আফগানিরা মনে করে এই মূল্যায়ণ খুবই কমিয়ে করা হয়েছে, দশ ভাগের ও বেশী দাম কমিয়ে বলা হচ্ছে. আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে আঞ্চলিক ভাবে ভারত ও চীন আগ্রহ দেখিয়েছে, কিন্তু এই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি সবচেয়ে বেশী আগ্রহী বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই রেডিও রাশিয়া মনে করে. এখানে খেয়াল করা হয়েছে যে, আফগানিস্থানের খনিজ প্রাচুর্যে ভরা অঞ্চল থেকে অন্যান্য ন্যাটো জোটের সেনা দল সরিয়ে মার্কিন সেনারা ঘাঁটি তৈরী করছে. বিশেষত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ অঞ্চলে এটা ঘটছে বলে রেডিও রাশিয়ার পর্যবেক্ষক জানেন. সুতরাং তিনি মনে করেছেন আফগানিস্থানের প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে একটা লড়াই ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে, বিশেষত যখন পাকিস্থান ও আফগানিস্থানের মধ্যে ট্রানজিট ব্যবসা চুক্তির সময়ে হিলারি ক্লিন্টনের উপস্থিতি তার বহু অভিজ্ঞ চোখ এড়ায় নি. তিনি জানেন যে, এই দলিল ওয়াশিংটনের সাহায্যেই তৈরী করা হয়েছে. সুতরাং তিনি সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই "আফগান কেকের" সবচেয়ে বড় ভাগ নেওয়ার জন্য ঠিক করেছে.     সম্ভবতঃ এই চুক্তি ভবিষ্যতের কথা ভেবে করা হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষ করে দরকার যে, আফগানিস্থানের প্রাকৃতিক সম্পদ যেন বাধ্য পাকিস্থানের মধ্য দিয়েই যায়, ইরান (যারা কিনা তাদের বিরুদ্ধে) যেন কিছু না পায়. কিন্তু যে কোন ভাবেই হোক – বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন, আফগানিস্থানের প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রী করা সম্ভব হলে সেই দেশের বোধহয় লাভই হবে. আঞ্চলিক ভাবে সবচেয়ে হত দরিদ্র দেশের হয়ত কিছু সুদিন ফিরবে. প্রতি নাগরিকের নামে কিছু বেশী অর্থ হয়ত উপকারেই লাগবে. এত অবধি ঠিক, কিন্তু বিনা কারণে অনুপ্রবেশ করা ও ততটাই বিনা ব্যাখ্যায় দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া রাশিয়ার সাংবাদিকেরা (সবাই অবশ্যই নয়) মনে করেন যে, আফগানিস্থানের অবস্থা নাইজেরিয়ার মত হবে. নাইজেরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা অস্থিতিশীল, এই দেশ যদিও বিশ্বের প্রথম দশটি খনিজ তেল রপ্তানী কারক দেশের একটি তবুও এই দেশের হাল খারাপ, আর তারা বাধ্য হয় দেশের প্রয়োজনের শতকরা ৮৫ ভাগ মোটর গাড়ীর তেল সেই সমস্ত দেশের কোম্পানীদের কাছ থেকে কিনতে, যারা এই দেশেরই খনিজ তেল তুলে নিয়ে যাচ্ছে. এখানেও বর্তমান রাশিয়ার তেলের দামের বিষয়টা পর্যবেক্ষকের নজর এড়িয়ে গিয়েছে. সুতরাং পাঠক নিজেই বুঝে নিন.