চার বছর পরে আফগানিস্থান কি নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারবে: সন্ত্রাসবাদী হামলার আশংকা, সম্পূর্ণ ভাবে নিঃস্ব জনতা ও বেকারত্ব, মাদক জনিত অপরাধের ক্রমবর্ধমানতা, বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে সংঘর্ষ, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চরমপন্থা? এই প্রশ্নগুলির এখনও উত্তর নেই.    সত্তরটি দেশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার উপস্থিতিতে আফগানিস্থানের কাবুলে এক বিশ্ব সম্মেলনে এই দেশের প্রধান সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে. এই সম্মেলনে আলোচিত হয়েছে দেশের সমস্ত ঘটনার দায়িত্ব এই দেশের সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ও আফগান সরকারের দেশের নিরাপত্তা ও আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা. সম্মেলনের শেষে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, ২০১৪ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত রকমের বাহিনী আফগানিস্থানের মাটিতে শান্তি রক্ষার জন্য কাজ করবে. কিন্তু আজ একটা জিনিসই স্পষ্ট আফগানিস্থানের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমাজের সাহায্য ছাড়া আরও বহুদিন চলবেই না. আর যদিও নিজের রিপোর্টে আফগানিস্থানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই দেশের উন্নতির জন্য কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেছেন, যা আফগানি জনতার নিজের হাতে দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে, তাও সে গুলি এখন খুবই অলৌকিক মনে হচ্ছে.    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এবং গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন আফগান সরকারের পরিকল্পনাকে ইতিবাচক ভাবেই মূল্যায়ণ করেছেন. তাঁরা এই অঞ্চলে ন্যাটোর সেনা বাহিনীর কাজ কর্মকে খুবই উচ্চ মূল্য দিতে ভোলেন নি. প্রসঙ্গতঃ এই ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, তাদের প্রধান কাজ – আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীকে তৈরী করা. কিন্তু আফগানিস্থানে সোভিয়েত সেনা বাহিনীর উপস্থিতি উল্টো বিষয়ই প্রমাণ করে. যখনি সোভিয়েত সামরিক বাহিনী ও বিশেষজ্ঞরা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে এসেছিল (তারাও সেখানে আফগানি দের প্রশিক্ষণের কাজ করেছিল), তখনকার সরকারের তার পরেই পতন হয়েছিল. তা স্বত্ত্বেও এই বারও জোটের নেতৃত্ব এই দেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে চান, যদিও সম্পূর্ণ ভাবে নয়. ন্যাটোর সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফন রাসমুসেন ঘোষণা করেছেন যে, জোটের শক্তি কোনদিনই চরমপন্থীদের আফগান সরকারকে পতন হতে দেবে না.     তাও আর্থ সামাজিক উন্নতি ও স্থানীয় সরকারের শক্ত হওয়ার উপরেই দেশের স্থিতিশীলতার ভিত্তি হওয়া উচিত্. আর বিশ্ব সমাজ, নিজের পক্ষ থেকে, আফগানিস্থানের সরকারকে প্রয়োজনীয় সব রকমের সাহায্য করতে প্রস্তুত. উদাহরণ হিসাবে এই রকমের একটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ হল রাশিয়ার পক্ষ থেকে আফগানিস্থানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ঋণ মকুব করে দেওয়া.    এই বিষয়ে আফগানিস্থানের পাকটিকা প্রদেশের সেনেটর জুমেদ্দিন জ্ঞানবাল বলেছেন:    "রাশিয়া এক সময়ে আফগানিস্তানে বহু রকমের শিল্প তৈরী করে দিয়েছিল, আজ তা আর চালু নেই. এমন কি এই গুলি আংশিক ভাবে চালু হলেও অর্থনীতির হাল ফেরা শুরু হতে পারে. রাশিয়ার কোম্পানী গুলি বহু ক্ষেত্রেই অগ্রগামী, আর যেহেতু রাশিয়ার লোকেরা আফগানিস্থানের পরিস্থিতি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল, তারা নতুন ভাবে এখন আফগানিস্থানের জনগনকে তাদের অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের জন্য সাহায্য করলে করতেও পারে".    সোচী শহরে রাশিয়া, আফগানিস্থান, পাকিস্থান ও তাজিকিস্থানের নেতাদের আসন্ন বৈঠকে আঞ্চলিক ভাবে সহযোগিতার কথা আলোচিত হবে, অংশতঃ সেখানে সবচেয়ে বেদনা দায়ক প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হবে, আফগানিস্তানের মাদক ব্যবসা ও পাচার. এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে সম্মেলনে তাজিকিস্থানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হামরাহন জারিফি বক্তৃতা দিয়েছেন. তিনি ঘোষণা করেছেন যে এই দেশের চারপাশ ঘিরে একটি নিরাপত্তা বেড়াজাল না করলে সারা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া এই মারণ বিষের পথ আটকানো যাবে না.