উত্তর ককেশাসের কাবার্দিনো- বালকারিয়া অঞ্চলের বাকসান নদীর উপরের জল বিদ্যুত কেন্দ্রের মেশিন ঘরে বিস্ফোরণের ফলে তিনটি হাইড্রো জেনারেটরের মধ্যে দুটি বিকল হয়ে গিয়েছে. কেন্দ্রের দুইজন নিরাপত্তা রক্ষা কর্মী নিহত এবং কয়েকজন কর্মীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে. স্বরাষ্ট্র দপ্তর এই ঘটনাকে সন্ত্রাস বলে অভিহিত করেছে.    বুধবার ভোর রাতে বাকসান জল বিদ্যুত কেন্দ্রে একদল সশস্ত্র অপরাধী চড়াও হয়েছিল, তারা দুইজন কর্মীকে হত্যা করে মেশিন ঘরে ঢুকে কয়েকটি বিস্ফোরক পাতে. তারপর এই ঘরে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়, আগুণ লাগে. কর্মীরা সময় মতো জলের স্রোত বন্ধ করতে পারায় কেন্দ্র জলে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়. রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের বিপর্যয় নিরসন কেন্দ্রের তথ্য দপ্তরের প্রধান ওলেগ গ্রেকভ রেডিও রাশিয়াকে এই সম্বন্ধে খবর দিয়ে বলেছেন:    "প্রায় ভোর পাঁচটার সময়ে মেসিন ঘরে আগুণ লাগে. ১৬ মেগাওয়াট শক্তি সম্পন্ন দুটি জেনারেটর বিকল হয়ে যায়, তৃতীয় টি রক্ষা পেয়েছে. গ্রাহকদের বিদ্যুত সরবরাহ ব্যাহত হয় নি. ইঞ্জিনিয়ার ও বোমা বিশেষজ্ঞরা কাজ শেষ করার পর বিপর্যয় নিরসন কর্মীদের আগুণ নিভাতে দেওয়া হয়. বর্তমানে আগুণ সম্পূর্ণ ভাবে নিভে গিয়েছে, আঞ্চলিক জনগন ও জায়গার কোন বিপদ আশংকা করা হচ্ছে না".    কেন্দ্রের কর্মী, দমকল কর্মী, ত্রাণ কারী – সকলের একসাথে সুষ্ঠ ভাবে কাজের ফলে জল বিদ্যুত কেন্দ্রের কাজ চালু রাখা সম্ভব হয়েছে. সন্ত্রাসবাদীদের জল বিদ্যুত কেন্দ্র আক্রমণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়, ২০০১ সালে রাশিয়ার বিশেষ গুপ্তচর বাহিনী দেশের দক্ষিণে ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের ভোলগা নদীর উপরে জল বিদ্যুত কেন্দ্রে চিচনিয়ার সন্ত্রাসবাদীদের পরিকল্পিত বিস্ফোরণ বন্ধ করতে সমর্থ হয়েছিল. ২০০৬ সালে রস্তভের জল বিদ্যুত কেন্দ্রে, সারাতভ অঞ্চলে ও দাগেস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলা এড়ানো সম্ভব হয়েছিল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মীদের সক্রিয়তায়. এর পরে রাশিয়ার জল বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে নিরাপত্তা কড়া করা হয়েছিল এবং কর্মীদের একাধিকবার সন্ত্রাস প্রতিরোধের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল.    কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য যে প্রশাসনের তরফে এত রকমের ব্যবস্থা স্বত্ত্বেও সন্ত্রাসের আশংকা থেকেই যাচ্ছে. কারণ সন্ত্রাসবাদীরা কোন স্বাধীনতা সংগ্রামী নয় আর কোথায় কখন তারা আক্রমণ করবে, সে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ার বা লন্ডন বা মস্কোর মেট্রো, না কোন বিদ্যুত কেন্দ্র তা অনুমান করা খুবই কঠিন, সন্ত্রাসবাদী সমস্যা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ রাশিয়া বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের ইগর খখলোভ বলেছেন:    "সন্ত্রাস – একটি সার্বজনিক অস্ত্র, অর্থাত্ সন্ত্রাসবাদ – এটা কোন আদর্শ বা দর্শন নয়, এটা এক ধনের উপায় মাত্র. আর সন্ত্রাস বাদী কাজ কর্ম সাধারণতঃ তারাই করে থাকে, যারা বেশীর ভাগ লোকের উপরে তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চায় জোর করে হিংসার মাধ্যমে. এর জন্য দরকার হল  - সন্ত্রাসের পরিকল্পনা যারা করে, তারা যেন মানুষের জীবনের মূল্য না ধরে. উত্তর ককেশাসের জল বিদ্যুত কেন্দ্রের বিস্ফোরণের পরিস্থিতির পিছনে যারা রয়েছে, তা সম্ভবতঃ আন্তর্জাতিক ভাবে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠা "আল কায়দা" দলের কর্মীরা".     জাতীয় সন্ত্রাস বিরোধী পরিষদের তথ্য অনুযায়ী বাকসান জল বিদ্যুত কেন্দ্রে বিস্ফোরণের পিছনে যে সব লোকেরা রয়েছে তাদের দলকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, বর্তমানে অনুসন্ধান এবং ধর পাকড়ের কাজ চলছে. সাধারন মানুষকে আবারও বলা হয়েছে বিশেষ করে খেয়াল রাখতে.