রাশিয়া মহাকাশের আত্তীকরণে নিজের অগ্রস্থান শুধু ফিরিয়ে আনতেই চায় না, এ ক্ষেত্রে নিজের স্থিতি সুদৃঢ় করতেও চায়, অন্যান্য দেশকে ছাড়িয়ে গিয়ে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যে আলোচনা-বৈঠক পরিচালনা করেন এ ছিল তার মর্ম. ভ্লাদিমির পুতিন পরিদর্শন করেন মস্কো উপকন্ঠের করোলিয়োভ শহরে এনার্গিয়া (এনার্জি) নামে রকেট-মহাকাশ কর্পোরেশনের উত্পাদন ক্ষেত্র.   

   বর্তমানে এনার্গিয়া রকেট-মহাকাশ কর্পোরেশন- রাশিয়ায় মহাকাশ প্রযুক্তির মুখ্য উত্পাদক. ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সাক্ষাতে এ কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও মুখ্য ডিজাইনার আনাতোলি লোপোতা বলেন যে, ২০১৫ সাল নাগাদ রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা শুরু করবেন এবং তারপর একসারি নতুন মহাকাশযান উত্পাদন শুরু করবেন, যা বর্তমানের সোয়ুজপ্রোগ্রেস মহাকাশযানের স্থান নেবে. এই সরঞ্জামগুলি আক্ষরিক ও রূপক অর্থে রাশিয়াকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে. বিশেষ করে কথা হচ্ছে মঙ্গলগ্রহে যাত্রার. তাছাড়া, ২০১৫ সাল পর্যন্ত রকেট-মহাকাশ শিল্প বিকাশের স্ট্র্যাটেজি বিশ্বের মহাকাশ সার্ভিসের বাজারে রাশিয়ার অন্ততপক্ষে ১৫ শতাংশ ভাগ সুনিশ্চিত করবে. এ সম্বন্ধে বলেন রসকসমস সংস্থার অধিকর্তা আনাতোলি পের্মিনোভ. আর এজন্য রকেট-মহাকাশ শাখার আধুনিকীকরণ প্রয়োজন. রাশিয়ার সরকারেও তা বোঝে, কারণ মন্ত্রিপরিষদ যে বিশেষ কর্মসূচি প্রস্তুত করেছে তা শুধু শুধুই নয়, বলেন ভ্লাদিমির পুতিনঃ

    প্রত্যক্ষ যে, শুধু প্রাকৌশলিক পুনর্সজ্জার কর্তব্য মীমাংসা করেই রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থের সাথে সুসঙ্গত নবায়নের উত্পাদন গড়ে তোলা যেতে পারে. মহাকাশ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির বাস্তবায়ন সুনিশ্চিতকরণ জাতীয় নিরাপত্তার সাথেও জড়িত. রকেট-মহাকাশ ক্ষেত্র তার উদ্ভবের সময় থেকেই রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাধান্য ছিল. এবং তার প্রতি ব্যবহার সর্বদা বিশেষ রুপের ছিল এবং এখনও রয়েছে.

   প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই বিশেষ ব্যবহারের প্রমাণ দেয় এ ঘটনা যে, সঙ্কটের কঠিন বছরগুলিতেও রাষ্ট্র মহাকাশের কাজের জন্য অর্থ দিয়েছে এবং অতিরিক্ত অর্থও বরাদ্দ করেছে. আর অর্জিত মানে থেমে থাকবে না রাশিয়া. আগামী বছরে বাজেট থেকে এ ক্ষেত্রের জন্য ৬৭০০ কোটি রুবল বরাদ্দ করা হবে, এবং আরও প্রায় ২৮০০ কোটি বরাদ্দ করা হবে গ্লোনাস ব্যবস্থার গঠন ও বিকাশের জন্য. তাছাড়া, সরকার ভস্তোচনি নামে আধুনিক মহাকাশ কেন্দ্রের নির্মাণের জন্য অর্থ খরচ করছে, বলেন ভ্লাদিমির পুতিনঃ

   খুবই আশা করি যে, ভস্তোচনি হবে প্রথম জাতীয় কসমোড্রোম, নাগরিক উদ্দেশ্যের. আর তা মহাকাশে কাজকর্মের জন্য রাশিয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করবে. আপনাদের একটি প্রীতিকর খবর জানাতে চাইঃ গতকাল রাতে সরকার পূর্ণপরিসরের ভস্তোচনি কসমোড্রোমের নির্মাণ শুরু করার জন্য আগামী তিন বছরে ২৪৭০ কোটি রুবল বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে.  

   প্রধানমন্ত্রী তাছাড়া, এনার্গিয়া রকেট-মহাকাশ কর্পোরেশনের বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব করেন অন্যান্য জাতীয় মহাকাশ এজেন্সির প্রতিনিধিদের সাথে সহযোগিতা করার, সেই সঙ্গে ইউরোপীয়, জাপানী, চীনা ও মার্কিনী নাসা এজেন্সির প্রতিনিধিদের সাথে. এখনই একসারি মিলিত কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং তা পরিচালিত হচ্ছে. সেই সঙ্গে সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাত্রার জন্য নতুন কর্মীদলকেও প্রস্তুত করা হচ্ছে. নিকট ভবিষ্যতে ফরাসী গায়ানার কসমোড্রোম থেকে রাশিয়ার মহাকাশযানের যাত্রা শুরু হবে. রাশিয়া কক্ষপথে একসারি বিদেশী স্পুতনিক স্থাপন করতে চায়, আর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের জন্য আরও একটি ল্যাবরেটারি মোডুল পাঠাতে চায়. এ সম্বন্ধে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন শুধু সরকারী বৈঠকেই নয়, মহাকাশচারীদের সাথে সাক্ষাতেও, বিশেষ করে এ দেশের এবং মার্কিনী মহাকাশচারীদের সাথে সাক্ষাতে, যাঁরা দুই ভিন্ন ভিন্ন মহাকাশযানে যাত্রা করেছিলেন এবং কক্ষপথে মিলিত হয়েছিলেন. ৩৫ বছর আগে কক্ষপথে সংযুক্ত হয়েছিল সোভিয়েত মহাকাশযান "সোয়ুজ" এবং মার্কিনী "অ্যাপোলো". রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, সেই সময়েই আন্তর্জাতিক মহাকাশ কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল. অ্যাপোলোর কম্যান্ডার টমাস স্ট্যাফোর্ড ভ্লাদিমির পুতিনকে স্মৃতি পদক উপহার দেন. আর রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সমস্ত মহাকাশচারীকে ঘড়ি উপহার দেন এবং স্মৃতি হিসেবে তাঁদের সাথে ফোটো তোলান.