১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক গেমসের ১৯শে জুলাই ৩০ বছর হল. আফগানিস্থানে সোভিয়েত সেনা বাহিনীর অনুপ্রবেশের প্রতিবাদে বেশ কিছু দেশ এই অলিম্পিক বয়কট করেছিল, তাই তা স্মরণীয় হয়ে আছে. এটাই প্রথমবার যখন খেলাধূলা রাজনীতির সঙ্গে এত বেশী জড়িয়ে গিয়েছিল.    ১৯৮০ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির অন্তর্ভুক্ত ১৪৪ টি দেশের মধ্যে ৮১টি দেশের প্রতিনিধিরাই মস্কোতে এসেছিলেন. সম্পূর্ণ ভাবে বয়কট করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিম জার্মানী, কানাডা, জাপান এবং চীন. গ্রেট ব্রিটেন, ইতালি, অস্ট্রিয়ার সরকার দেশের খেলোয়াড়দের সোভিয়েত দেশে যেতে না করেছিল. রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপ প্রধান আলেক্সেই মাকারকিন এই প্রসঙ্গে বলেছেন:    "এই বিবাদ – একদিকে বিশাল আনন্দ ময় উত্সব, অন্যদিকে রাজনৈতিক খেলা, আর যদি প্রশ্ন করা হয় যে, সেই অলিম্পিক গেমস কতটা প্রতিনিধিত্ব মূলক হতে পেরেছে, তবে বলতে হবে যে, প্রতিযোগিতার ফল মূল্যায়নের সময়ে এইটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন. আর খুবই ভাল যে, ঠাণ্ডা যুদ্ধের শেষে এই বিবাদের নিরসন সম্ভব হয়েছে, ফলে অলিম্পিক গেমসের আদর্শেরই জয় হয়েছে".    মস্কো অলিম্পিক গেমসের খেলাধূলার অংশে বড় কোন উত্তেজনার কারণ ছিল না, সোভিয়েত খেলোয়াড়েরা রেকর্ড সংখ্যক পদক জিতে প্রথম হয়েছিল – সর্বমোট ১৯৭টি পদক, তার মধ্যে ৮০ টি স্বর্ণ পদক, ৬৯টি রৌপ্য পদক ও ৪৬টি ব্রোঞ্জ পদক. সম্ভবতঃ এই রকমের সাফল্য বোধহয় আর কখনও হবে না. কিন্তু এটাই মস্কো অলিম্পিককে মনে রাখার একমাত্র কারণ ময়, রাশিয়ার লোকসভার সদস্য সের্গেই মারকোভ সেই দিন গুলি মনে করে বলেছেন:    "এই অলিম্পিক গেমস ছিল এক বিরাট সামাজিক ঘটনা, কারণ এই দিন গুলিতে মস্কো অন্য দেশ গুলির বহু সহস্র লক্ষ লোকের জন্য খুলে গিয়েছিল. খুবই জোরদার ভাবে মেলামেশা হয়েছিল, যদিও নিয়ন্ত্রণের কঠোরতা কম ছিল না. আমি নিজেও এই অলিম্পিক গেমসে অংশ নিয়েছিলাম. খেলোয়াড় হিসাবে নয়, দর্শক হিসাবে. আমি তখন সদ্য সামরিক বাহিনীতে কাজ করে ফিরে ছিলাম, আমার জন্য এটা ছিল রীতিমত চমকে যাওয়ার মত বিষয়. খুবই ভাল করে মনে পড়ে অ্যাথলেটিকস্ প্রতিযোগিতা, আমি তখন একটানা আট ঘন্টা ধরে দেখেছিলাম মাঠে বসে".     ১৯৮০ সালের ৩রা আগষ্ট ২২তম অলিম্পিক গেমসের আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ ঘোষণা করা হয়েছিল, অনুষ্ঠানের শেষে লেভ লেশেঙ্কো ও তাতিয়ানা আন্তসিফেরোভা দা স্ভিদানিয়া মস্কভা (বিদায় মস্কো) গান গেয়ে শেষ করেন. তাঁদের গানের দ্বিতীয় পংক্তি হওয়ার পরেই হাতে নানা রঙের বেলুন ধরে এক বিরাট পুতুল ভল্লুক (মিশা – মস্কো অলিম্পিকের প্রতীক) আকাশে হাত নাড়তে উড়ে গিয়েছিল আকাশে, অনেক লোকই তখন চোখের জল থামতে পারেন নি.    তার বছর পরে রাশিয়া আবার অলিম্পিক গেমসের গৃহ কর্তা হতে চলেছে. এবারে শীত অলিম্পিক গেমস. এবারের খেলার আয়োজনও যে সবচেয়ে ভাল করে করা হবে, তা নিয়ে কোন সন্দেহই নেই, কিন্তু শুধু আয়োজনের দিক থেকেই চেষ্টা করলে হবে না, তাতে পদকও জিততে হবে. রাশিয়ার দলের জন্য লক্ষ্য হবে এবারেও অন্য বারের মতই দলগত ভাবে প্রথম হওয়া. বাস্তবে দেখা গিয়েছে যে, ১৪টি স্বর্ণ পদক থাকলেই দলগত ভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায়. ২০১৪ সালের সোচী শহরের শীত অলিম্পিক – এবং ১৪ টি সবচেয়ে মূল্যবান পদক. বর্তমানে গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে এই আশা বাস্তবায়িত হতে পারে. খেলোয়াড়দের সামনে চার বছর ধরে কঠিন অনুশীলন রয়েছে.