রাশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম প্রদর্শনী ও চালু যন্ত্রের প্রদর্শনীতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে. গ্রেট ব্রিটেনে "ফার্নবরো – ২০১০" বিমান প্রদর্শনীতে এবারে রাশিয়া থেকে প্রায় সমস্ত ধরনের সামরিক ও অসামরিক বিমান বহরের দল, সাঁজোয়া গাড়ী সমেত সামরিক বাহিনীতে কাজে লাগা যন্ত্র ও মহাকাশ সংক্রান্ত প্রকল্প নিয়ে গিয়ে দেখানো হচ্ছে.    বিশ্বের নানা জায়গায় অনুষ্ঠিত হওয়া বিমান প্রদর্শনী গুলির মধ্যে ফার্নবরো একটি অন্যতম জায়গা, তার সঙ্গে তুলনীয় ফ্রান্সের "লা বুর্জ", রাশিয়ার "মাক্স" এবং আরও কয়েকটি বৃহত্ প্রদর্শনী. বৃহত্তম বিমান নির্মাণ কর্পোরেশন গুলি তাদের উপস্থিতি এই প্রদর্শনীতে মনে করে অবশ্য কর্তব্য. এই প্রদর্শনীর একটি সাড়া জাগানো প্রথম আবির্ভাব হতে চলেছে বোয়িং কর্পোরেশনের অধুনাতম সংযোজন ৭৮৭ সিরিজের "ড্রিমলাইনার" বিমান, যাতে ৩৩০ জন যাত্রী এক সাথে যেতে পারবে. প্রযুক্তির ভুল ও গঠনের সমস্যার জন্য দুই বছর ধরে উড়তে না পারলেও, এই বিমানের উত্পাদন অল্প কিছু কালের মধ্যেই ধারাবাহিক ভাবে শুরু হতে চলেছে.    রাশিয়া এখানে আধুনিক প্রযুক্তির প্রচুর জিনিস নিয়ে এসেছে, তাতে প্রমাণ হয়েছে যে, আধুনিক বিমান ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে রাশিয়া একটি অগ্রণী দেশ. জাতীয় প্রদর্শনীতে "মিগ""সুখই" বিমানের নানা ধরনের যুদ্ধ বিমান রাখা হয়েছে, তার মধ্যে প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধে একই সঙ্গে কাজে লাগানো যায়, এমন বিমান রয়েছে, বর্তমানে এই ধরনের বিমান রাশিয়ার বিমান বাহিনীতে কার্যরত. হেলিকপ্টার গুলিও আধুনিক সর্বশেষ প্রযুক্তির উদাহরণ. তা ছাড়া "আলমাজ আন্তেই" কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এখানে দেখানো হচ্ছে, রকেট ছোঁড়ার জন্য "বুক", "তোর""এস – ৩০০" ধরনের ব্যবস্থা. রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান "রসকসমস" নিয়ে এসেছে বেশ কয়েকটি আগ্রহোদ্দীপক প্রকল্প. রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর রুসলান পুখভ "রেডিও রাশিয়ার" জন্য বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া এই ধরনের প্রদর্শনীতে সবসময়েই খুব শক্তিশালী উপস্থিতি দেখিয়ে এসেছে. তিনি বলেছেন:    "সামরিক ও অসামরিক বিমান নির্মাণের ক্ষেত্রে "ফার্নবরো""লা বুর্জের" দুটি প্রদর্শনীকেই সারা বিশ্বে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে. এর আগে আমরা বহু কাল ধরে এখানে সামরিক বিমানের সমান মাপের বৈজ্ঞানিক উদাহরণ দেখিয়ে এসেছি, এবারে "সুখই" কর্পোরেশন "ফার্নবরো" প্রদর্শনীতে তাদের নতুন অসামরিক বিমান "সুখই সুপারজেট ১০০" নিয়ে এসেছে. এখানে এই বিমান উড়ান প্রদর্শনীতে অংশ নেবে. এই বছরের শেষের মধ্যে এই বিমান সেই সমস্ত বিমান পরিবহন কোম্পানী, যারা বায়না করেছিলেন, তারা পেতে শুরু করবেন. এখন অবধি যতটুকু জানাতে পারা গিয়েছে তথ্য সূত্র থেকে, একটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ তিরিশটি এই ধরনের বিমান প্রায় ১০০ কোটি ডলার দিয়ে কেনার চুক্তি করতে চলেছে. আমি মনে করছি, সম্ভবতঃ এটি ভিয়েতনাম অথবা মালয়েশিয়া".    সত্যই এই আধুনিকতম রাশিয়ার বিমানটি "ফার্নবরো – ২০১০" এর একটি স্মরণীয় ঘটনা হতে চলেছে. "সুখই সুপারজেট ১০০" তৈরী করা হয়েছে রাশিয়া ও আরও কয়েকটি বিদেশী কোম্পানী মিলে. কাছের দূরত্বের জন্য এই বিমান অন্যান্য বড় কোম্পানী উত্পাদিত সমগোত্রীয় বিমানের মধ্যে যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে. "সুখই" কোম্পানী এর মধ্যেই সুইজারল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড ও অন্যান্য দেশের কোম্পানীদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে. এই মুহূর্তে এই সব চুক্তি অনুযায়ী পাকা বায়না রয়েছে ১২০টি বিমানের. উত্পাদন হচ্ছে একই সঙ্গে ১৮টি বিমানের.    যদি সব মিলিয়ে রাশিয়ার ব্রিটেনের বিমান প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সাফল্য সম্বন্ধে মূল্যায়ন করতে হয়, তবে তা সন্দেহাতীত ভাবেই বেশী. "ফার্নবরো" প্রদর্শনীতে বিশ্বের সমস্ত প্রযুক্তির প্রদর্শনী হচ্ছে, আর রাশিয়ার প্রযুক্তি বিমান ও মহাকাশ ক্ষেত্রে সারা বিশ্বের মতই আভ্যন্তরীন বাজারের উপর শুধু নির্ভর করে না, আন্তর্জাতিক রপ্তানীর ক্ষেত্রেও করে থাকে. তাই বিশ্বের বাজারে সাফল্যের জন্য এই ধরনের প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া একটি আবশ্যিক শর্ত – সম্ভাব্য ক্রেতাদের নতুন প্রযুক্তি ও বিমান নির্মাণের আধুনিক সাফল্য দেখতে পাওয়া জরুরী. আর এই সমস্ত চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থ আরও আধুনিক প্রযুক্তি নির্মাণের জন্য প্রয়োজন. বিদেশী সহযোগীদের কাছ থেকে বর্তমানে শুধু "রসআবারোনএক্সপোর্ট" কোম্পানীই রাশিয়ার প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য ৩৮০০ কোটি ডলারের বেশী চুক্তি করেছে. রাশিয়ার বিমান প্রযুক্তি উত্পাদনের বৃহত্তম ক্রেতা দেশ গুলি হল ভারত, আলজিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং মালয়েশিয়া.