ইউরেপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ইউরোপীয় ও ইউরেশীয় এলাকার নিরাপত্তাকে একক ব্যবস্থায় যুক্ত করা উচিত. ২০-৩০শে অক্টোবর আস্তানায় অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনের আলোচ্য সূচি অনুমোদিত হয়েছে কাজাখস্তানে এ সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ৫৬টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের বেসরকারী সাক্ষাতে. আলমা-আতা থেকে আমাদের সাংবাদিকা এলিজাবেতা ইসাকোভা জানাচ্ছেন-

   গ্রীষ্মকালের এই গরম থেকে পালিয়ে তালগার পাহাড়ের পাদদেশে আক-বুলাক মাউন্টেন-স্কী স্বাস্থ্যনগরীতে সমবেত হয়ে মন্ত্রীরা এবং কূটনীতিজ্ঞরা বিশ্ব সমস্যাবলি আলোচনা করছেন. বিশেষ করে আলোচিত হয়েছে ইউরেশীয় সমন্বয় সাধনের প্রধান প্রধান মূলনীতি ও ধারা. এ সাক্ষাতের উদ্বোধন করে কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতি নুরসুলতান নজরবায়েভ বলেন যে, ইউরোপ ও এশিয়ার সমন্বয় সাধন ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে অর্থনৈতিক বিকাশে, সুদূর পরিপ্রেক্ষিতে গোটা সঙ্কট-পরবর্তী জগতে সামাজিক সচ্ছলতায়. তাঁর কথায়, ইউরোপীয় নিরাপত্তার উপলব্ধি এ মহাদেশের কাঠামোকে ছাড়িয়ে যায়, এবং এ সংস্থার ভবিষ্যত শীর্ষ সম্মেলনের কর্তব্য হবে- ইউরোপীয় ও এশীয় এলাকার নিরাপত্তাকে বিশ্বব্যাপী ব্যবস্থায় ঐক্যবদ্ধ করা.

   নজরবায়েভ ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার ফলপ্রসূতার গুরুতর পরীক্ষা বলে অভিহিত করেন কির্গিজিয়ায় সঙ্কটকে. এ রাষ্ট্রে সঙ্কটজনক পরিস্থিতি দেখিয়েছে যে, বর্তমান পরিবেশে বিশ্বব্যাপী সমস্যাবলি শুধু আগে গড়ে ওঠা সংগঠনের কাঠামোতে এবং পুরনো দৃষ্টিভঙ্গীর দ্বারা মীমাংসা করা আর সম্ভব নয়ঃ

   আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ব্যবস্থায় সঙ্কট প্রত্যক্ষ হয়ে উঠেছে. অন্য সব পরিস্থিতির মতো, এ থেকেও বের হওয়ার দুটি পথ আছেঃ আগেকার প্রথার সামান্য পরিবর্তন করে তা পুনর্স্থাপন করা অথবা নতুন প্রথা গঠন করা. প্রথম ক্ষেত্রে গৃহীত হয় সর্বদা গঠনমূলক না হলেও সক্রিয় সব ব্যবস্থা. তবে, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কোনো গতি পরিলক্ষিত হয় না. আমাদের উচিত আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনকে যথাসম্ভব ব্যবহার করা, যাতে সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকে পথ উন্মুক্ত করা যায়, যা আমরা সাধারণ মূলনীতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে ইউরো-অ্যাটলান্টিক ও ইউরেশীয় বিশ্ব জনসমাজ গঠনের জন্য করতে চাই.

   এ দিকে আরও একটি পদক্ষেপ হল- আলমা-আতায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার প্রশ্ন নিয়ে কাজ করা সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের বেসরকারী সাক্ষাত্- ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা, ইউরোসঙ্ঘ, ন্যাটো জোট, ইউরোপীয় পরিষদ, স্বাধীন রাষ্ট্রবর্গ, যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থা এবং এশিয়ায় আস্থার ব্যবস্থা সংক্রান্ত পরামর্শ-বৈঠক. মনোযোগের কেন্দ্রস্থলে ছিল- ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন চুক্তি প্রণয়নে রাশিয়ার উদ্যোগ. এটিই এক সময়ে তথাকথিত "কোর্ফু প্রক্রিয়ার" সূচনা করেছিল, যার কাঠামোতে এ বিষয়ে সংলাপ চলছে. কাজাখস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কানাত সৌদাবায়েভ বলেন, এমন সম্প্রসারিত বিন্যাসে প্রথম সাক্ষাত্- আমাদের মিলিত সাফল্য.

   রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ কাজাখস্তানের এ উদ্যোগ সমর্থন করেনঃ

   আমরা একনিষ্ঠভাবে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপের পক্ষে মত প্রকাশ করি. এ প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য- উন্মুক্ত সর্ব-আঞ্চলিক যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠন, যার কাঠামোতে ফলপ্রসূভাবে সুনিশ্চিত করা যাবে শ্রমবন্টন, এবং আন্তর্জাতিক বিধান ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকার ভিত্তিতে সমঝোতা অর্জন করা যাবে, জোর দিয়ে বলেন সের্গেই লাভরোভ.

   কাজাখস্তানে মন্ত্রীদের সাক্ষাতে প্রতিবেশী কির্গিজিয়ার সম্বন্ধে অনেক কথা বলা হয়েছিল. এ প্রজাতন্ত্রে গণভোট হওয়া, নতুন সংবিধান অনুমোদন এবং অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি অনুমোদিত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ভঙ্গুর স্থিতিশীলতা যে কোনো সময়ে লঙ্ঘিত হতে পারে. ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা সঙ্ঘর্ষ মীমাংসায় এবং বিশ্ব প্রক্রিয়া পুনর্স্থাপনে কির্গিজিয়াকে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য দিতে প্রস্তুত.