কথায় আছে পথ চলতে পারে শুধু যে পথিক. কিন্তু প্রথম কদম সব সময়েই কঠিন হয়ে থাকে. ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সোমানাহল্লি মালাইয়া কৃষ্ণ ও তাঁর পাকিস্থানী সহকর্মী শাহ মেহমুদ কুরেশীর পক্ষে ইসলামাবাদে পুনরায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পূর্ণ ভাবে শুরু করাটা খুব সহজ কাজ হয় নি. দুই পক্ষই একে অপরের দিকে এগিয়েছে. এমন কি জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অশান্ত পরিস্থিতিও এই আলোচনা শুরুতে কোন ব্যাঘাত ঘটাতে পারে নি. আলোচনার প্রাক্কালে কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গোলাগুলি চলেছে. জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে বিগত কয়েক দিনের অশান্তি ১৬ জনের মৃত্যুর কার হয়েছে. ভারতীয় সরকার এই রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে.    ওই বৈঠকের অব্যবহিত পূর্বে অবস্থা আরও সঙ্গীণ হয়ে উঠেছিল ভারতের উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী "ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস" সংবাদ পত্রে মন্তব্য করায় যে, তাঁদের দপ্তরের কাছে নতুন তথ্য প্রমাণ করে যে, পাকিস্থানের আই এস আই মুম্বাই হামলার সঙ্গে সরাসরি ভাবে যুক্ত ছিল. ইসলামাবাদ সব সময়েই এই ধরনের সিদ্ধান্তের বিরোধে দৃঢ় ভাবে মত প্রকাশ করেছে.তাও এই বৈঠক হয়েছে. তাতে বহু প্রসারিত প্রশ্নাবলী উত্থাপিত হয়েছিল. কিন্তু প্রধান ছিল দুটি, আর তা ভারত – পাকিস্থান সম্পর্কের বিষয়ে খুবই বেদনা দায়ক – ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা ও কাশ্মীর সমস্যা.    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পাকিস্থান সরকারের কাছ থেকে মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত সমস্ত লোকের শাস্তি দাবী করেছে, যার ফলে ১৬৬ জন নিহত হয়েছিল, কিন্তু পাকিস্থান এই কাজে দেরী করছে, কারণ তারা বলেছে প্রয়োজনীয় যথেষ্ট প্রমাণ নাকি তাদের কাছে নেই এবং নিজেদের তরফ থেকে কাশ্মীর থেকে ভারতীয় সেনা বাহিনী ফিরিয়ে নিয়ে যেতে দাবী করেছে, সেখানের মুসলমান বাসিন্দাদের উপর দমন বন্ধ করতে বলেছে এবং রাষ্ট্রসংঘের ১৯৪৮ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে বলেছে.দুঃখের বিষয় হল দুই পক্ষ আবারও কোন সহমতে আসতে পারে নি, কিন্তু আলোচনা বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. কারও এটা নেতিবাচক মনোভাব তৈরী করেছে. যেমন ভারতীয় সংবাদপত্র "টাইমস অফ ইন্ডিয়া" লিখেছে: ভারত ও পাকিস্থানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক ডুবেছে পারস্পরিক অভিযোগের বন্যায়, আর পাকিস্থানের "ডন" পত্রিকা উল্লেখ করেছে যে, দুই পক্ষ গ্রহণ যোগ্য ভাষা খুঁজে পায় নি. কিন্তু এই রকম অনেকেই ভাবেন না.যেমন, ভারতের পি টি আই সংস্থার সাংবাদিক বিনয় শুক্লা এই সম্বন্ধে মন্তব্য করে বলেছেন:"ভারত ও পাকিস্থানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের মধ্যে সংঘটিত বৈঠক খুবই জরুরী এই দুই দেশের নেতাদের জন্য, প্রথমতঃ তা পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ে হয়েছে বলে. অবশ্যই প্রথম বৈঠকেই কোন সিদ্ধান্ত আশা করা কঠিন. প্রধান হল, দুই পক্ষই শেষ অবধি আলোচনার জন্য বসেছে".আর পাকিস্থানের সামাজিক নেতা মহম্মদ ফারুক আরশাদ এই বিষয়ে বলেছেন:"আমরা এই আলোচনা চালিয়ে যেতে বাধ্য. তা দুই দেশের নাগরিকদের জন্যই খুব জরুরী. দুই দেশই পারমানবিক শক্তির অধিকারী. আমাদের মধ্যে অনেক গুলি না সমাধান হওয়া সমস্যা রয়েছে: কাশ্মীর, দুই দেশে বহমান নদী গুলির জল বিভাগ ইত্যাদি, আর এই সবের সমাধানের সবচেয়ে ভাল পথ হল আলোচনা. যদিও এবারের বৈঠকে কোন রকমের বাধা দূর করার মত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও যা গুরুত্বপূর্ণ, তা হল দুই পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেছে, আর খোলাখুলি আলোচনা না হলে এবং পারস্পরিক সত্য মতামত বিনিময় না হলে কোন রকমের পরবর্তী উন্নতি সম্ভব নয়".সরকারি বিবৃতিতেও ইসলামাবাদ বৈঠকের এই রকমের মূল্যায়ণ প্রকাশ করা হয়েছে. অংশতঃ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই বৈঠককে "ইতিবাচক ও গঠন মূলক" বলে উল্লেখ করেছেন.ভারত রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক সহযোগী দেশ, পাকিস্থানের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক ভাল. মস্কো দক্ষিণ এশিয়াতে স্থিতিশীল পরিস্থিতির বিষয়ে আগ্রহী এবং সমস্ত অঞ্চলেও. কিন্তু ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে তা অসম্ভব.আলোচনা চলবে – ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁর পাকিস্থানের সহকর্মীকে দিল্লী আসতে আমন্ত্রণ করেছেন, তা গ্রহণ করা হয়েছে.