আফগানিস্থানের খনি ও পাহাড় শিল্প মন্ত্রণালয় আগামী বছরে কুন্দুজ রাজ্যে তৈল খনি খননের জন্য এক টেন্ডার আহ্বান করবে বলে ঠিক করেছে. গেলমেন্দ ও অন্যান্য কিছু রাজ্যেও অনুসন্ধানের কাজ শুরু করা হবে. এই বছরের আগষ্ট  - সেপ্টেম্বর মাসে অন্যান্য কিছু ব্যবহার যোগ্য খনিজ পদার্থের বিষয়েও পরিমান নির্ণয় করা হবে. আফগানিস্থানের মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে সহজে উত্তোলন যোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদের দাম (আর এটা আফগানিস্থানের মাটির নীচে থাকা খনিজ পদার্থের মাত্র একের তিন ভাগ) এক থেকে তিন ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে.    যদি আফগানিস্থানের পক্ষে অন্ততঃ এই সম্পদের উত্তোলনের খুব অংশও শিল্প হিসাবে উন্নয়ন করা সম্ভব হয় তবে, এই দেশে বিনিয়োগের আবহাওয়া সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যাবে. যার পরিনাম হবে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার জন্য ফলপ্রসূ ব্যবস্থা করার প্রয়োজন দেখা দেওয়াতে. প্রসঙ্গতঃ এই ক্ষেত্রে ব্যবস্থা সমর্থন করবে দেশের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর, তাদের মধ্যে ক্ষুদ্র পরিমাপের ব্যবসায়ীরাও থাকবে. অর্থাত্ বোধহয়, আফগানিস্থান সম্ভবতঃ নতুন এক যুগের সম্মুখীন হয়েছে?    আমরা মধ্য এশিয়া এবং আফগানিস্থানের সমস্যা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে এই পরিস্থিতি সম্বন্ধে মন্তব্য করতে বলেছিলাম. বিশেষজ্ঞের কথামতো কোন একটা সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করা আপাততঃ তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে.    "আফগানিস্থান এটা এমন একটা জায়গা যেখানে বিশ্বের খুব জায়গার মতো কখনও কোন খনিজ দ্রব্য আহরণ করা হয় নি. কিন্তু তাদের মাটির নীচে তা আছে, গত শতকের সত্তর আশির দশকে সোভিয়েত ভূ তত্ত্ব বিদেরা এখানে তামা ও আরো কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের অনুসন্ধানে সাফল্য পেয়েছিলেন. এখানের ভূ স্তর মধ্য এশিয়ার অন্য প্রতিবেশী দেশ গুলি মতই ধরে নেওয়া যেতে পারে এবং তার সমান্তরালে মনে করা যেতে পারে যে, আফগানিস্থানের জমিতে শুধু খনিজ তেল, গ্যাস, তামা এবং লোহাই নেই, বরং বিরল ধাতুর বিশাল ভান্ডার থাকতে পারে, যেমন, ইউরেনিয়াম আকরের. কিন্তু বর্তমানে আফগানিস্থানের খনিজ ভান্ডারের মূল্যায়ন করা খুবই কঠিন. নিরাপত্তা বিষয়ে ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখানে কি রকম ভাবে পাল্টাবে তার অনুমান করাও ততটাই কঠিন".    সব দেখে শুনে মনে হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তরের সন্ধানে সেই সব দেশ রয়েছে, যারা সেখানে সৈন্য পাঠিয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ভাবে অনুসন্ধান করছে ওয়াশিংটন. আমেরিকার সেনা বাহিনীর নেতৃত্ব বিগত কিছু কাল ধরে তাদের সৈন্যবাহিনীর অবস্থান পরিবর্তন করছেন, সেই সমস্ত জায়গাতে বাহিনী ক্যাম্প বসাচ্ছে, যেখানে অনুমান খনিজ ভান্ডার আছে. আফগানিস্থানের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে যে, আমেরিকার সেনা দল ব্রিটিশ সেনাদের জায়গা নিয়েছে, গেলমেন্দ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায়. সংবাদপত্র এই বিষয়ে বলেছে যে, আমেরিকা এই অঞ্চলের ইউরেনিয়াম ভান্ডারের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে চায়. একই সঙ্গে খবর ছিল যে, কুন্দুজ রাজ্যের খনিজ তেল সম্ভাব্য অঞ্চলেও মার্কিন সৈন্যদের পাঠানো হয়েছে, যেখানে আপাততঃ প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল জার্মানীর সেনা দল. আফগানিস্থানের প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য সংগ্রাম কি শুরু হয় নি?    "২০০১ সালে তালিবান আন্দোলনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শুরু করার সময়ে আমেরিকা প্রাথমিক ভাবে ভূ রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক ধারণা নিয়ে শুরু করেছিল, কিন্তু তাদের কিছু ধান্ধা যে ছিল না এবং তার মধ্যে খনিজ পদার্থের উপর নিয়ন্ত্রণ যে চিল না, তা বলা যায় না. আপাততঃ পাওয়া খবর বিশ্লেষণ করে বলা যেতে পারে যে, আফগানিস্থানে পশ্চিমের দেশ গুলি ইতিমধ্যেই এইসব পদার্থের উপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই শুরু করে দিয়েছে".    আফগানিস্থানের জনতার কি কিছু যায় আসে, যদি তাদের দেশের খনিজ নিয়ে বিদেশীরা লড়াই করে?    "অবশ্যই আসে, কারণ যদি দেশের সরকারের এই গুলির উপর কোন নিয়ন্ত্রণ না তাকে, তবে বিদেশী কোম্পানী গুলি আগের মতই তাদের খরচ বাঁচানোর জন্য স্থানীয় সমাজের উন্নতির জন্য কিছু করবে না আর এই খনিজ পদার্থ গুলি নিজেরা নিয়ে যাবে, দেশের জনতা ও তাদের নির্বাচিত পার্লামেন্টের হাতে কোন ক্ষমতাই থাকবে না তা নিয়ন্ত্রণ করার, আর এটা আফগানিস্থানের জন্যই ভাল নয়".