রাশিয়ার তেল পূর্ব্ব সাইবেরিয়া – প্রশান্ত মহাসাগর পাইপ লাইন দিয়ে পূর্ব্ব ও দক্ষিণ পূর্ব্ব এশিয়ার দেশগুলিতে আসা শুরু হওয়ার পর থেকেই এখানকার জ্বালানী শক্তির বাজারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে. এই খবর দিয়েছে লন্ডন থেকে প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইউরোপ. এই প্রভাবশালী সংবাদপত্রের মতে রাশিয়া দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য প্রধান দেশগুলি, যেমন, জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানী শক্তির বাজারে স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান তৈরী করতে পেরেছে.     আমাদের সংবাদ দাতা ল্যুদমিলা মাতসেঙ্কো বিষয়টিকে বিশদ করেছেন.    এশিয়াতে জ্বালানী শক্তির চাহিদা বৃদ্ধি রাশিয়াকে খনিজ তেল রপ্তানী বহু মুখী করতে উদ্যোগী করেছে. পশ্চিম মুখী তেলের প্রবাহ সাইবেরিয়া থেকে ঘুরিয়ে পূর্ব্ব মুখী করা হয়েছে. প্রথমতঃ চীনে, যেখানে বর্তমানে তেলের ব্যবহার দৈনিক রেকর্ড পরিমান ৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছুঁয়েছে.    এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানীর বাজারে রাশিয়ার প্রবেশ সম্ভবপর হয়েছে পূর্ব্ব সাইবেরিয়া – প্রশান্ত মহাসাগর পাইপ লাইনের ফলে, এই পথের প্রাথমিক ভাগ গত বছরের শেষে খুলে দেওয়া হয়েছে. ২০১৪ সালে এর নির্মাণ কার্য সম্পন্ন হলে এটি সাইবেরিয়ার তেল উত্পাদনের খনি গুলি থেকে সোজা রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যের কোজমিনো বন্দরের তেল ভর্তি করার ডকে পৌঁছবে. আপাততঃ কোজমিনো বন্দরে তেল পৌঁছনোর জন্য রেল পথের ব্যবহার করতে হচ্ছে. পূর্ব্ব এশিয়ার দেশ গুলিতে এই তেল পৌঁছে দিতে সময় লাগছে দুই তিন দিন আর নিকট প্রাচ্য, ব্রাজিল বা আফ্রিকার তেল এখানে পৌঁছতে কম করে হলেও দুই সপ্তাহ লাগে.    কিন্তু শুধু স্বল্প পাল্লার তেল পরিবহনের পথ ও তার ফলে পরিবহন খরচ কম এবং দাম কম হওয়াই পূর্ব্ব সাইবেরিয়ার তেলের কদর এখানের দেশ গুলিতে বাড়িয়ে দেয় নি, তার আরেকটি কারণ হল এদের কাছে এই তেলের গুণগত মান হঠাত্ করেই অবাক করে দিয়েছে.  এই ধরনের তেলে কম পরিমানে ভারী মিশ্রণ থাকে, যা সাধারণতঃ নিকট প্রাচ্যের তেলে বেশী, ফলে এই তেলের পরিশোধনের খরচ কম এবং পরিবেশ সংরক্ষণের খরচও কম. ফলে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের খনিজ তেল পরিশোধনের কোম্পানী গুলি বর্তমানে এই তেলের জন্য রাশিয়ার সাথে চুক্তি করছে.    বিশ্লেষক দের মতে রাশিয়ার এই পূর্ব্ব সাইবেরিয়ার উঁচু মানের তেল বাজারে আসায় সব মিলিয়ে রাশিয়ার তেলের দাম বাড়বে. চীন অবশ্য এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন না হতে পারে, কারণ তার আর ছয় মাসের মধ্যেই পূর্ব্ব সাইবেরিয়ার তেল পাইপ লাইন দিয়ে আগে ঠিক করা দামেই পেতে শুরু করবে. এই বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক সরকারি চুক্তি অনুযায়ী আগে থেকেই ঠিক করা হয়েছে, রাশিয়া চীন থেকে পাওয়া সস্তা ঋণের পরিবর্তে আগামী কুড়ি বছরে চীনকে ৩০০ মিলিয়ন টন খনিজ তেল সরবরাহ করবে.     রাশিয়ার সঙ্গে এত দীর্ঘ সময়ের চুক্তি সই করে চীনের রাজনৈতিক নেতারা তাদের দেশকে বিশ্বের জ্বালানীর বাজারের নানা রকমের দুর্যোগের হাত থেকে সুরক্ষিত করতে পেরেছেন, তাই "পূর্ব্বের তেলের পাইপ লাইন" নামের ওয়েব সাইটের প্রধান দিমিত্রি অরলোভ:    "রাশিয়া ও চীনের মধ্যে খনিজ তেলের বিষয়ে যে চুক্তি রয়েছে, তাতে শুধু তেল পাঠানোর সময় ও পরিমানের কথাই বলা হয় নি, এই দলিলে সম্পূর্ণ কুড়ি বছর ধরে দামের স্থিতিশীলতার কথাও বলা হয়েছে, আর এটাই দুই বছর আগে থেকে স্বাক্ষর হওয়া দলিলের মূল অর্থ".    এই বিষয় শেষ করতে হলে আরও একটি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইউরোপ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতি দেওয়া প্রয়োজন. প্রবন্ধের লেখকেরা উল্লেখ করেছেন যে, যখন পূর্ব্ব সাইবেরিয়া – প্রশান্ত মহাসাগর পাইপ লাইন তৈরী হচ্ছিল, তখন এই পূর্ব্ব সাইবেরিয়ার তেলের গুণগত মান নিয়ে এক ধরনের বিশেষজ্ঞ সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, আর এখন এই তেলের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা দেখে তারা চুপ. পূর্ব্ব সাইবেরিয়া – প্রশান্ত মহাসাগর পাইপ লাইনের দ্বিতীয় ভাগের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আর সন্দেহের কোন কারণ নেই, আর তা হলে রাশিয়ার অবস্থান এশিয়ার প্রধান জ্বালানী শক্তির বাজার গুলিতে স্ট্র্যাটেজিক ভাবে আরও বেশী শক্ত হবে – এই কথা লিখেছে প্রভাবশালী আমেরিকার সংবাদপত্র!