রাশিয়াতে খরা, স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহ, ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশেরও একই হাল সারা বিশ্বেরই সবচেয়ে বড় কাঁচা মালের শেয়ার বাজারে গুলিতে গত দুই সপ্তাহে দানা শষ্যের দাম প্রায় শতকরা ২০ শতাংশ বেড়েছে. কানাডায় পড়ছে অবিরত বৃষ্টি আর রাশিয়া ও কাজাখস্থানে খরা এই দাম বাড়ার কারণ.    প্রধান উত্পাদক দেশ গুলিতে ফসল হবে কম তাই দাম বাড়ছে. যদিও আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ গুলিতে ফসল তোলার যা পরিমান ভাবা হয়েছে, তা খুব কম নয়. যেমন, রাশিয়াতে যা তোলা হবে, তার থেকে রাশিয়ার প্রয়োজন মেটানোর পরেও রপ্তানীর পরিমান তুলনা মূলক ভাবে বাড়ানো যাবে বলে মনে হয়েছে. রাশিয়ার দানা শষ্য সংস্থার প্রেসিডেন্ট আর্কাদি জ্লোচেভস্কি মনে করেন যে, ফসলের পরিমান এবারে ভাল বলতে না পারলেও, দেশে খাদ্যের অভাব হবে বা রাশিয়া তার রপ্তানী করার পরিমান কম করবে ক্ষমতা কমার জন্য ইত্যাদি কথাকে একেবারেই ভিত্তিহীণ বলা যেতে পারে. তাই তিনি বলেছেন:    "এই বছরে রাশিয়াতে ৪৮ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে, তার মধ্যে ৯ মিলিয়ন হেক্টর জমির ফসল পুড়ে গেছে. তাই সমস্ত শোনা কথা যে, ফসল পুড়ে গেছে, উত্পাদন খুব কম হবে অথবা আমাদের দানাশষ্য কম পড়বে, এই সবই ভিত্তি হীণ কথাবার্তা. বর্তমানে হিসেব করা সূচক বলছে যে, এবারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসেব মত ৮৫ মিলিয়ন টন শষ্য হবে, অর্থাত্ যাই হোক না কেন, যদি কম হয়ও তা দেশের আভ্যন্তরীন প্রয়োজনের চেয়ে বেশী হবে. এর সঙ্গে মনে রাখা দরকার যে, রাশিয়ার কাছে ১লা জুলাই তারিখে দেশের ভান্ডারে ২৪ মিলিয়ন টন শষ্য রয়েছিল গত বছরের ফসল উত্পাদন থেকে. মোট কথা আমরা দেশের প্রয়োজন ও রপ্তানীর প্রয়োজন মেটাতে পারছি".    আর গমের দাম বাড়বে শুনে চাষীরা খুশী, গত কয়েক বছরে তাদের উত্পাদনের জন্য দাম শুধু কমেই নি, বরং জলের দরে দিতে হয়েছে, তাই তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খরার ক্ষতির চেয়ে কম হয় নি. এবারে তারা কিছুটা হলেও রোজগার করতে পারবে. অবশ্যই এরা সেই সমস্ত সৌভাগ্যবানেরা, যাদের ফসল খরায় জ্বলে যায় নি. আর যাদের তা হয়েছে, তাদের এবার বাঁচার লড়াই করতে হবে.    লোকে অবশ্য বিশ্বের বাজারে গমের দাম বাড়া টের পাবে না, কারণ রুটিতে গমের দাম বিশ্বে গড়ে ১০ শতাংশ, তাই রাশিয়ার দোকানে রুটির দাম বাড়ছে না. অন্ততঃ অদুর ভবিষ্যতে. কারণ দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যদ্বাণী খুবই কম আশার বিষয়. রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য উন্নয়ন ও কৃষি সহায়তা সংস্থার বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন যে, ১০ বছর পরে বিশ্বে কৃষি জাত পণ্যের দাম শতকরা ১৫ থেকে ৪০ ভাগ বেড়ে যাবে. কারণ খাবার জিনিসের চাহিদা বাড়বে ও বিশ্বে জৈব জ্বালানী ব্যবহারের পরিমান বাড়বে.    এই পরিস্থিতিতে সমস্ত কৃষি উত্পাদকেরাই সেই সমস্ত কোম্পানীর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন, যারা জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীন গত পরিবর্তন ঘটিয়ে শষ্যের উত্পাদন বাড়াতে চাইছেন ও সেই প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য নানা দেশের সরকারের কাছে তদ্বির করছেন. এই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করা ফসল একমাত্র গ্যারান্টি হতে পারে, যাতে শষ্যের পরিমান আবহাওয়ার উপর কম নির্ভর শীল হবে.    আপাততঃ কাঁকড়া বিছার জীন যুক্ত গমই একমাত্র খরার সময়ে অল্প জলে কাজ চালিয়ে নেয় ও বেঁচে থাকে. কিন্তু এই ধরনের গমের উত্পাদন রুশ দেশে নিষিদ্ধ, যারা এই ধরনের গম উত্পাদন করতে চাইছেন, তারা এই বছরে খরার প্রতি দিনে একবার করে বিষয়টি মনে পড়িয়ে দিচ্ছেন. তাদের যুক্তি হল এই পদ্ধতি সবচেয়ে কম খরচের ও তা সহজ. স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ভাবে বাছাই পদ্ধতির মাধ্যমে খরায় বাঁচতে পারে এমন গমের বীজ তৈরী করতে কয়েক দশক লেগে যাবে, আর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করলে তা করতে সময় নেবে মাত্র কয়েক মাস.

    কিন্তু আমরা এই ধরনের কাঁকড়া বিছার জীন যুক্ত গমের রুটি খেতে কি রাজী হব?