ইঝেভস্ক খুব সক্রিয় ভাবে আগুন রঙের উত্সবের জন্য তৈরী হচ্ছে. মধ্য উরালের উদমুর্তি অঞ্চলের রাজধানীতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এই নিয়ে সপ্তম বার এই উত্সব অনুষ্ঠিত হতে চলেছে. জনপ্রিয় হতে চলা এই উত্সবের ভিত্তি কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত বাস্তব: নৃতত্ত্ববিদদের মতে এই অঞ্চলের লোকেদের মধ্যে আগুনে রঙের চুল এমন লোকের সংখ্যা বিশ্বের একটি অন্যতম বেশী লক্ষ্যনীয় ঘটনা.তাদের রাজ্য যে, বিশ্বে লাল রঙের চুল ওয়ালা লোকেদের ঘনত্বের বিষয়ে বিশিষ্ট, তা উদমুর্তি অঞ্চলের লোকেরা অনেক দিন থেকেই জানেন, এটা তাদের জাতীয় মহাকাব্যে চিত্রিত হয়েছে, আর সামাজিক জীবনে হর্ষ কৌতুকে তার প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়. উদমুর্তি রাজ্যের জাতীয় যাদুঘরের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিনা রুপাসোভা এই বিষয়ে বলেছেন:"এই অনুমানের বৈজ্ঞানিক সততা নিয়ে কোন সন্দেহই নেই, কারণ নৃতত্ত্ববিদদের একটি মানদণ্ড আছে যার নাম আগুনে রঙের সূচক. প্রত্যেক দেশের লোকেদের উপর বিশেষ ধরনের অনুসন্ধান করে তা নির্ণয় করা হয়. অনেক সময়ই এই সূচক এক বা অন্য প্রজাতির লোকেদের প্রাচীনতা প্রমাণ করে. এই ক্ষেত্রে রুশ দেশে উদমুর্তি অঞ্চলের লোকেদের লাল রঙের চুল সংক্রান্ত সূচক সব চেয়ে বেশী. বিশ্বে তারা শুধু আয়ারল্যান্ডের লোকেদের কাছে হার মানে, যাদের সবচেয়ে বেশী লাল চুলো মনে করা হয়ে থাকে".বিজ্ঞানীরা যে রকম হিসেব করেছেন তাতে উদমুর্তি অঞ্চলের লোকদের এই সূচক শতকরা ৭০ শতাংশ. এটা সত্য যে, এই সংখ্যার মানে এই নয় যে, তাদের মধ্যে শতকরা ৭০ জনের চুল লাল. এই সূচক নির্ণয় করতে হলে প্রায় হাজার রকমের বিশেষ তালিকা পূরণ করতে হয়, যেখানে এই রাজ্যের লোকেরা তাদের বংশ লতিকা উল্লেখ করেছে, নৃতত্ত্ববিদদের হিসেবে দেখা গিয়েছে, শতকরা ৭০ জন তাদের পূর্বপুরুষদের নামের সঙ্গে লাল চুল কথা ব্যবহার করেছে. বিজ্ঞানীদের মতে লাল চুলের লোকেরা বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো মানুষ. মারিনা রুপাসোভা যোগ করেছেন একটা ধারণা রয়েছে যে, লাল চুলের লোকেদের ক্রোমোসোম বিশ্বের বাকী সমস্ত লোকেদের ক্রোমোসোম এর মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল হিসাবে দেখা গিয়েছে, বাবার কাছ থেকে ছেলের মধ্যে গিয়ে তা নির্দেশ করেছে এই বংশ পরম্পরার প্রাচীনতা. উদমুর্তি অঞ্চলের লোকেদের নৃতত্ত্ব প্রশ্নের অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রফেসর ইউরি পিরিভোজশিকোভ একেবারেই নিশ্চিত হয়েছেন যে, তারা অর্ধ রূপকথা হয়ে যাওয়া বুদিন প্রজাতির লোকেদের অংশ, এই প্রজাতির লোকেদের কথা প্রাচীন গ্রীক ঐতিহাসিক গেরোদোত বলেছিলেন, তিনি লিখেছিলেন এই লাল রঙের চুল আর নীল চোখ ওয়ালা লোকেরা সংখ্যায় অনেক ও তাদের গোষ্ঠী বিশাল. তার ওপরে আবার পিরিভোজশিকোভ মনে করেন যে, আয়ারল্যান্ডের লোকেরা আসলে স্থানান্তরিত হওয়া প্রাচীন উদমুর্তি অঞ্চলেরই লোক.লাল চুলের উত্সব মারিনা রুপাসোভা মনে করেছেন উদমুর্তি রাজ্য সম্বন্ধে ধারণা পাল্টাতে সাহায্য করবে, লোকে এই জায়গাকে শিল্পের জন্যই জানে, বিশেষত কালাশনিকভ রাইফেল এর জন্যই."আর এখানের জাতীয় সংস্কৃতি যে কত ধনী এবং তাতে কত কিছু আছে, তা এখনও ফিন উইগুর লোকেদের বাইরে প্রায় কেউ জানেই না".সেপ্টেম্বর মাসের লাল চুলের উত্সবে, যখন প্রকৃতির নিজের রঙই লাল সোনালী হয়ে যাবে, এখানে আসা প্রত্যেক অতিথিই তার নিজের জন্য লাল রঙের কিছু পাবেন, থাকবে আগুনে নৃত্য, আগুনে রান্না আর আগুনে রঙের কুটির শিল্পের নানা সামগ্রী. সেখানে লালচে ঘোড়া দের দৌড় আর লাল রঙের নৃত্য শিল্পীদের লড়াই ও থাকবে.লাল চুলের উত্সবের আয়োজকেরা বিশ্বাস করেন যে, সেই দিন আর দূরে নেই যখন উদমুর্তি অঞ্চলের এই উত্সব আন্তর্জাতিক হবে এবং বিশ্বের সমস্ত লাল রঙের চুলের লোকেদের এক করবে. এটা কিছু কম লোক নয়, কারণ বিশ্বের জন সংখ্যার শতকরা দুই ভাগ লাল চুলের লোক.