রাশিয়াতে খরা, স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহ, ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশেরও একই হাল সারা বিশ্বেরই খাদ্য নিরাপত্তা বিষয় কে বিপন্ন করেছে. বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁচা মালের শেয়ার বাজারে গত দুই সপ্তাহে দানা শষ্যের দাম প্রায় শতকরা ২০ শতাংশ বেড়েছে. আপাততঃ বিশ্লেষক দের ভবিষ্যদ্বাণী পরিস্থিতির কোন গুণগত পরিবর্তনের কথা বলছে না: দানা শষ্যের দাম পুরো ঋতুতেই খালি বাড়বে.    প্রকৃতির কি হয়েছে? এই প্রশ্ন আজ সারা বিশ্বেই করা হচ্ছে. বিশ্বের নানা অংশে খরার আগমন অনেক বেড়ে গিয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন. আর এটা একটা সামগ্রিক ধরনে পরিনত হয়েছে, মানুষের কৃত কর্মের প্রভাব পড়েছে আবহাওয়াতে, আর তার সঙ্গে যোগ হয়েছে স্বাভাবিক ভাবেই আবহাওয়ার নানা পরিবর্তন. বিশ্বের কৃষি বিদ্যা আজ নতুন আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব ব্যবস্থা নেওয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে. রাষ্ট্রসংঘের অল্প কিছু দিন আগে বের হওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, আগামী চল্লিশ বছরে বিশ্বের জন সংখ্যা ৯০০ কোটি হবে. বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান কাজ তাদের সকলের সম্পন্ন জীবন যাপনের বন্দোবস্ত করা. কিন্তু এই পথে বিশ্বের নানা সমস্যার সামনে পড়তে হবে. রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, সেই সময়ে বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ লোক থাকবে নানা শহরে, আর চাষের জমি খুবই কমে যাবে. একই সঙ্গে মাংস ও দুগ্ধ জাত খাদ্যের ব্যবহার বেড়ে যাবে, সঙ্গে বাড়বে তার দাম. এই ঘটনা এখনই বাধ্য করেছে অসাধারণ সমস্ত প্রচেষ্টা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য করবার.    শুধু শুধুই তো আর কানাডাতে সদ্য অনুষ্ঠিত বিশ্বের আটটি সবচেয়ে অর্থনৈতিক উন্নত দেশের বৈঠকের একটি প্রধান প্রশ্ন দারিদ্র দূরীকরণ এবং বুভুক্ষা দূরীকরণ ছিল না. এই বৈঠকের শেষে একটি সর্বসম্মতি ক্রমে নেওয়া দলিলে স্বাক্ষর করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে এই মুসকোক দলিলে কৃষি উত্পাদনের হার বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে. বিগত কিছু শীর্ষ আট সম্মেলনেও এই কথা ওঠার জমি তৈরী করা হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন দেশকে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে এক সাথে কাজ করতে বলা হয়েছিল.     এই বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুধু অর্থনৈতিক কারণেই ব্যাহত হচ্ছে না, তার সঙ্গে বর্তমানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আবহাওয়ার কারণও জুটেছে. যারা খরার কবলে পড়েছে, সেই সব দেশেই চেষ্টা করা হচ্ছে ফসল সংরক্ষণের এবং ক্ষতি পূরণের. এদের অনেকেই দানা শষ্যের ভান্ডার গুলিতে ধরনা দিতে বাধ্য হচ্ছে বা খরায় টিকে থাকতে পারে এমন ধরনের ফসলের চাষ করছে, নতুন জল সেচের ব্যবস্থা করছে. রাশিয়া বিশ্বে দানা শষ্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দেশ হলেও প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য যথেষ্ট সংগ্রাম করছে.    রাশিয়ার সরকার প্রধানের সর্ব শেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন খরা গ্রস্থ অঞ্চলে অর্থনৈতিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন, বর্তমানে তারই পরিমান ঠিক করা হচ্ছে. এ ছাড়াও কৃষক দের অন্যান্য সাহায্য দেওয়া হবে বলে ঠিক করা হয়েছে. রাশিয়ার দানা শষ্য সংস্থার প্রেসিডেন্ট আর্কাদি জ্লোচেভস্কি মনে করেন যে, ফসলের পরিমান এবারে ভাল বলতে না পারলেও, দেশে খাদ্যের অভাব হবে বা রাশিয়া তার রপ্তানী করার পরিমান কম করবে ক্ষমতা কমার জন্য ইত্যাদি কথাকে একেবারেই ভিত্তিহীণ বলা যেতে পারে. তাই তিনি বলেছেন:    "আমরা খেতে পাবো না, আমাদের কম পড়বে ইত্যাদি শোনা কথার কোন ভিত্তি নেই, এই সব শোনা কথা ও ভয়ের ভিত্তি হল শূণ্য".রাশিয়ার সরকারের ক্ষমতা, কৃষকদের সম্ভাবনা মিলিয়ে দেশে প্রায় ৯০ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল রোদে জ্বলে গেলেও পরিস্থিতি কে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে. অংশতঃ, এবারে ভাল করে দানা শষ্যের প্রয়োজনে দরকারী ভান্ডার কে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে সাড়ে নয় মিলিয়ন টন শষ্য আছে, যার মধ্যে একের তৃতীয়াংশ পশুর খাদ্য. আর এর অর্থ হল, দানা শষ্য দিয়ে শুধু রাশিয়ার আভ্যন্তরীন প্রয়োজন বা তার রপ্তানীর চ্যানেল গুলিও ভর্তি করা সম্ভব হবে, তা নয় এমনকি পশু খাদ্যেও কম পড়বে না ও তাদের খাদ্যের অভাবের জন্য কেটে ফেলতে হবে না. এ ছাড়া সরকার থেকে বড় যৌথ খামার গুলিকে ইতিমধ্যেই পশু খাদ্যের উপযুক্ত দানাশষ্য নিয়ে নিতে বলা হয়েছ. খাদ্য নিয়ে আলোচনার সময়ে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, পশু পালন কৃষির একটি বড় দিক ও তার গুরুত্ব যথেষ্ট. এই কৃষি শিল্পকে গুণগত ভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তন ও উদ্ধার করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকটি সফল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যেমন পশু পালনের জন্য যে সমস্ত খামার ছিল তাদের সরকারি ও বে সরকারি ঋণ দেওয়া হয়েছে. কিন্তু এখনও আসল কাজ করা বাকী – রাশিয়াকে তার মাংস আমদানীর পরিমান কমাতেই হবে, বিশেষত গরুর মাংস.    বোঝাই যাচ্ছে যে, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ গুলি খাদ্য নিরাপত্তা ও ফসল রক্ষার লড়াই এর জন্য যে সমস্ত বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে তা থেকে ফল পাওয়া যাবেই. কিন্তু শান্ত থাকার জন্য কারণ ক্রমশই কমে আসছে. অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের আবহাওয়া পরিবর্তনের কুফল প্রতিটি বিশ্ববাসীর জীবনে ব্যক্তিগত ভাবে দেখা দিতে পারে.