বিশ্বের অস্ত্রের বাজারে বর্তমানে চীন রাশিয়ার বড় প্রতিযোগী হয়ে উঠছে. চীনের তৈরী অস্ত্রের সঙ্গে রাশিয়াকে সেই সমস্ত বাজারে আরও বেশী করে প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে, যেখানে আগে রাশিয়া সবটা নিজের মনে করত.    এই ঘটনা রাশিয়ার অস্ত্র উত্পাদকেরা লক্ষ্য করছেন, তাদের মধ্যে আধুনিক ও উচ্চ প্রযুক্তি যুক্ত অস্ত্রের উত্পাদকেরাও আছেন. কিছু দিন আগে মিগ ও সুখই কর্পোরেশন রাশিয়ার প্রশাসনের কাছে দরবার করতে গিয়েছিল, যাতে চীনকে ১০০টি বিমানের ইঞ্জিন না পাঠানো হয়.    এই ধরনের ইঞ্জিন চীনের এফ সি – ১ নামের বিমানে বসানো হয়, যা রপ্তানীর জন্য ঠিক করেছে. আর এই বিমান রাশিয়ার মিগ বিমানের সরাসরি প্রতিযোগী. মস্কো বেশ কয়েক বছর ধরে এই ধরনের বিমান ইজিপ্টে সরবরাহ করার জন্য আলোচনা করছিল, কিন্তু কায়রোর সঙ্গে কথা বেইজিং ও চালাচ্ছে. প্রসঙ্গতঃ এমন একটা ব্যাপার তৈরী হয়েছে যে, মনে হয়েছে বেইজিং মস্কোকে অতিক্রম করেছে. যদিও বিশেষজ্ঞরা মানেন যে, চীনের একই ধরনের বিমান অনেকটাই রাশিয়ার যুদ্ধ বিমানের চেয়ে গুণগত ভাবে নিকৃষ্ট, তবুও চীনের বিমানের দাম সাড়ে তিন ভাগ কম.    চীনের অস্ত্র বাজারে গত কয়েক বছরে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে – দেশের সরকারের লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যাওয়ার রাজনীতি. এই বিষয়টি মুখ্য মনে করেছেন রাশিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা নামের জার্নালের সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো:    "চীনের সরকার গত দশ বছরে দেশের সামরিক প্রতিরক্ষা উত্পাদন শিল্প ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে. বাস্তবে সরকার সমস্ত বড় মাপের প্রকল্পে অংশ নিয়েছে, যা চীনের জন্য ব্যবহারিক কারণেই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ. এটা বিমান বাহিনী ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও এমন কি সাধারণ অস্ত্র, তাত্ত্বিক ও ফলিত বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য".    শেষ খবর অনুযায়ী প্রমাণিত যে, চীন শুধু রাশিয়ার সাথে সাধারন অস্ত্রের বাজারেই প্রতিযোগিতা করছে না, বরং রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানীর ক্ষেত্রে ভিত্তি মূলক ক্ষেত্র গুলিতেও ঢুকছে, তাই ইগর করোতচেঙ্কো যোগ করেছেন:    "বলা উচিত্ যে, চীনের অস্ত্র উত্পাদন শিল্প এখনও তার উন্নতির নিম্ন স্তরে রয়েছে. তাই সেই ধরনের জটিল ব্যবস্থা যেমন, "ইস্কান্দের", কিম্বা ট্যাঙ্ক টি – ৯০ এস অথবা এস ইউ – ৩০ এম কা চীনারা আপাততঃ রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতার মত করে বানাতে পারছে না, কিন্তু যেখানে অল্প দামের জিনিসের বাজার – যেমন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, ছোট যুদ্ধ বিমান, স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার বিমান প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইত্যাদি জায়গায় চীনারা খুবই কঠিন প্রতিযোগিতা করছে".    সেই সমস্ত ঐতিহ্য হয়ে যাওয়া বাজার, যেখানে সাধারণতঃ রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ করে এসেছে, যেমন, আফ্রিকা, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, নিকট প্রাচ্য ইত্যাদি জায়গাতেই রাশিয়াকে বর্তমানে চীনের পক্ষ থেকে প্রতিযোগিতার অপেক্ষায় থাকতে হবে.