ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে যে সমস্যা উদ্ভব হয়েছে তা বর্তমানের আন্তর্জাতিক পারমানবিক অস্ত্র নিরোধ সংক্রান্ত ব্যবস্থার মধ্যে লুকোনো সমস্যা. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দের ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে যাঁরা প্রতিনিধিত্ব করেন, তাঁদের সঙ্গে এক সভাতে ঘোষণা করেছেন. বিষয় টি বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক ভিক্তর এনিকিয়েভ.    এখানে মনোযোগ দেওয়ার মত কথা হল রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তৃতার একটি সম্পূর্ণ অংশ ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে বলেছেন. মস্কো বর্তমানে এই সমস্যার সমাধান নিয়ে কত বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে, এটা তারই প্রমাণ. এই বিষয়ে উল্লেখ করব যে, রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ স্বীকার করেছেন যে, ইরান বর্তমানে বাস্তবেই পারমানবিক শক্তি আয়ত্ত করতে পেরেছে, যা মূলতঃ প্রয়োজনে পারমানবিক বোমাতেও পরিণত হতে পারে. কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হল যে পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তিতে কোথাও এই ক্ষমতা অর্জনের বিষয়ে কোন বাধা নেই, এই কথাটা বুঝতে হবে. আর এখানেই রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির মতে একটি সমস্যা রয়েছে. সুতরাং বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে এই সমস্যার সমাধানের পথ বিভিন্ন না হয়ে একই হওয়া উচিত. এটি দিমিত্রি মেদভেদেভের বক্তৃতার একটি উদ্ধৃতি.    জ্ঞানী শ্রোতা ও পাঠক বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রপতি কি বলতে চেয়েছেন, তা তাঁরা বুঝতে পেরেছেন. কারণ বর্তমানে বিশ্বে এক সারি দেশ আছে, যারা পারমানবিক বলা যায়. এদের মধ্যে রয়েছে ভারত ও পাকিস্থান. ইজরায়েল, যারা কখনও পারমানবিক অস্ত্রের বিষয়ে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে নি. শেষে উত্তর কোরিয়া, যারা বলেছে যে, তাদের কাছে পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে. সুতরাং আমরা দেখতেই পাচ্ছি, অস্ত্র প্রসার রোধ করার সমস্যা শুধু ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্যা সমাধান করলেই হবে না. যদিও রাশিয়ার প্রধান যে রকম ঠিকই উল্লেখ করেছেন যে, ইরান নিজে খুব একটা ভাল ব্যবহার করছে না, আর প্রয়োজনীয় খোলা মেলা ভাব বা আন্তর্জাতিক পারমানবিক নিয়ন্ত্রণ শক্তি সংস্থার সঙ্গে সঠিক ভাবে সহযোগিতা করছে না. ইরানের নেতৃত্ব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উত্পাদনে যে লক্ষ্যের কথা বলেছেন ও এর জন্য আরও দশটি নতুন কারখানা তৈরীর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই সবই আলাদা করে উল্লেখ যোগ্য.    যাই হোক না কেন, রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ তেহরানের সঙ্গে যথা সম্ভব দ্রুত ছয় দেশের আলোচনা বৈঠক শুরুর কথা বলেছেন, যাতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচটি সদস্য দেশ পড়ে ও জার্মানী রয়েছে. এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন ইরানের পারমানবিক গিঁট কাটতে একই সঙ্গে সক্রিয় ভাবে কাজ করার গুরুত্বের কথা, একতরফা কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়. এটি পরিস্কার ভাবে তাঁর পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ও ইউরোপীয় সংঘকে একতরফা ইরানের বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্তের উপরে আবার আলাদা করে নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্তের বিষয়ে রাশিয়ার অগ্রহণযোগ্যতাকে উল্লেখ করা হয়েছে. তাই পরিস্কার দেখাই যাচ্ছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই সব সামরিক হুমকি, যা সমুদ্র পার থেকে প্রায়ই দেওয়া হচ্ছে, তা খুবই কুফল উত্পন্ন করছে, এর ফলে তেহরানে ইরানের নেতৃত্ব খালি রেগে যাচ্ছেন ও আরও কথা বার্তা চালাতে অস্বীকার করছেন. আর এই ভাবে চললে, তা ইরানের সমস্যা সমাধানকে খালি পিছিয়েই দেবে.