মানব সমাজ শান্তিপূর্ণ পরমাণু ছাড়া চলবে না – ১২ থেকে ১৮ই জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক যুব পরমাণু সম্মেলনের এইটি মূল কথা. সেখানে চল্লিশ টিরও বেশী দেশের শতাধিক অল্প বয়সী বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছে, তাদের মধ্যে রাশিয়া থেকেও প্রতিনিধি আছে. তাঁরা পারমানবিক শক্তির নানা রকমের ক্ষেত্রে ব্যবহার নিয়ে কাজ করেন, তার মধ্যে ক্যানসার রোগের চিকিত্সা থেকে বিপদ মুক্ত রিয়্যাক্টর নির্মাণ রয়েছে. যাঁরা এসেছেন, তাঁদের মধ্যে নাম করা পারমানবিক পদার্থবিদ্, ছাত্র, বিশ্ব পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পাঠানো প্রতিনিধিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে. বেশীর ভাগ উপস্থিত প্রতিনিধি দের বয়স ৩৫ এর কম.    সবচেয়ে কঠিন তর্ক এখানে উঠতে পারে আন্তর্জাতিক পারমানবিক জ্বালানী সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরী করা নিয়ে. এটি তৈরী হলে বহু দেশই নিজের প্রয়োজনে জ্বালানী নিতে পারবে সেখান থেকে, আর কারও ভয় থাকবে না যে, এই সব দেশের পারমানবিক পরিকল্পনার সামরিক কোন দিক আছে. এই প্রসঙ্গে সম্ভবতঃ ইরানের সমস্যার কথা উঠবে, যারা এই ধরনের ভান্ডারের বিষয়ে কোন উত্সাহ দেখায় নি এবং নিজেরাই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার একক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যা নাকি তাদের পারমানবিক শক্তি উত্পাদনের জন্য প্রয়োজন. কিন্তু কার্যকরী কোন পারমানবিক শক্তি উত্পাদন কেন্দ্র তাদের নেই, যার থেকেই সন্দেহ হয় যে, তারা বোধহয় পারমানবিক বোমা বানাতে চলেছে. এই বিষয়টি সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের "দ্বিচারিতা" নিয়ে সমস্যার মুখে দাঁড় করাবে.    বাস্তবেই যদি ইরান পারমানবিক বোমা বানায়, তবে তাকে কেন আইন সঙ্গত ভাবে পারমানবিক ক্লাবে নেওয়া যাবে না, যখন তারা আগেই পারমানবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে. আর সেই ভারতই ১৯৯০ এর দশকের শেষে পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা করেছে এবং কোন রকমের চুক্তি স্বাক্ষর করে নি, তবুও নয়া দিল্লীর বিরুদ্ধে পশ্চিমের পক্ষ থেকে সমালোচনা শোনা যাচ্ছে না.     সব মিলিয়ে এই তর্কের দিক নির্ধারণ খুবই জটিল ব্যাপার – একটা জিনিসই পরিস্কার, তা পারমানবিক শক্তি বিষয়ে হচ্ছে না. সামরিক বিষয় থাকছে, আর পারমানবিক সামগ্রীর প্রসার রোধ ও. যদিও অনেক দিকই একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত. মনে করা যেতেই পারে যে, সামরিক বিশেষজ্ঞরাই দ্রুত নিউট্রন নির্ভর রিয়্যাক্টর বানিয়েছিল.     এই সম্মেলনের প্রচার পত্রে যেমন বলা হয়েছে যে, এর লক্ষ্য – শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রের প্রসার, তার লাভ বিস্তারিত ভাবে জন সমক্ষে আনা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও তথ্যের সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের পারমানবিক বিজ্ঞানীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া. বিগত বছর গুলি ধরে এই মূল বিষয় গুলি একই রয়েছে. রাশিয়ার পারমানবিক সামাজিক সংস্থার ডিরেক্টর সের্গেই কুশনারিয়েভ বলছেন:    "গুরুত্ব বা জোর দেওয়ার অংশ গুলি পাল্টায়, এই সব কাজ ও লক্ষ্যের ভর কেন্দ্র স্থানান্তরিত হয়, কিন্তু তাও কোনটাই এদের মধ্যে অন্ধকারে চলে যায় না. একটি সহজ উদাহরণ দিই. বর্তমানে পারমানবিক পুনর্ভ্যুত্থানের সময় চলছে. সমস্ত দেশই পাল্লা দিয়ে পারমানবিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে চাইছে এবং কোথাও বিশেষ কোন প্রতিবাদ উঠছে না. কিন্তু কোন ভাবেই জন সমাজের সঙ্গে কাজ থামালে চলবে না, ব্যাখ্যা করা ও দেখানো চালিয়ে যেতেই হবে, চেরনোবিল এর পরের সময়ে নিরাপত্তা অনেক সাফল্যের স্তরে তুলে আনা সম্ভব হয়েছে".    ১৯৯০ এর দশকে প্রথম রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমানবিক বিষয়ের ছাত্রদের মধ্যে জ্ঞান দেওয়া নেওয়ার ধারণা চালু হয়েছিল. এরই পরবর্তী উন্নতি এই যুব সম্মেলন, যা ব্রাটিস্লাভা শহরে একটি সংস্থায় পরিণত হয়েছে. তখন সেখানে ৩৪টি দেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল, তখন থেকেই প্রতি দুই বছরে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়. সের্গেই কুশনারিয়েভ বলেছেন:    "২০০০ সালে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আমাদের রুশী ছেলেমেয়েরা তার ধারণা দিয়েছিল. এই উদ্যোগ নিয়ে রাশিয়ার পারমানবিক সামাজিক সংস্থার যুব বিভাগ প্রস্তাব করেছে. আমাদের দেশ থেকে ব্রাটিস্লাভা শহরে প্রতিনিধি গিয়েছিল শতাধিক".    ব্যাখ্যা করে দেওয়া দরকার রুশ পারমানবিক সামাজিক সংস্থা কি. এটি একটি স্বাধীন সামাজিক সংগঠন, যা ১৯৮৯ সালে শুরু হয়েছিল. তার যুব বিভাগ কঠিন নব্বই এর দশকে উদ্ভব হয়, তখন এ দেশে বিজ্ঞান প্রায় বাঁচা মরার লড়াই এর সামনে পড়েছিল, আর যুব সমাজের পারমানবিক ক্ষেত্রে আগ্রহ খুবই কমে গিয়েছিল. তখন রুশ বিজ্ঞানীরা এই রকম একটি সংস্থা প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের পুরনো রাজ্য গুলিতে তৈরী করতে সাহায্য করেছিলেন এবং একে অপরের সঙ্গে সরকারি ভাবে দেশ হিসাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অনেক আগে থেকেই স্বাধীন ভাবে মতামত বিনিময় করেছিলেন.     সের্গেই কুশনারিয়েভ বলেছেন:"এখন এই সম্মেলনের খাতিরে এই মতামত বিনিময়ের পরিধি অনেক বেড়েছে. আর বিজ্ঞানীদের জন্য ব্যক্তিগত যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ. রাশিয়া সবসময়ই তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তির কারণে গর্ব বোধ করতে পারত, পারমানবিক প্রযুক্তি ও তার উত্পাদনও এর মধ্যেই পড়ে.তার জন্য এই রকমের সম্মেলন – পারমানবিক শক্তির বাজারে প্রধান খেলোয়াড় হিসাবে আত্ম পক্ষ সমর্থনের একটি উপায়. আশা করা হচ্ছে যে, আমাদের প্রতিনিধি দল আগামী ২০১৪ সালে এই সম্মেলন রাশিয়াতে করার জন্য প্রস্তাব করবে".