ফুটবলের বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়েছে স্পেনের ফুটবল দলের জয়ে. এই জয় সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বিশ্বের নাম করা সব খেলা বিশ্লেষকেরা আর অক্টোপাস্ পাউল, সেটা এই ২০১০ এর বিশ্ব কাপের সব কটা ম্যাচেই সঠিক ভাবে জয়ী কে হবে, তা বলতে পেরেছে.    ফাইনাল চলার সময়ে যারা নেদারল্যান্ডস দলের সমর্থন করছিলেন, তারা সকলেই মন থেকে বিশ্বাস করেছিলেন যে, মাথা থেকেই পা শুরু হওয়া এই পন্ডিত, শেষবার ভুল প্রমাণিত হবেই. লাল আগুনের দল (স্পেনের দলকে এই নামেই ডাকা হয়) দুটো হাফ জুড়েই তাদের খেপে যাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা দলের গোলে বল ঢোকাতে পারছিল না. খেলা চলেছিল খুবই উত্তেজনার সঙ্গে, প্রায়ই খেলোয়াড়েরা নিয়ম মেনে খেলতে পারছিলেন না, আর হলুদ কার্ড দেখছিলেন. খেলার আসল সময়ের ফল ছিল গোল শূণ্য. কিন্তু বাড়তি সময়ের খেলার ১১৬ তম মিনিটে হল্যান্ডের গোলে একমাত্র গোলটি করেছেন স্পেনের আন্দ্রেই ইনিয়েস্তা.    আনন্দ ও হেরে যাওয়ার জন্য কান্না – এই ধরনের ঘটনার চিরদিনের ফল: উত্তরের হল্যান্ডের সমর্থকেরা একেবারে হুহু করে কেঁদেছেন এই ঘটে যাওয়া বাস্তবের জন্য, যা শুধু অক্টোপাস্ আগে থেকে বলে দেয় নি, এমন কি হল্যান্ডের বিখ্যাত প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড় যোহান ক্রুয়েফ ও তা বলেছিলেন. কিন্তু এই সব স্বত্ত্বেও হল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা খুব খারাপ খেলেন নি: তারাও চ্যাম্পিয়নের শিরোপা পাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলের জোরের কাছে একটুও কমজোরী না হয়ে যুদ্ধ করেছেন. দুই দলই ফুটবলের সব চমত্কার উদাহরণ দেখিয়েছে, যা বহুদিন ফুটবল প্রেমীরা মনে রাখবেন. খেলা কমেন্টেটর ভ্লাদিমির পিসারেভস্কি তাই বলেছেন:    "প্রথমবার ইউরোপের দল অন্য মহাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হওয়ার জন্যই এই বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে. শুধুশুধুই ফাইনালে দুটো আধুনিক, কুশলী, সুন্দর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা দেশ সামনাসামনি হয় নি. এটা এক রকমের ফুটবলের শিল্প বস্তু, যা সকলের মনে থাকবে".    ভ্লাদিমির পিসারেভস্কি বিশ্বাস করেন বলেই বলেছেন: "আধুনিক ফুটবল কঠোর হয়েছে, যদি আগে প্রতিরক্ষা কৌশল ও পরপর ডিফেন্ডার ব্যবহার করে খেলা হয়ে থাকত, তবে বর্তমানে সব কিছুই ঠিক হয় আক্রমণে. স্পেনের জয়ের কারণ হিসাবে তিনি বলেছেন স্পেনের খেলোয়াড়দের মানসিক স্থৈর্য, যাদের চরিত্র লোহার মত শক্ত আর জেতার ইচ্ছা আছে. হল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা তাদের সঙ্গে সমানে খেললেও, এই বিষয়েই হার মেনেছে, সাধারন সব পরিস্থিতিতে ভুল করে."    স্পেন দলের প্রধান কোচ ভিনসেন্ট ডেল বোস্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, তাঁর অধীনের খেলোয়াড়দের গতকালের ফুটবলে জয়ের কারণ – "যুক্তি সঙ্গত ও তা ২০০৮ সালে ইউরোপীয় কাপ জয়ের পুনরাবৃত্তি". "আমরা সেই সব ফুটবল খেলোয়াড়দের নিয়েই কাজ করেছি ও চেনা পথ দিয়েই চলেছি, নিজেদের সাফল্যকে ব্যবহার করে" – তিনি এই ভাবেই সাফল্যের গূঢ় কারণ ব্যাখ্যা করেছেন.    এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে: এটা বিশ্ব কাপের সমস্ত খেলার ফল বলে দেওয়া অক্টোপাস্ পাউল বা তার ভবিষ্যদ্বাণী করা জাতভাই আলতাই এর কার্প মাছ, যেটা কিনা গত কাল স্পেনের পতাকা সমেত বঁড়শিতে টোপ গিলেছিল, এমনকি খেলার অঙ্কের ফল বলে দিয়েছিল, সেটা জানল কি করে?  ভ্লাদিমির পিসারেভস্কি বিশ্বাস করেন যে, এই বাস্তব ঘটনা গুলি হঠাত্ করে নয় আর তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করার দরকার আছে. এই সব প্রাণীদের সম্ভাবনা এখনও অজানা, কিন্তু বলা যায় না, যে ওরা হয়ত আমাদের জীবনের অনেক কিছুই আগে থেকে বলে দিতে পারে. তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে মত রেখেছেন যে, জার্মানীর লোকেরা স্পেনের লোকেদের কাছে বেশী অর্থের বিনিময়ে মাথা থেকেই পা ওয়ালা ভবিষ্যত বক্তা পাউল কে বেচবে না, সেটা হয়ত শুধু খেলার নয় এমনকি রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বাস্তব সম্বন্ধে আগে থেকে বলে দিতে পারে, যা বর্তমানে পুরনো দুনিয়ার জন্য খুবই দরকারী.