দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরের "সকার সিটি" স্টেডিয়ামে আজ নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের জাতীয় দলের ফাইনাল খেলা দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শেষ হতে চলেছে. এর আগে তৃতীয় স্থান জয়ের ম্যাচে জার্মানীর জাতীয় দল উরুগুয়ে দলকে তিন দুই গোলে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে. ফাইনাল খেলার সম্ভাব্য ফল নিয়ে আলোচনা করেছেন খেলা বিশেষজ্ঞেরা আর ভাগ্য নির্ণয় করেছে... অক্টোপাস্ পাউল.    মাথা থেকেই পা ওয়ালা এই জন্তুটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন, আর সেই দেশের দলের ফ্যানেরা এই অক্টোপাস্ কে এর মধ্যেই তিরিশ হাজার ইউরো দিয়ে কিনতে চেয়েছে. তারা চায় এটিকে প্রতি বছরের তাদের দেশের মাছ উত্সবের প্রতীক করতে.    এই প্রথম বার ফাইনাল হতে চলেছে, যেখানে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানী বা ইতালি নেই. স্পেন বা হল্যান্ডের জাতীয় দল এর আগে কখনও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় নি. কিন্তু তাদের এই ফাইনালে পৌঁছনো বলে দিচ্ছে যে, বিগত কয়েক বছরে এই দুই দেশ ফুটবল খেলাতে কত দূর উন্নতি করেছে, দলগত ভাবে শক্তিশালী হয়ে. এই ম্যাচেই এবারের বিশ্ব কাপের সেরা গোল দাতা নির্ণয় হতে পারে. আপাততঃ দুটি দলেই এবারে পাঁচটি করে গেল দেওয়া স্পেনের ডেভিড ভিলিয়া ও হল্যান্ডের ওয়েসলি স্নাইডার রয়েছে.    সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীরা আজ এই ফাইনাল খেলা দেখার জন্য উদগ্রীব এবং অক্টোপাস্ পাউলের মতই নিজেদের ভবিষ্যদ্বাণী করে চলেছেন. হল্যান্ডের বিশ্ব বিখ্যাত খেলোয়াড় জোহান ক্রুয়েফ নিশ্চিত যে, স্পেনের খেলোয়াড়েরা তার দেশের চেয়ে শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হবে. তিনি ঘোষণা করেছেন: "স্পেনই বিজয়ী হবে, যদিও আমি নিজে একজন হল্যান্ডের লোক এবং এই দেশের জাতীয় দলের জন্য অনেক বছর খেলেছি, তবুও এই মুহূর্তে এই লাল আগুনে দল বিশ্বের সেরা ফুটবল খেলছে এবং আমি এই ধরনের খেলার জন্যই উদ্যোগ নিয়ে থাকি". কিন্তু রাশিয়ার খেলা বিশ্লেষক এবং খেলাধূলার

0www.in-sports.ru

সাইটের এডিটর আন্দ্রেই মালীগিন মনে করেন যে, ২০১০ সালের বিশ্ব কাপ জয় এই মুহূর্তে মানসিক শক্তির উপরই নির্ভর করছে. তিনি বলেছেন:    "দুই দলই এই মুহূর্তে প্রায় একই পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, কিন্তু কঠিন হবে স্পেনের জন্য, কারণ সবাই বাজী রেখেছেন তাদের উপরই. তাই ওদের উপর আলাদা করে ফেবারিট দল হিসাবে চাপ পড়বে, যা এমনকি ব্যঙ্গ হয়ে যেতে পারে. তাই এখন যে কোন ভাবেই প্রধান হল, খেলার জন্য মানসিকতা তৈরী করা, সঠিক আবেগ এবং অন্যান্য আবেগের সঙ্গে যুদ্ধ".     অক্টোপাস্ পাউলের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে সর্বত্র এই হুড়োহুড়ি অবশ্যই হল্যান্ডের খেলোয়াড়দের পক্ষে বাড়তি মানসিক চাপ. আর কিই বা বলা যেতে পারে, যদি কমলা দলের কোচ বের্ট ভ্যান মারওয়েইক নিজেই Goal.com কে এক সাক্ষাত্কারে স্বীকার করেন, যে তাঁর বিপক্ষেরই জয়ের সম্ভাবনা বেশী, আর স্পেনের দলকে এই মুহূর্তে বিশ্ব সেরা বলেন. দেশের দলকে সমর্থন করার আশ্বাস দিয়েছে হল্যান্ডের ফুলের কারবারীরা, যারা এই বিশ্ব কাপের ফাইনাল খেলার জন্য স্পেনের ফ্যান দের জন্য হাজারে ফুল পাঠাবে বলেছে. এই সব ফুলের কোম্পানীর লোকেদের আশ্বাস মতো, এই কাজ তারা করবে ঠিক করেছে, যাতে দুটি দলকেই সৌভাগ্যের আশা দেওয়া যায় এবং আগে থেকেই কোন একটি কে আলাদা না করতে হয়. সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী স্পেনে ফুল পাঠানোর কায়দা এমন হবে যে, লোকের "মাথার চুল সব খাড়া হয়ে যায়" আর "ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে".    অক্টোপাস্ যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছে ও তাকে সমর্থন করে খেলা বিশ্লেষকেরা যতই বলুক না কেন, ভুলে গলে চলবে না যে, স্পেন ও হল্যান্ডের জাতীয় দল এর আগে ১৯২০ সালের অলিম্পিকের সময় থেকে নয়বার খেলেছে. দুই দলই চারবার করে জিতেছে আর একবার খেলা শেষ হয়েছিল ড্র হয়ে. শেষবার স্পেন ১৯৮৩ সালে হল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতেছিল, যখন দুই দলই একই গ্রুপে পরবর্তী পর্বে বাছাই এর জন্য ছিল. আর ২০০২ সালের বিশ্ব কাপের মহড়ার সময়ে এক বন্ধুত্বপূর্ণ খেলাতে নেদারল্যান্ডস স্পেনের হাত থেকে এক গোল বেশী দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল. সুতরাং সব মিলিয়ে যত রকমের ভবিষ্যদ্বাণী বা আশাই থাকুক না কেন, জোহানেসবার্গ শহরে খেলার ফল কিন্তু একেবারেই আশাতীত হতেই পারে.