পশ্চিম ইউরোপে অনাবৃষ্টি, ইউরোপীয় মহাদেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ভীষণ বৃষ্টি এবং রাশিয়ায় ভীষণ গরমের দরুণ শস্য উত্পাদনের পূর্বাভাস বার বার কমের দিকে বদলাতে হচ্ছে.  

   ফ্রান্সের কৃষি মন্ত্রণালয় নিজের পূর্বাভাস প্রায় ৩ শতাংশ কমিয়েছে, রুমানিয়ার বিভাগ- ১০ শতাংশ. আর রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরে রাশিয়ায় সংগ্রহ করা হবে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টন শস্য, আশা করা ৯ কোটি টনের বদলে. উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর জুবকোভ অনাবৃষ্টি জনিত সমস্যার কথায় এসে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদমির পুতিনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, জায়গায় জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করবেন এবং জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন. মনে করিয়ে দিই যে, রাশিয়ার ১৪টি অঞ্চলে জরুরী পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে. অনাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য দানের বিশেষ দপ্তর কাজ করছে, আর কৃষি মন্ত্রণালয় অসাধারণ গরমে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য সংক্রান্ত হট লাইন চালু করেছে. 

   এদিকে ইউরোপ, রাশিয়া ও স্বাধীন রাষ্ট্রবর্গের আবহাওয়ার খবর নিয়ে স্টক-মার্কেটের থেলোয়াড়রা নির্মমভাবে ফাটকাবাজি খেলছে. ইউরোপীয় স্টক-মার্কেটে শস্যের রেকর্ড পরিমাণ কেনাবেচা ও তার মূল্যবৃদ্ধির উল্লেখ করা হয়েছে. গমের মূল্য আমেরিকার স্টক-মার্কেটেও বেড়েছে. বহুমাত্রায় তা শুধু ইউরোপের পরিস্থিতির সাথেই জড়িত নয়, রাশিয়ায় অতি শুকনো আবহাওয়ার সাথেও জড়িত. জানা আছে যে রুশ ফেডারেশন পৃথিবীতে দ্বিতীয় বড় শস্য রপ্তানীকারী দেশ.

    তবুও, রাশিয়ায় অনাবৃষ্টি চলতে থাকলেও, জনসাধারণের জন্য কৃষিজাত উত্পন্ন দ্রব্যের অভাব হবে না, স্থিরবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী ইয়েলেনা স্ক্রীন্নিখ. শস্যের সঞ্চয়, আর কম হলেও সংগ্রহ করা  শস্য ফসল আভ্যন্তরীন চাহিদা মেটানোর এবং দেশের রপ্তানী ক্ষমতা বজায় রাখার সুযোগ দেবে. আর মূল্য সম্পর্কে বলব যে, সম্ভবত তা ভবিষ্যতেও বাড়বে. আর তা শুধু শস্যের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য কৃষিজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রেও, সেই সঙ্গে চিনিরও. তাছাড়া, পশুখাদ্যের ফলন কম হওয়ার জন্য পশুপালন ক্ষেত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হবে.

   পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেওয়া অনাবৃষ্টি, মোটেই কোনো অসাধারণ ব্যাপার নয়, রেডিও রাশিয়াকে প্রদত্ত ইন্টারভিউ উল্লেখ করেন বন্য প্রকৃতি তহবিলের "আবহাওয়া ও শক্তিবিদ্যা" কর্মসূচির পরিচালক আলেক্সেই ককোরিনঃ

   এমন অনাবৃষ্টি আগেও হয়েছে. তবে আমরা যদি এমন ঘটনা কত ঘন ঘন ঘটছে তা বিচার করি, আর তাও সারা পৃথিবীর পরিসরে, তাহলে দেখতে পাব যে অনাবৃষ্টি বেশি ঘন ঘন ঘটছে. আর শুষ্ক অঞ্চলে বর্ষণের পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে বদলায় নি. তবে মুষলধারে বৃষ্টিপাত বেড়েছে. এ হল সাধারণ প্রবণতা, যা দুঃখের বিষয় দেখা দিচ্ছে আবহাওয়ার উপর মানুষের প্রভাবের জন্য, তার স্বাভাবিক পরিবর্তন হচ্ছে. আর তা দেখা যাচ্ছে সারা পৃথিবীতে. তা একাধিকবার ঘটেছে আফ্রিকায়, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায়, এশিয়ায়. এ বছরে তা দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে.

   বোঝা দরকার যে, এ প্রবণতা বন্ধ হবে না, তা আপতিক ব্যাপার নয়. যে সব অঞ্চলে অনাবৃষ্টি দেখা দিতে পারে, সেখানে আগে থেকে ভাল ভাবে প্রস্তুত হওয়া দরকার. সেখানে শস্যের বীজের যথেষ্ট সঞ্চয় থাকা দরকার, যদি আবার করে বীজ বুনতে হয়. বেশি শুষ্কতা সহনক্ষম বীজ ও চারা প্রয়োজন. জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকা দরকার. উল্লেখ করতে চাই যে, ভবিষ্যতে বিপুল সম্ভাবনা আছে যে, রাশিয়ার ঐ দক্ষিণাঞ্চলে আরও ঘন ঘন অনাবৃষ্টি হবে. আর উত্তরাঞ্চল সম্পর্কে বলব যে, সেখানে সম্ভবত দেখা দেবে আর্দ্র ও উষ্ণ আবহাওয়া. এ সব কিছু এ কথাই বলে যে, পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার পরিবেশের সাথে কৃষি ক্ষেত্রের খাপ খাওয়ানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার.

   রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর কৃষি ক্ষেত্রের প্রতি বছর ৪০০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়. আর আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এ বছরে এ ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট বেশি হবে. আর তার অর্থ, সরকার, বিজ্ঞানী এবং কৃষিকর্মীরা নিজের নিজের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নতুন নতুন পদ্ধতি খুঁজতে বাধ্য হবে.