প্রতিধ্বনি তোলা "রুশ গুপ্তচর" কেলেঙ্কারি, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সফরের অব্যবহিত পরেই যা মনে হয়েছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের সমতূল্য, তা অবশেষে শেষ অধ্যায়ে পৌঁছেছে. আমেরিকার বিচারপতির সিদ্ধান্তে দশ জন রুশ নাগরিককে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে ও তাদের বদলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির অনুগ্রহে ক্ষমা প্রাপ্ত ও আগে আমেরিকার পক্ষে গুপ্তচর বৃত্তির দোষে দোষী সাব্যস্ত হয়ে রাশিয়ার জেলে বন্দী চারজনকে রাশিয়া ফেরত দিয়েছে.    রুশ নাগরিক যাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাঠানো হয়েছে, তাদের মধ্যে বিজ্ঞানী ইগর সুতিয়াগিন, যাকে দেশদ্রোহী তার অভিযোগে ১৫ বছরের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল, রুশ গুপ্তচর সংস্থার প্রধান দপ্তর ও বিদেশী অনুসন্ধান বিভাগের কর্মীরা এবং টেলিভিশন কোম্পানী "এন টি ভি প্লাস" এর সুরক্ষা বিভাগের এক প্রধান আছেন.    বোধহয় শেষ অবধি অজানাই থেকে যাবে যে, এই রুশ লোকেরা, যাদের আমেরিকাতে ধরা হয়েছিল, তারা যে আসলে কে কি ছিলেন, কি খবর তারা যোগাড় করছিলেন এই দেশে – বিশেষ বিভাগের কর্মীদের কাজের এইটাই বিশেষত্ব. আমেরিকার অনুসন্ধান বিভাগের খবর অনুযায়ী তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্বন্ধে কিছু তথ্য যোগাড় করছিলেন, যা পরে রাশিয়াতে পাঠানোর জন্য. নিজেদের কাজের ফল বেশী করে পাওয়ার জন্য তারা সম্ভাব্য পথে সবচেয়ে বেশী আমেরিকার লোকেদের মত হয়েছিলেন ও সেখানে সপরিবারে থাকতে শুরু করেছিলেন. প্রসঙ্গতঃ সংবাদ মাধ্যমে তাদের উপর শুধু গুপ্তচর বৃত্তির নয় এমন কি কালো টাকা সাদা করার অভিযোগও উঠেছিল. এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অসম্ভব সমস্ত কাজ কারবারও তাদের নামের সঙ্গে জোড়া হয়েছিল.    কিন্তু এই সমস্ত গুপ্তচর খেলার মধ্যেও, রুশ ও মার্কিন সরকার গঠন মূলক আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়, যা বিগত কয়েক বছরে শুরু করা সম্ভব হয়েছে. তার মধ্যেও প্রত্যেকেই তাদের নিজেদের স্বার্থ খেয়াল রেখে কাজ করবে. কয়েকদিন আগের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাকে অভিনন্দন জানিয়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, রাশিয়া আমেরিকার বিশেষ বিভাগের পাতা ফাঁদে পা দেবে না এবং কোন রকমের সমান জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে না. তাঁর আমেরিকার সহকর্মী নিজের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, ঘটে যাওয়া এই ঘটনা কোন ক্রমেই রুশ মার্কিন সম্পর্ককে মলিন করবে না. আমেরিকার প্রশাসন সমস্ত কিছুই করেছেন যাতে এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভাবে রাজনীতির বাইরে থাকে, সব রকম ভাবে ও সবসময় উল্লেখ করে যে, রুশ লোকেদের সম্ভাব্য ভবিষ্যত সম্বন্ধে সমস্ত সিদ্ধান্ত বিশেষ বিভাগই নেবে. ওয়াশিংটন সবসময়েই আগ্রহ দেখিয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সব লোকেদের বিনিময় করে গুপ্তচর কেলেঙ্কারি শেষ করতে. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি সুসলভ এই রকমই মনে করে বলেছেন:    "রাশিয়ার পক্ষ বা আমেরিকার পক্ষের কেউই আজ সম্পর্ক খারাপ করতে আগ্রহী নয়. আর এই কেলেঙ্কারি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক কোন রকমের প্রভাব ফেলুক. যাতে এই রকম না হয়, তাই দুই পক্ষই এমনই এক দ্রুত কাঠামোর মধ্যে কাজ করেছে. কারণ রাশিয়ার সঙ্গে গঠন মূলক সম্পর্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তার আন্তর্জাতিক ভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা গুলি যা ইরান নিয়ে, আফগানিস্থানকে নিয়ে ও পারমানবিক অস্ত্র সম্ভার কমানো নিয়ে আছে তার ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে সমাধানের একমাত্র মূলধন".    একই সঙ্গে কিছু দিন আগে আমেরিকার ঘোষণাতে একটি "ভালর জন্য শিক্ষার" সুর শুনতে পাওয়া গিয়েছিল. হোয়াইট হাউসের সরকারি প্রতিনিধি রাম এমানুইল বলেছিলেন, রুশ লোকেদের সঙ্গে যা হচ্ছে, তা বিদেশের সমস্ত বিদেশী সরকারের জন্যই পরিস্কার ইঙ্গিত হওয়া উচিত. যে সমস্ত দেশের নাগরিকেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরের কাজ করবে, তাদের হাল এই রুশ লোকেদের মতই হবে. আর একজন আমেরিকার সরকারি লোক টেলিফোন কনফারেন্সে নিজের নাম অনুল্লেখ্য রাখার শর্তে বলেছিলেন যে, রাশিয়ায় "আগেকার সময়ের ধারা" অনুসরণ করেই গুপ্তচর সংস্থা আছে. কিন্তু এ তো জানা কথাই যে, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোন দেশই বিদেশে গুপ্তচর বৃত্তির কাজ থেকে কখনোই নিজেদের বারণ করবে না, কারণ এটা একটা প্রশাসনের অঙ্গ, তাকে বিশ্বের অন্যান্য সহযোগী দেশের পক্ষ থেকে যত রকমেরই নাম দেওয়া বা যে রকম ভাবেই মনে করা হোক না কেন. আর হতে পারে এই অদ্ভূত গুপ্তচর কেলেঙ্কারি এখানেই শেষ নয়, বা এটাই শেষ নয়. কিন্তু রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের রাজনৈতিক ইচ্ছা এই সব কিছুরই উর্দ্ধে. তাঁরা মনোযোগ দিয়ে রুশ – মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার উন্নতি নিয়ে কাজ করছেন. এটা রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের শেষ ঘোষণা থেকে পরিস্কার বোঝা যায়, সেখানে বলা হয়েছে যে, "রাশিয়ার বিদেশ অনুসন্ধান পরিষেবা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অনুসন্ধান বিভাগ, দুই দেশের প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী নাগরিক বিনিময়ের কাজ করবে যা একান্তই মানবিক কারণে করা হচ্ছে এবং মূলতঃ গঠন মূলক সহযোগিতার উদ্দেশ্য নিয়ে".