"জার্মানীর যন্ত্র" "লাল আগুনের" সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে. এই রকম একটা চিত্র রূপ কল্পনা করা যেতে পারে বিশ্ব কাপের সেমিফাইনালে জার্মানীর দলের নাটকীয় পরাজয়, এবারের বিশ্ব কাপের ফেবারিট দেশের দল – স্পেনের কাছে কে নিয়ে.    জার্মানীর দল এবারে বিশ্ব ফুটবলের সেরা দিক গুলি দেখিয়েছে: দারুণ দলগত খেলা, দ্রুত গতি, কিছু বলা যায় না এমন ব্যক্তিগত কৌশল, মানসিক শক্তির প্রমাণ. কিন্তু তাদের পক্ষে স্পেনের খেলোয়াড়েরা দাঁতে কাটার ওপরে, যারা সেমিফাইনালে তাদের প্রেরণা ও জয়ের প্রবল ইচ্ছা দিয়ে খেলেছে. জার্মান খেলোয়াড়েরা বহু চেষ্টা করেও তাদের কোচ ইওহিম লিওভ যা শিখিয়েছেন, সেই সব প্রতিপক্ষের ভুল থেকে খেলা নিজেদের পক্ষে আনা, বা কোন ফাঁদে ফেলা, তার কোনটাই করতে পারে নি. স্পেন তারা যে রকম খেলতে চেয়েছে, সেই রকম করেই জার্মানী কে খেলিয়েছে, মাঠে তারাই ছিল মুখ্য ও প্রায় সারাক্ষণই বল তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল. এই সমস্ত ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে, পরিমান বেড়ে গুণে পরিণত হয়েছে, আর খেলার বল, যা আবার জার্মান গোলের দিকে পাঠানো হয়েছিল, তা অবশেষে জালে জড়িয়েছে. এই ভাবেই খেলা শেষ হয়েছে, স্পেন সবচেয়ে কম ব্যবধানে জিতেছে.    বোধহয় জার্মানীর দল পুরোটাই জ্বলে গিয়েছিল, এর আগের সব খেলাগুলোতে. মনে করিয়ে দিই ১/৮ ফাইনালে তারা ইংল্যান্ড কে হারিয়েছিল ৪:১ গোলে. আর কোয়ার্টার ফাইনালে বিখ্যাত আর্জেন্টিনা কে নিজেরা কোন গোল না খেয়ে চার গোলে হারিয়ে দিয়েছিল. সেই সব অধ্যায়ে স্পেন শক্তি সঞ্চয় করেছিল আর জিতেছিল খুবই সাদা মাটা খেলে. পর্তুগাল ও প্যারাগুয়ে দলকে একটি করে গোল দিয়ে.    গতকালের ম্যাচের যে কোন ফল, তা সে যেই জিতুক না কেন, তা আশা করা যেতেই পারত এই কথা বলেছেন "রেডিও রাশিয়া"কে বিখ্যাত সোভিয়েত গোল রক্ষক ও খেলাধূলায় মাস্টার ভ্লাদিমির মাসলাচেঙ্কো."এই ম্যাচে দুটি দল খেলতে এসেছিল, যারা একই রকম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষমতা রাখে. আমার মনে হয়, এই খেলা টাকেই ফাইনাল বলে মনে করা যেতে পারে. আর যা খেলা হয়েছে, তাতে জার্মান দল হঠাত্ করেই তাদের ক্ষমতার চেয়ে কম শক্তিশালী ভাবে খেলেছে. জার্মান খেলোয়াড়েরা নিজেরাই যেন জয় স্পেনের হাতে তুলে দিয়েছে. আর তারা এই রকম উপহার যেন নিতেই পারে নি. এই থেকেই বড় খেলা হয়, যতই তা উল্টো পাল্টা মনে হোক না কেন. ফাইনালে যে দুটো দল খেলবে তারাও যথেষ্ট ক্ষমতা শালী প্রতিপক্ষ. কিন্তু তারা কখনও কেউ চ্যাম্পিয়ন হয় নি. সুতরাং এক নতুন নেতার জন্ম হতে চলেছে, তার ওপরে সেটা ইউরোপের এবং ইউরোপের বাইরের মাটিতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া. হল্যান্ড স্পেনের বিরুদ্ধে তাদের একই ধারার খেলা খেলতে পারে, শুধু আরও বেশী জোর দিয়ে. কে জিতবে? হল্যান্ড তাদের ফুটবল দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অধিকার অর্জন করেছে আর স্পেনের ফুটবল তার দেশের ফুটবলের ঐতিহ্য অনুযায়ী বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতেই পারে. সুতরাং বলা যেতে পারে এবারে মহাশয়েরা যে যার দান ফেলুন, দেখা যাক কে জয়ী হয়! আমি এবারে হল্যান্ডের উপর বাজী ধরছি".বিখ্যাত কবি আন্দ্রেই দিমিন্তিয়েভ মনে করেন যে, ফাইনালে উঠেছে নাম করা দলেরা. তিনি ফুটবল পাগল এবং এই দারুণ খেলার একজন নাম করা বিশ্লেষক. "কিন্তু এবারেও সব কিছু নির্ভর করবে, ভাগ্য আর সুযোগের উপর, যা সাধারণতঃ প্রায়ই ফুটবলে হয়ে থাকে. আমিও যে খেলা খেলেছি. এমন হয় যে, দল ভাল খেলছে, খেলোয়াড়েরা দারুণ সব শট করছে, কিন্তু সব কটাই বারে লেগে ফিরে আসছে. আর বারে লাগা – এটা দুর্ভাগ্য. মাত্র কয়েক সেন্টিমিটারের ব্যবধান. গোল তো হতেও পারত. তাই আগে থেকে বলা খুব কঠিন কে জিতবে. হল্যান্ড চিরকালের শক্ত দল, তারা সবসময়েই তা ছিল. কিন্তু স্পেন খেলে মেজাজী ফুটবল, তারা জেতার জন্য পাগল. এরা দক্ষিণের মেজাজ নিয়ে খেলে. মনে হয়, যদি স্পেনকে ভুল করতে বাধ্য না করতে পারে, তবে তারাই জিতবে".সামনে – চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল. স্পেন বিশ্বকাপ জেতার জন্য একেবারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তারা জার্মানীকে হারিয়ে বলা যেতে পারে ডানা মেলেছে সাহসে. কিন্তু হল্যান্ডেরও জেতার জন্য উত্সাহের কারণ আছে, যাতে তৃতীয় বারে ফাইনাল খেলে মাথার উপরে সোনার বিশ্বকাপ তুলে ধরতে পারে প্রথমবার. আর জার্মানীর সমর্থকেরা একই সময়ে ভাবছে: জার্মান দলের সরকারি ভাগ্য নির্নায়ক সেই অক্টোপাস্ পাউল, যে কিনা সেমিফাইনালের হার বলেছিল, তাকে দিয়ে কি খাবার বানানো যায়.