রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বলে ওঠা গুপ্তচর কেলেঙ্কারি সম্ভবতঃ দুই পক্ষের সুবিধা মতো চুপচাপ নিভিয়ে ফেলা হবে. নিউ ইয়র্ক টাইমস সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে যে, তাদের এক নিজস্ব সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার পক্ষে কাজ করেছে এম অভিযোগে ১০ জন গ্রেপ্তার হওয়া লোকের উকিলদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা করছে কি করে এই ঘটনার সমাধান করা যায়. নিজেদের পক্ষ থেকে রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে, আমেরিকাতে গ্রেপ্তার হওয়া রাশিয়ার লোকেদের বদলে নেওয়ার জন্য রাশিয়াতে বন্দী থাকা আমেরিকার নাগরিকদের কথা ভাবা হচ্ছে.    এই ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য ভিত্তি ঘটনার পরম্পরার মধ্যেই আছে. আপাতঃ ভাবে এই ধারণাকে সমর্থন করে রাশিয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত রাজদূত সের্গেই কিসলিয়াক প্রশাসনের উপ সচিব উইলিয়াম বের্নস এর সঙ্গে দেখা করা, আর প্রধান যেটা হল, তা হল, সমস্ত অভিযুক্তদের বিচার সভা একই জায়গায় অর্থাত্ নিউ ইয়র্কে স্থানান্তর করানো. বাস্তবে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগ এখন অবধি শুধু পশ্চিমের সংবাদপত্রের পাতাতেই করা হয়েছে. সরকারি লোকেরা এই রকমের ঘোষণা করার জন্য তাড়াহুড়ো করছেন না. আর দুই দেশের নেতারা যেন এই গুপ্তচর কেলেঙ্কারিতে কিছুই হয় নি এই রকম ভাব করে যাচ্ছেন. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁর মার্কিন সহকর্মীকে সেই দেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, মস্কো আমেরিকার বিশেষ দপ্তরের ফাঁদে পা দিতে চায় না এবং একই ধরনের উত্তর দিতে চাইছে না. নিজের পক্ষ থেকে বারাক ওবামা উল্লেখ করেছেন যে, ঘটে যাওয়া ঘটনা কোন ভাবেই রাশিয়া ও আমেরিকার বর্তমান সম্পর্ক কে মলিন করবে না. সবচেয়ে মর্মভেদী ঘোষণা অবশ্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ, তিনি ব্যঙ্গ করে এই সব অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার হওয়ার সময়ের কথা তুলেছেন: একেবারে রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের অব্যবহিত পরেই. কিন্তু সব মিলিয়ে সমস্ত মন্তব্য একটি বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছে, তা হল, রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি কোন পক্ষই চায় না, এই বিষয়ে রাশিয়ার লোকসভার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত পরিষদের উপ প্রধান আন্দ্রেই ক্লিমভ মন্তব্য করে বলেছ:    "এই ক্ষেত্রে আমাদের দুই দেশ রাজনৈতিক ভাবে এই কেলেঙ্কারি আগে বাড়তে দেন নি. সংবাদ মাধ্যমে নানা ধরনের ধারণা ও মনে হওয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে, কারণ লোকেদের কাছে এটা আগ্রহের বিষয়. আর রাজনীতিবিদেরা করেছেন সেই সব কিছুই, যাতে তারা এই পাতাটা না দেখে উল্টে দিতে পারেন".    পরবর্তী কালে এই ঘটনা কোন দিকে মোড় নেবে তা দুই পক্ষের রাজনৈতিক ইচ্ছা সংক্রান্ত ঘোষণা থেকে বোঝা যায়, যে অনেকটাই নির্ভর করছে এই সব গ্রেপ্তার হওয়া লোকেদের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আদালতে উঠবে এবং আমেরিকার আদালতে পরে কি হবে. আপাততঃ তাদের কে অভিযুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে যে, তারা অভিবাসন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘণ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নকল পাসপোর্ট নিয়ে থেকে এবং কালো টাকা সাদা করার কাজ করেছে. এই ধরনের অভিযোগ এত গুরুতর নয় যে, রাশিয়াতে আমেরিকার হয়ে গুপ্তচর বৃত্তি করার অভিযোগে ১৫ বছরের জন্য জেল খাটার সাজা পাওয়া ইগর সুতিয়াগিন কে বদল করতে হবে, যদিও এই নিয়ে কিছু সংবাদ মাধ্যম ইতিমধ্যেই খবর দিতে তাড়াহুড়ো করেছে.    এই ধরনের বদল খুব একটা সম্ভাব্য নয়. যদিও এই ধরনের বদল করার অভ্যাস আছে. আন্তর্জাতিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ক্লিমভ তাই বলেছেন:    "ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ে দুই পক্ষই একে অপরের সঙ্গে গুপ্তচর বদল করতো. কিন্তু এটা হত খুবই নীরব ভাবে. কোন পক্ষই বিষয়টিকে জনগনের সামনে তুলতে চাইত না. বিশেষজ্ঞরা সাধারণতঃ কূটনৈতিক ভাবে বা অন্য বিশেষ ভাবে চুক্তি করত. এই রকম একটা চল আছে, কিন্তু তা সব সময়ে ব্যবহার করা হয় না, কারণ এটাই একমাত্র পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়ার পথ নয়".     এই ঘটনার সম্ভাব্য আর একটি দিক বদল হতে পারে – যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ গুলি না মেনে কোন কম শাস্তি যোগ্য দোষের অভিযোগে দোষী বলে মেনে নিতে পারেন. এটা আমেরিকার আইনে আছে, এই রকম মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেট এবং রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর রাষ্ট্র ও আইন ইনস্টিটিউটের একজন প্রধান সের্গেই ম্যাক্সিমভ. তিনি বলেছেন:    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ নম্বর ধারা ও ফরিয়াদী মামলার আইনে এই রকম একটা বিষয়ের ব্যবহার আছে যাকে বলা হয়ে থাকে – দোষ স্বীকার করার ফলে চুক্তি. এর মানে হল, যে, কোন লোক, নিজেকে কম শাস্তি যোগ্য কোন অভিযোগে দোষী বলে স্বীকার করে বড় মাপের শাস্তি যোগ্য দোষের অভিযোগ থেকে রেহাই পায়. এই ক্ষেত্রে শাস্তি দেওয়ার সময়ে জেল খাটতে বলা হয় না এবং অংশতঃ দোষীকে অন্য পক্ষের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় সেখানে শাস্তি পাওয়ার জন্য. যেমন, রাশিয়ার নাগরিকদের রাশিয়া প্রজাতন্ত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে শাস্তি পাওয়ার জন্য".    যেহেতু সমস্ত ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমেরিকা ও রাশিয়া এই ঘটনার চুপচাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইনের এই ধারা ব্যবহারের সম্ভাবনা খুবই ভাল রকম ভাবে আছে. বাস্তবে অভিযুক্তদের এবারে কিছু করার কথা. তাঁরা বিচারের রায় জানার আগে কোন একটা চুক্তি করতে যেতেই পারেন.