জার মহান পিওতর এর কালের বিখ্যাত বিশাল রূপান্তরের পর এবং বিংশ শতাব্দীতে কয়েকটি শিল্প বিপ্লবের পর রাশিয়া আবার দাঁড়িয়েছে সমাজ ও অর্থনীতির গোড়া থেকে পাল্টানোর সময়ে. এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মস্কোতে এক প্রদর্শনী ফোরামের আয়োজন করা হয়েছে, নাম – "আধুনিকীকরণের সপ্তাহ".    এই প্রদর্শনী ফোরামের প্রধান ধারণা হল – রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের ঘোষিত দেশের প্রধান পরিবর্তন গুলিকে প্রসারিত জন সমর্থন ও আলোচনা করা. দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ফোরামের আয়োজকেরা মনে করেছেন যে, উচিত হবে ম্যানেজার, বিজ্ঞানী, দেশের নেতা ও ব্যবসায়ীদের শুধুমাত্র দেশের ভিতরের থেকেই নয়, এমনকি নিকট ও দূরের দেশ গুলি থেকে ডেকে এনে সকলের ক্ষমতা ও শক্তিকে একত্র করার চেষ্টা করা. প্রসঙ্গতঃ এই ধরনের উন্নতির ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বা বিষয়কে দেওয়া হবে অগ্রাধিকার, আর তা দেশের নেতা, নামী ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মীদের বক্তব্য থেকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে.    বর্তমানে বেশী করে শোনা যাচ্ছে যে, রাশিয়ার কাঁচা মালের সম্ভাবনা আর তার সঙ্গে সঙ্কট পরবর্তী কঠিন সময়কে ব্যবহার করা উচিত হবে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য এবং তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপকে একেবারে আমূল বদলে দেওয়ার জন্য. ক্রেমলিনের প্রশাসনের উপপ্রধান ও এই আধুনিকীকরণের ধারণার একজন প্রধান রূপকার ভ্লাদিমির সুরকোভ – নিশ্চিত করে মনে করেন যে, রাশিয়ার অর্থনীতি ও সামাজিক গঠনকে একেবারে সম্পূর্ণ অন্যরকম করে বদলে দেওয়ার অবশ্যই দরকার আছে.    "আমাদের গভীর বিশ্বাস হল যে, কাঁচামাল ভিত্তি করে রাশিয়ার অর্থনীতি এই দেশকে অন্য দেশগুলির মত জীবন যাত্রার মানে উন্নত হতে দিচ্ছে না.  এই ধরনের উদ্ভাবনী শক্তি সম্পন্ন অর্থনীতিতে নতুন স্তরে উঠতে হলে, সেই রকমের পরিস্থিতিও তৈরী করতে হবে. আর প্রথমেই আমদের মানসিকতা বদলাতে হবে, কারণ নব্বই এর দশক ও পরবর্তী শূন্যের দশকের বাণিজ্যিক সাফল্য জড়িত ছিল বিশেষত শুধু কাঁচা মালের উপর ভর করে".    রাশিয়া আজ আধুনিকীকরণের জন্য ভাল সম্ভাবনার মধ্যেই রয়েছে, রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের দিমিত্রি সরোকিন এই কথা বলে উল্লেখ করেছেন যে:     "আমি সমস্ত ধরনের কর্মী হারানো স্বত্ত্বেও আমাদের দেশের বিজ্ঞান প্রযুক্তির ক্ষমতা ও মানবিক সম্পদের কথা বলতে চাই, এই ক্ষেত্রে সমস্যা হল এই ক্ষমতাকে একটা গতি দিতে হবে, তাকে নতুন করতে হবে. রাশিয়ার ইতিহাস দেখিয়েছে – এই দেশ একাধিকবার কয়েক শ বছরের মধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে আধুনিক হয়ে".    বিজ্ঞানী সবার আগে মনে করেছেন, মানুষের মনে রয়ে যাওয়া মহান পিওতর এর সময়ে রাশিয়ার পরিবর্তনকে. প্রযুক্তিগত ও শিল্পের আধুনিক রূপান্তর, তারপর গত শতকের তিরিশ ও ষাটের দশকের পরিবর্তন কে. এখানে লক্ষ্যনীয় যে, যদিও বলা হয়ে থাকে যে, দেশের সমাজের গভীর থেকে আধুনিকীকরণের ঢেউ উঠবে, তবুও প্রশাসনের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে অনুঘটকের মতো. এর মধ্যে বর্তমানের রাশিয়াতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, আধুনিকীকরণ সফল হতে পারে, যদি তার সঙ্গে যোগ হয় ব্যবসায়ী আগ্রহ এবং যদি ব্যবসা নিজের উত্পাদনের মাধ্যম গুলিকে আধুনিক করে তবেই.    নতুন রাশিয়ার একটি নাম করা প্রকল্প হল মস্কোর উপকণ্ঠে স্কোলকোভো সহরে নির্মীয়মাণ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কেন্দ্র. এই প্রকল্পটি বর্তমানে প্রশাসনের ও ব্যবসায়ের মনোযোগের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে. এই প্রকল্পের রূপায়ণ আন্তর্জাতিক সমাজকে সঙ্কেত পাঠাবে যে, রাশিয়া উচ্চ প্রযুক্তির উন্নয়নের রেল পথে দৃঢ় ভাবে আরোহণ করেছে. প্রসঙ্গতঃ যা খুব কম গুরুত্বপূর্ণ নয় – আর তা উল্লেখ করেছেন নিজের কিছুদিন আগের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ে রাশিয়ার নেতা দিমিত্রি মেদভেদেভ, তা হল উদ্ভাবনী নগর স্কোলকোভো হবে রাশিয়ার নিজের মত করেই, তা বিখ্যাত সিলিকন ভ্যালির নকল হবে না.