রাশিয়া, কাজাখস্থান ও বেলোরাশিয়ার রাষ্ট্রপতিরা – দিমিত্রি মেদভেদেভ, নুর সুলতান নাজারবায়েভ এবং আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো সম্মিলিত ভাবে শুল্ক সংক্রান্ত আইন কার্যকরী করার ঘোষণাতে স্বাক্ষর করেছেন – তিন দেশের শুল্ক সংঘ বিষয়ে এটি একটি ভিত্তি মূলক দলিল. আস্তানা শহরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইউরো এশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতার শীর্ষ বৈঠকের কাঠামোয়.    শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই দলিলের বিষয়ে প্রধান অনিশ্চিত বিষয়টি প্রকট হয়েছিল, বেলোরাশিয়া এই দলিলে সই করবে কি না. জানা ছিল যে, বেলোরাশিয়ার প্রধান তাঁর প্রজাতন্ত্রের যোগদানের বিষয়টির সঙ্গে রাশিয়া থেকে তাঁদের জন্য পাওয়া খনিজ তৈলের শুল্ক বাতিলের শর্ত বহাল রেখে ছিলেন. সে ক্ষেত্রে তিনি ভুলে ছিলেন যে, রাশিয়া এমনিতেই বেলোরাশিয়াকে তার সম্পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রয়োজনে তেল সরবরাহ করে থাকে বিনা শুল্কে. আবার তার উপরে এই খনিজ গ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক যুদ্ধ, যাতে রাশিয়ার গাজপ্রম কোম্পানী ও বেলোরাশিয়ার প্রশাসন যুক্ত ছিল. কিন্তু ফল হিসাবে সুস্থ বুদ্ধিরই জয় হয়েছে এবং এই শুল্ক সংঘ তিন দেশের কাঠামোতে গৃহীত হয়েছে. শুল্ক সংঘ গঠন করতে পারাকে কাজাখস্থানের রাষ্ট্রপতি নুর সুলতান নাজারবায়েভ নাম দিয়েছেন ইউরো এশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি প্রধান সাফল্য. আমাদের সংবাদদাতা আন্দ্রেই গ্রিবানভ আস্তানা থেকে জানিয়ে বলেছেন:    "এই অধিবেশনের প্রধান বিশেষত্ব ছিল বেলোরাশিয়ার সঙ্গে এই দলিলের সমষ্টি গত স্বাক্ষর, রাশিয়া ও কাজাখস্থান এর আগেই দলিলে স্বাক্ষর করেছিল, মিনস্ক এই প্রক্রিয়াকে দেরী করিয়ে দিচ্ছিল. প্রসঙ্গতঃ আস্তানা শহরে বেলোরাশিয়ার রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো ঘোষণা করে ছিলেন যে, এই দলিল গৃহীত হয়েছে এবং সমস্ত শুল্ক সংঘের সংক্রান্ত কাগজ ইতিমধ্যেই স্বাক্ষর হয়ে রয়েছে. এই ভাবে রাশিয়া ও কাজাখস্থানের শুল্ক সংঘ কাজ করতে শুরু করেছে ১ লা জুলাই থেকে আর ত্রি দেশীয় কাঠামোতে ৬ই জুলাই থেকে".    প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের এলাকায় এই নতুনের অভ্যুদয় সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন যে, এই কাজ লাভজনক ও আগ্রহোদ্দীপক. বাস্তবিক ভাবেই তিনটি স্বাধীন দেশ যারা এক সময়ে একই দেশের অংশ ছিল তাদের আজকের এই একই শুল্ক সংঘের আওতায় আসা প্রমাণ করে দেয় যে সময় হয়েছে আরও ঘনিষ্ঠ ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার. প্রসঙ্গতঃ বিশ্বের অভিজ্ঞতা আরও বেশী করে দেখিয়ে দিয়েছে এই বিষয়ে লাভ কত বেশী. এই টুকু শুধু মনে করলেই যথেষ্ট হবে যে, ইউরোপীয় সংঘ, যা বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগের একটি বিশ্ব মানের প্রকল্প, তা শুরু হয়েছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতার হাত ধরেই, মনে করা যেতে পারে ইউরোপীয় কয়লা ও ইস্পাত সংঘের অভ্যুদয় কে. আর এটা শুধু মাত্র লাভের কথা মাথায় রেখেই করা হয় নি, নিরাপত্তাও একটি বড় কারণ ছিল. ইউরোপের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মনে করেছিলেন যে, কোন একটি বিশেষ দেশের এই বিষয়ে প্রধান ভূমিকা বানচাল করতে পারলে, তা তিরিশের দশকের ঘটে যাওয়া জার্মানীতে শিল্প বিপ্লব ও তার হাত ধরে আসা জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্ট রাজনীতির মত বিষয়ের পথ আটকে ধরবে. যার পরবর্তী গভীর দুঃখের ফল সকলেরই জানা.    কিছু বিশ্লেষক অবশ্য বিশ্বাস করেন যে, এই শুল্ক সংঘের উত্পত্তি সোভিয়েত জমানার খুবই শক্তিশালী শিল্প সংযোগ কে আবার চাঙ্গা করে তুলবে, কিন্তু অন্য দিকে তাঁরা আশংকা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে বিশ্বের থেকে এক ধরনের আলাদা হয়ে যাওয়া ঘটতে পারে, যা দেখা গিয়েছিল সোভিয়েত অর্থনীতিতে. যাই হোক না কেন, রাশিয়া, বেলোরাশিয়া, কাজাখস্থান নিজেদের দেশে কেউই বাইরের দেশ থেকে আসা জিনিস বা বিনিয়োগের রাস্তা বন্ধ করবে না. শুধু এই দেশ গুলিতে যা বাইরে থেকে আসবে, তার শুল্ক একই রকমের হবে, তাতে কিছু ব্যতিক্রম থেকেই যাচ্ছে, যেমন মোটর গাড়ী. সাধারন লোকেদের এর পর থেকে আভ্যন্তরীন সীমানাতে শুল্ক বিভাগের খুবই সামান্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়তে হবে, ফলে খরচ কম হবে ও দ্বিপাক্ষিক জিনিস বিনিময়ে আর তা নথি ভুক্ত করতে বেশী সময় লাগবে না. যে কোন ব্যক্তি এর পর থেকে তার পাশের সংঘ ভুক্ত দেশ থেকে ৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত জিনিস আনতে পারবে. এ ছাড়া তিন দেশের লোকেরাই এই শুল্ক সংঘের দেশের বাইরে বিদেশী মুদ্রা নিয়ে যেতে পারবে একই রকমের আইন অনুযায়ী.     রাশিয়ার লোকেদের জন্য বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থানে তৈরী জিনিসের দাম কমবে, স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের সম্বন্ধে অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের উপ প্রধান ভ্লাদিমির ঝারিখিন বলেছেন:    "অন্যান্য পরিবর্তনও হবে, কিন্তু তা সোজা নয়. যেমন, শুল্ক সংঘের দলিলের বিষয় গুলি কার্যকরী হতে শুরু করলে শুল্ক বিভাগের দপ্তরের সংখ্যা কমবে, অর্থাত্ প্রত্যেকেই যারা কর দিচ্ছেন, তাদের এই বিভাগের দপ্তরের জন্য কম অর্থ দিতে হবে. তিনটি দেশের শিল্পের মধ্যে সমাকলন শুরু হয়ে যাবে, আর সব মিলিয়ে এক্ষনই না হলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা ভাল মানের কম দামী জিনিস পেতে শুরু করব, যার ফলে বহু দূরের দেশ গুলি থেকে আমদানী কমবে. যদিও আগামী বছরের মধ্যেই আমরা হয়ত বা এই পরিবর্তন ততটা নিজেদের উপর দেখতে পাবো না, তবে ভবিষ্যতে এই ঘটনা তিনটি দেশেরই জনগনের জীবন যাত্রার মান উন্নত করবে".    এর পর আসছে তিনটি দেশের ঐক্য বদ্ধ অর্থনৈতিক এলাকা হওয়া, যা আগামী ২০১২ সালে হতে চলেছে, এর ফলে আরও গভীরের সমাকলন হবে, যার ভিত্তি হবে সহযোগী দেশ গুলির অর্থনৈতিক রাজনীতির সম্বন্ধে একদেশ দর্শিতা. এই ধরনের সমাকলনের মধ্যে রাশিয়া, বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থানে বহু জিনিসের একই দাম হবে, তার মধ্যে খনিজ তেল ও থাকবে. আপাততঃ যৌথ অর্থনৈতিক এলাকা প্রকল্প হিসাবেই রয়েছে, তাজিকিস্থান ও কিরগিজিয়ার প্রধানেরা যাঁরা ইউরো এশিয়া সহযোগিতা সংঘের সদস্য ও আস্তানা শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে এসে ছিলেন, তাঁরাও ঘোষণা করেছেন যে, খুবই মনোযোগ দিয়ে শুল্ক সংঘে যোগদানের কথা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে তাঁদের দেশেও.