সুদূর প্রাচ্য সফরের শেষ ভৌগলিক বিন্দু ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছেই বিমান বন্দর থেকে সোজা রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এই খানের ডায়নামো স্টেডিয়ামে চলে গিয়েছিলেন, সেখানে তিনি ভ্লাদিভস্তকের ১৫০ বছর উপলক্ষে এক জলসা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন. দ্বিতীয় দিনে রাষ্ট্রপতি ছিলেন সমুদ্রে. আমাদের বিশেষ সংবাদদাতা আন্দ্রেই গ্রিবানভ এই দিনটির সম্বন্ধে বিশদ করে জানিয়েছেন.    দেশের সামরিক সর্বাধিনায়ক হিসাবে রাষ্ট্রপতির এই খানে আয়োজিত বিশাল সামরিক মহড়াতে অংশ গ্রহণ বিষয়টির গুরুত্ব বাড়িয়েছে. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার জন্য "পূর্ব দিক – ২০১০" নামে এক মহড়া আয়োজন করেছে. এই বিষয়ে আজ রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ সামরিক বাহিনীর পদাতিক, বিমান ও মহাকাশ এবং নৌবহরের কম্যাণ্ডার দের সঙ্গে এক অধিবেশনে ঘোষণা করেছেন, এই অধিবেশন হয়েছে বিশাল পারমানবিক রকেট বাহী যুদ্ধ জাহাজ "মহান পিওতর" এর উপরে. এই বছরের সবচেয়ে বড় মহড়ার উপর রাষ্ট্রপতি তাঁর সুদূর প্রাচ্য সফরের সময়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন. দিমিত্রি মেদভেদেভ একই সঙ্গে আডেন উপসাগরে ১৬ জন নাবিককে "মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়" নামে ট্যাঙ্কার জলদস্যূদের হাত থেকে উদ্ধার করার জন্য পুরস্কার দিয়েছেন. মে মাসে এই ট্যাঙ্কার কে উদ্ধার করেছিল "মার্শাল শাপোশনিকোভ" নামের জাহাজ বিধ্বংসী যুদ্ধ জাহাজের নাবিকেরা. এই কাজ করা হয়েছিল আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলে জলদস্যূদের হাত থেকে অসামরিক জাহাজ দের নিরাপত্তা রক্ষার কাজের সময়ে. তিনি এখানে নাবিকদের প্রতিদিনের জীবন কি রকম কাটে তার খোঁজ নিয়েছেন, নিজে ছবি তুলেছেন ও জাহাজের উপরে সৈন্যবাহিনীর প্রধান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশও নিয়েছেন. মহান পিওতর এর মতো বিশাল যুদ্ধ জাহাজ দেশের নৌবহরের সাথে শীঘ্রই যুক্ত হতে পারে. সুদূর প্রাচ্যের সফরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা শীর্ষ বৈঠকের জন্য নির্মীয়মাণ জায়গা গুলি পর্যবেক্ষণ করেছেন, এখানে আগামী ২০১২ সালে এই অধিবেশন হতে চলেছে. একটি স্টীমারে চড়ে প্রথম যে জায়গা টিতে রাষ্ট্রপতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলেন, সেটি ছিল মহান পিওতর উপসাগরে সোনার শৃঙ্গ বদ্বীপ হয়ে সেতু ও রাস্তা. এই সেতু পথে সবচেয়ে কম সময়ে শহরের কেন্দ্র থেকে গড়ে ওঠা ভবিষ্যতের উপ নগরী হয়ে রুস্কি নামের দ্বীপে যাওয়ার সেতু অবধি পৌঁছনো যাবে. রাষ্ট্রপতি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে সুদূর প্রাচ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন তৈরী হতে যাওয়া ভবন গুলি দেখেছেন, কথা আছে যে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা শীর্ষ বৈঠকের অধিবেশনের সময়ে এই ভবনের পড়া শোনার জন্য তৈরী হওয়া হল গুলিতে অধিবেশনের প্রধান অনুষ্ঠান গুলি হবে, আর ছাত্রাবাস গুলিতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের রাখা হবে.      এই ভাবেই রাষ্ট্রপতির সুদূর প্রাচ্য সফর শেষ হয়েছে, এরপর তিনি চলে গিয়েছেন কাজাখস্থানের রাজধানী আস্তানা শহরে, সেখানে কাজাখস্থানের রাষ্ট্রপতি নুর সুলতান নাজারবায়েভ এবং বেলোরাশিয়ার রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত্কার হবে. আগামীকাল এখানে তিনি শুল্ক ঐক্যবদ্ধ অঞ্চল সংক্রান্ত ত্রৈদেশীয় কিছু দলিলে স্বাক্ষর করবেন বলে জানা গিয়েছে.