মস্কো ও রাশিয়ার প্রতীক রেড স্কোয়ারে বিরাট মেরামতের কাজ হতে চলেছে, এই বছরের শেষের মধ্যেই তা শুরু হবে. এখানের বিখ্যাত পাথরের চক পাল্টাতে গিয়ে আগামী বছরের সামরিক কুচকাওয়াজ বন্ধ করা হতে পারে, যা হওয়ার কথা ৯ই মে ২০১১.এই বছরের বসন্ত কালেই রেড স্কোয়ারের অংশ বিশেষে মেরামত শুরু হয়ে গিয়েছিল. আর তারও কিছু নির্দিষ্ট জায়গা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে. আলেকজান্ডার বাগানের কাজ শেষ হয়েছে. রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগের সম্পাদক ভিক্তর খ্রেকভ জানিয়েছেন:"৯ই মে বিজয় দিবসের আগে সেখানে সেনা বাহিনীর গৌরব মণ্ডিত শহর গুলির স্মারক ফলক লাগানো হয়েছিল. চিরন্তন অগ্নি শিখা ঘিরে যে গ্র্যানাইট পাথরের আবরণ ছিল তা গত চল্লিশ বছরে এই স্মৃতি সৌধ খোলার পর থেকে রোদে জলে অনেকটাই খারাপ হয়েছিল, তাই তা আগে সারানো হয়েছে প্রচুর পাল্টে ফেলে".যে সমস্ত লোকেরা আজ আলেকজান্ডার বাগান বেড়াতে আসেন, তারা কোন তফাত দেখতে পান না, কারণ বাইরের দিকটা একই রকম রাখা হয়েছে, রেড স্কোয়ারেও তাই সমস্ত কিছু একই রকম করা হবে, তার যাবতীয় স্থাপত্য ইউনেস্কো সুরক্ষার ব্যবস্থা করে থাকে. রেড স্কোয়ারের শুধু পাথরের চক পাল্টে ফেলা হবে, খ্রেকভ বলেছেন:"বিখ্যাত পাথরের ইঁট ঢেউ খেলানো – তাতে অনেক উঁচু নীচু রয়েছে, এবারে লক্ষ্য হল তা ঠিক করা, তার নীচে নতুন স্তর আস্তরণ দিতে হবে, তারপর নতুন করে পাথর বাঁধাই করতে হবে, এই কাজ করতে গিয়ে কিছু পাথর হয়ত খারাপ বলে ফেলা হবে, কিছু পুরনো পাথর রেখে দেওয়া হবে".মস্কো ক্রেমলিনের চারপাশে এই বেড়ানোর জায়গা তৈরী হয়েছিল পনেরোশ শতকের শেষে. প্রথমে এখানে বাজার বসত. এই জায়গার সবচেয়ে পুরনো নাম ত্রইত্স্কায়া, কারণ এখানে মস্কো নদীর উপরে খাড়া চড়াই এর মাথায় পবিত্র ট্রিনিটি গির্জা ছিল. এখন সেখানে পবিত্র ভাসিলি নামের গির্জা রয়েছে. সতেরোশ শতাব্দীতে এই জায়গার নাম দেওয়া হয়েছিল ক্রাসনায়া বা রেড স্কোয়ার, কিন্তু তা শুধুমাত্র এই জায়গা সুন্দর বলে নয়. কারণ ছিল এই স্কোয়ারের শেষ হয়েছিল প্রাসাদের প্রধান বা লাল দিকে. ১৮০৪ সালে এই স্কোয়ারের মাঠে পাথর বাঁধানো হয়, আর সোভিয়েত দেশের সময়ে এখানে সৈন্য বাহিনী এবং শ্রমিক, কৃষকদের মিছিল ও সামরিক সাঁজোয়া গাড়ীর মিছিল আয়োজন করা শুরু হয়েছিল. গত শতকের তিরিশের দশকে খোয়া পাথর সরিয়ে নিয়ে এই স্কোয়ারে নদীর থেকে তোলা পলি মাটি আর চুনা পাথর দিয়ে আস্তরণ করে তার ওপরে বিশেষ রকমের ছবির অনুকরণে এক ওনেগা পাহাড়ের আগ্নেয় গিরির খোয়া পাথর দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল. এই পাথরে উপর দিয়ে কুচকাওয়াজ করেই ৭ই নভেম্বর ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিকরা যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন. আবার এখানেই ২৪ শে জুন ১৯৪৫ বিজয়ের প্যারেড হয়েছিল.১৯৭৪ সালে কংক্রীট ঢালাই করে তার ওপরে পাথর বসানো হয়েছিল. এখন আবার বিশেষজ্ঞরা তৈরী হচ্ছেন কি করে পাথর বদলানো হবে, তা ঠিক করতে. কতটা এতদিনে ক্ষয় হয়েছে, তা দেখে কি কাজ করতে হবে তা ঠিক করছেন, তবে কাজ কবে থেকে শুরু হবে, তা ঠিক করা হয় নি. খ্রেকভ বলেছেন:"মনে হচ্ছে বছর শেষের আগেই কাজ শুরু করা যাবে, বোধহয় ছয় মাস থেকে এক বছর লাগবে সব কাজ শেষ হতে. কিন্তু এই পুরো সময়টাই রেড স্কোয়ার বন্ধ থাকবে না. কারণ সমস্ত মস্কোর লোক এবং এই শহরে আসা পর্যটক দের সামনে রেড স্কোয়ার বন্ধ করে রাখার মত ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস কারোরই নেই. আশা করছি আগামী বছরের শেষের আগেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে".তবে মে মাসে সারা রাশিয়ার জন্য পবিত্র দিনে প্যারেড হবে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না. এই পাথর পাল্টানো হয়ত ৯ই মে ২০১১ সালের প্যারেড হতে দেবে না, কিন্তু তা বোঝা যাবে, যখন সারানোর কাজের সময় সম্বন্ধে শেষ অবধি জানা যাবে.