রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দাবী করেছেন যে, জমি, বাড়ীর উপর কর আদায়ের নতুন আইন যেন দ্রুত তৈরী করা হয়ে যা. এই আইনে কর আদায় করা হবে জমি, বাড়ীর বাজার দরের উপর ভিত্তি করে. এই নতুন ধারণা দেশের জনগনের মধ্যে খুবই অনিশ্চয়তার আশংকা উত্পন্ন করেছে, বিশেষত যাদের রোজগার কম.     পুরো কর আদায়ের কথা উঠেছিল বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই, কিন্তু এখনও সরকার চিন্তা করে চলেছে কি করে এই কাজ করা যায়, কারণ জানে না করের পরিমান কতটা হবে. এখন একটা পদ্ধতি রাশিয়ার নানা অঞ্চলে চালু করে দেখা হচ্ছে, য়েখানে জমির দাম, বাড়ীর দাম মূল্যায়ণ করে দেখা হচ্ছে জনতাকে নিজেদের বাড়ী, জমির জন্য কতটা কর দিতে হবে. এই নতুন কর স্থানীয় প্রশাসনের জন্য ভাল একটা আয়ের উপায় হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন. কিন্তু এখানে প্রথমেই আশংকা করা হয়েছে যে, এর ফলে গরীব লোকেদের উপর এই কর বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে কি না. তার ওপরে পেনশন পাওয়া লোকেদের জন্য কি হবে. এই প্রশ্নের উত্তরে রাশিয়ার লোকসভার নির্মাণ ও জমি সম্পর্কিত বিভাগের সদস্যা গালিনা খভানস্কায়া বলেছেন:    এই কর বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় করা হয়ে থাকে তার থেকে প্রথমেই আলাদা হবে যে, এটা জাতীয় না থেকে স্থানীয় হবে এবং স্থানীয় পুর সভার প্রায় নিঃস্ব বাজেট ভরতুকি দেবে, কারণ বেশীর ভাগ পুর সভাই কাজ করে কেন্দ্রের দয়ায়. যা কোন মতেই চলতে পারে না. আজকের দিনে এই রাজস্ব রাষ্ট্রীয় ভাবে নেওয়া হয়ে থাকে এবং পেনশন পাওয়া লোকেরা এর থেকে মুক্ত. কিন্তু তা যখন স্থানীয় হয়ে দাঁড়াবে, তখন সমাজের কম সুরক্ষিত স্তরের লোকেরা তা দেবেন কি না, ঠিক করবে স্থানীয় প্রশাসন.    গালিনা খভানস্কায়া বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, বাস্তবে এই ধরনের উদ্যোগ ঠিক এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে তা চালু রয়েছে কিন্তু তিনিও আশংকা করেছেন যে, রাশিয়াতে তার একটা হঠাত্ করে নতুন দিক খুলে যেতে পারে.    এই রকম কর ব্যবস্থা চালু করা খুব কঠিন, কারণ ধারণা ঠিক হলেও তা কি করে বাস্তবায়ন করা হবে তা জানা নেই. অনেক সময় যা আগে ভাবা হয়, তা এমন ভাবে কাজে পরিনত করা হয়ে থাকে যে, তার ফল খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়. যেমন ধরা যাক, নানা রকমের ছাড় ব্যবস্থাকে বদলে তার জায়গায় অর্থ দেওয়া শুরু করা হয়েছিল, ধারণা খুবই ঠিক, কিন্তু তা এমন ভাবে করা হল যে, লোকে রাস্তায় বের হয়েছিল বিক্ষোভ জানাতে. একই রকমের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে ইচ্ছা হয় না.    গালিনা খভানস্কায়া মত প্রকাশ করেছেন যে, দামী জায়গার বড় ফ্ল্যাটের মালিকেরা এর জন্য ভুগতে পারেন, এখানেও এমনিতে সব ঠিক, অর্থ আছে – তাহলে কর দাও. কিন্তু এমন সব অবস্থা হয় যে, এই সব বাড়ীতে বৃদ্ধরা থাকেন, তাঁদের পেনশন কম, কর দিতে গেলে না খেয়ে থাকতে হবে, যেমন, মস্কোর কেন্দ্রের বহু ফ্ল্যাটের দশা. যেখানে স্কোয়ার মিটার জমির দাম আকাশ ছোঁয়া, কিন্তু যিনি থাকেন তিনি নিঃস্ব. সে ক্ষেত্রে কি করা যায়? এই সব প্রশ্নে আপাততঃ উত্তর নেই, তবে প্রশাসনকে তা পেতে হবে যথা সম্ভব দ্রুত, কারণ নতুন কর রুশ লোকেদের বলা হয়েছে আগামী বছর থেকেই শুরু হবে. কিন্তু এখনই একটা জিনিস বোঝা যাচ্ছে যে, দামী বাড়ীর কর বাড়বে, ধারণা হিসাবে সঠিক, কারণ দামী বাড়ীতে যারা থাকে, তারা বেশী কর দিতে বাধ্য, যারা সস্তা বাড়ীতে থাকে তাদের চেয়ে. একই সঙ্গে সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে, বেশীর ভাগ দেশের লোকের জন্যই এই করের পরিমান বর্তমানের মাত্রার চেয়ে কম হবে, কারণ সরকার সব মিলিয়ে যত কর আদায় হয়, তার থেকে বেশী আয়ের পরিকল্পনা করে নি. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন উপ অর্থমন্ত্রী সের্গেই শাতালভ.