বলা হয়ে থাকে যে, এক ফোঁটা আলকাতরা এক কলসী মধু খারাপ করে দিতে পারে. ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্থান থেকে আসা একদল সন্ত্রাসবাদী তার আগে প্রায় চার বছর ধরে চলা ভারত ও পাকিস্থানের দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি পূর্ণ সম্পর্ক বিন্যাসের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছিল. যদিও পাকিস্থানের সরকার সন্ত্রাসবাদীদের সমালোচনা করেছে, তবুও ভারতের পক্ষ থেকে শান্তি প্রয়াস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, দুই দেশের সম্পর্ক আবার খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল. ফল হয়েছিল কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর উত্তেজনা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল, যা সদ্য শুরু হয়েছিল আর আগের মতো দুই দেশের মধ্যে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল.বিষয়টিকে বিশদ করে বলেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.    আবারও সন্ত্রাসবাদীদের লক্ষ্য একই, তারা চায় না জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি আসুক, ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে সম্পর্ক ভাল হোক, তাই শ্রীনগর ও সোপর শহরে তারা দোকান জ্বালিয়ে দিচ্ছে, পুলিশের ভ্যান জ্বালাচ্ছে, রাস্তা ঘাটে গাড়ী লুঠ করছে. এই কয়েকদিন আগেই মনে হচ্ছিল আবার সব ঠিক হতে চলল বুঝি, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব গিয়েছিলেন পাকিস্থানের পররাষ্ট্র সচিব সালমান বশির এর সঙ্গে দেখা করতে, এমন কি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পি চিদাম্বরম গিয়েছিলেন পাকিস্থানে সেখানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে একসাথে সন্ত্রাসের মোকাবিলার বন্দোবস্ত করার জন্য. কিছু পরে জানা গিয়েছিল পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রী শেখ মাহমুদ কুরেশী তাঁর ভারতীয় সহকর্মী পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. এম. কৃষ্ণকে ডেকেছিলেন ইসলামাবাদে সফরে আসার জন্য. এই মাসের মাঝামাঝি এই সফর হওয়ার কথা.    এই বিষয়ে ভারত বিদ ও প্রাচ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের ডিরেক্টর তাতিয়ানা শাউমিয়ান কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছেন:    "বোধহয় সেই সমস্ত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ও ঐসলামিক চরমপন্থী যারা কাশ্মীরে গন্ডগোল বাঁধিয়েছে, তারা নিশ্চয়ই পাকিস্থানের সরকারের হুকুমে কাজ করছে না. নিজেদের খুশী মতই সব করছে. তারা চায় যাতে ভারত পাকিস্থানের সম্পর্ক কিছুতেই ভাল না হয়, আগামী সফর যাতে বাতিল হয় ও কোন রকম দলিল যাতে দ্বিপাক্ষিক ভাবে স্বাক্ষরিত না হয়. তারা ভয় পেয়েছে , যে সম্পর্ক ভাল হলে তারা পাকিস্থানের ভেতরে নানা রকমের ঘাঁটি বানিয়ে এত দিন ধরে যে সব কাজকর্ম পাকিস্থান থেকে এসে কাশ্মীরের মাটিতে করে যাচ্ছিল, তা বন্ধ হবে ও ভারত পাকিস্থানের মধ্যে বিরোধকে উস্কে দিয়ে যে ধরনের সাহায্য পাচ্ছিল তা আর পাবে না".    এই সম্বন্ধে ভারতের টাইমস অফ ইন্ডিয়া কাগজও লিখেছে, ভারতের সরকার মনে করে যে, পাকিস্থানে ঘাঁটি গেড়ে বসা বিচ্ছেদ বাদী লোকেরাই এই সন্ত্রাস চালাচ্ছে, যাতে জম্মু কাশ্মীরে পরিস্থিতি খারাপ হয়, তার ফলে ইসলামাবাদে অধিবেশন বাতিল হয়. সংবাদ পত্রের মতে দশ জনেরও বেশী লোক এর মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে মারা গিয়েছে, পুলিশকে মিছিল কারী দের হঠিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাস ও আকাশে গুলি ছুঁড়তে হচ্ছে, সোপর ও শ্রীনগরে এমন কি জরুরী অবস্থা জারী করতে হয়েছে.    কাশ্মীর সমস্যা সমাধান না হওয়াতে ভারত ও পাকিস্থানের সম্পর্ক শুধু খারাপই হয়েছে, তিনটে যুদ্ধের মধ্যে দুটি হয়েছে কাশ্মীরের জন্য. তাই সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছেদ বাদীরা যে এই গন্ডগোল বাঁধিয়েছে, তা বাতিল করা যায় না ও তারা চায় ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে সম্পর্ক যেন কখনোই ভাল না হয়, আর শান্তি আলোচনা যেন আবার শুরু না হয়.