রাশিয়াতে ভাসমান আণবিক শক্তি উত্পাদন কেন্দ্র তৈরীর কাজ বাস্তবায়িত হতে চলেছে সাফল্যের সাথে. আজ ৩০ শে জুন সেন্ট পিটার্সবার্গে বাল্টিক কারখানা থেকে ভাসমান রিয়্যাক্টর জলে ছাড়া হচ্ছে, যা বিশ্বের প্রথম ভাসমান আণবিক তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র অ্যাকাডেমিক লোমনোসভের প্রধান অঙ্গ.আফ্রিকান্তভার নামে উত্সর্গ করা যন্ত্র বানানোর পরিকল্পনা ব্যুরো যারা রিয়্যাক্টরটি তৈরী করে দিয়েছে তাদের প্রতিনিধি আলেকজান্ডার বেরেনজন উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের ছোট আণবিক শক্তি উত্পাদন কেন্দ্রের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে যেমন নতুন পারমানবিক রিয়্যাক্টর তেমনই আণবিক জেনারেটর গুলি, যা আগে বরফ ভেদী জাহাজের জন্য বানানো হয়েছিল. তিনি বলেছেন:"এই রিয়্যাক্টর যা বর্তমানে এই ভাসমান কেন্দ্রে রয়েছে, তা এক রকম ভাবে খুবই অন্য রকমের. আবার এর ভিত্তি নেওয়া হয়েছে বহু পরীক্ষিত জাহাজের রিয়্যাক্টরের থেকে. এই ধরনের জেনারেটর রাশিয়ার পারমানবিক বরফ ভেদী জাহাজ গুলিতে গত পঞ্চাশ বছর ধরে চলেছে. আপনারা যেমন জানেন যে, আমাদের দেশের বরফ ভেদী জাহাজের দল – বিশ্বে একমাত্র. আর এই পরীক্ষিত প্রযুক্তিই আমরা ব্যবহার করেছি নতুন ভাসমান অ্যাকাডেমিক লোমনোসভের নামে উত্সর্গ করা পারমানবিক তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রে".    বাস্তবে এটি বর্তমানে বিশ্বে একমাত্র ভাসমান পারমানবিক কেন্দ্র, বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞ. এই রিয়্যাক্টর থেকে বিদ্যুত শক্তি, তাপ ও পরিশ্রুত জল পাওয়া যাবে. এর প্রতি রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্থা ও বহু দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে. সকলেই তৈরী হওয়ার পরে দেখতে চেয়েছে. আর তাই আজ তা সেন্ট পিটার্সবার্গের বাল্টিক কারখানাতে দেখানো হচ্ছে.     "এই কেন্দ্রের বিশেষ গুণ হল তা খুবই ভাল রকমের চলমান তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র. জলপথে একে যেখানে খুশী নিয়ে যাওয়া যায়. যেখানে কোন একটা তীর আছে. এটা যেমন আমাদের দেশের সুদুর উত্তরের বা প্রাচ্যের বহু দূরের কোন জায়গা হতে পারে, তেমনই ভাবে দক্ষিণের কোন দেশও হতে পারে, যারা পরিশ্রুত জল এবং শক্তির অভাবে কষ্ট পাচ্ছে, কারণ এই তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রকে আবার জল পরিস্কার করার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে".    যদি পারমানবিক কেন্দ্র তৈরী করার জন্য সাধারণতঃ অনেক খানি জায়গা লাগে ও ভূমিকম্প প্রবণ জায়গায় খুবই শক্ত ভিত তৈরী করতে হয়, তবে ভাসমান পারমানবিক কেন্দ্র তৈরী করা যেতে পারে শুধু জাহাজ তৈরীর কারখানাতে, একটা জাহাজ তৈরী করার মত করে. কারখানা থেকে একেবারে টার্ন কি প্রকল্প হিসাবে একটা জাহাজ বেরিয়ে আসে, তা যেখানে খুশী বেঁধে রাখা যায়. এর সবচেয়ে বড় বিষয় হল বিদ্যুতের দাম পড়ে স্থলের পারমানবিক কেন্দ্রের চেয়ে দুই তিন ভাগ কম. কারণ গ্রাহক কে এর জন্য শুধু ট্রান্সফর্মার স্টেশন ও সুরক্ষার ব্যবস্থা টুকু করলেই চলে, অন্য কোন খরচ নেই. এর কাজ শেষ হলে বিশেষ জাহাজ ভাঙ্গার কারখানাতে একে পাঠিয়ে দিলেই হয়, অর্থাত সবুজ মাঠ নামের ধারণা কার্যকরী হচ্ছে – তাই পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য তা বেশ আকর্ষণীয়. সমস্ত পারমানবিক শক্তির উত্স আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তৈরী করা সুরক্ষা ব্যবস্থা অনুযায়ী এখানেও বানানো হয়েছে.     দুটি তিনশ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ভাসমান পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র যথেষ্ট হতে পারে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ লোকের একটি শহরের সমস্ত শক্তি চাহিদা মেটানোর জন্য. ছোট কোন জনপদের জন্য ছয় মেগাওয়াটের রিয়্যাক্টর যথেষ্ট.    আজ যে ভাসমান রিয়্যাক্টর জলে ছাড়া হচ্ছে তার ডেক একেবারে সমতল ও নিজে চলতে পারে না, তাতে দুটি বরফ ভাঙ্গা জাহাজের মত রিয়্যাক্টর রয়েছে. সেটি ১৪৪ মিটার লম্বা ও ৩০ মিটার চওড়া, ওজন ২১.৫ হাজার টন. প্রতিটি রিয়্যাক্টরের ক্ষমতা ৩৫ মেগাওয়াট, তাপ উত্পাদন ক্ষমতা ১৪০ গিগা ক্যালোরির. এই ধরনের কেন্দ্র ব্যবহার যোগ্য থাকে ৩৮ বছর.