রাশিয়ার সুদূর পূর্বে ২৯শে জুন এক বিশাল "পূর্ব দিক" নামের মহড়া শুরু হয়েছে. এতে অংশ নিয়েছেন দেশের সমস্ত রকমের সৈন্য বাহিনী. তিনটি নৌবহরের জাহাজ, দুটি সামরিক অঞ্চলের পদাতিক বাহিনী, বহু সহস্র প্যারাট্রুপার, বহু বিমান বহরের বিমান জাপান উপসাগরের সমুদ্রে ও পারে হাজির হয়েছে. এই মহড়ার জন্য যে আয়োজন করা হয়েছে, তা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা পাওয়ার যোগ্য.রাশিয়ার নতুন ইতিহাসে আজ যা শুরু হতে চলেছে, তার কোন তুলনা হয় না. যেমন এখানে কৃষ্ণ সাগর, প্রশান্ত মহাসাগর ও উত্তর নৌবাহিনীর তিনটি নৌবহরের সমস্ত জাহাজের নেতৃত্ব দেওয়া তিনটি পতাকা বাহী বিশাল জাহাজের দল এসেছে, এদের মধ্যে কয়েকটি কিছুদিন আগে ভারত মহাসাগরে জলদস্যূ মোকাবিলার কাজে যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে. রকেট বাহী জাহাজ "মস্কোর" কম্যাণ্ডার সের্গেই ত্রোনেভের কথা মতো, নাবিকদের জন্য এই রকমের সার্ভিস দেওয়ার রুটিন – সবচেয়ে ভাল মহড়া. তিনি বলেছেন:"সমুদ্রের প্রতিটি অভিযানই তার কাজের চাপ ও যুদ্ধের কাজকর্মের জন্য আলাদা রকমের হয়. কারণ শুধুমাত্র সমুদ্রেই নাবিক শিখতে পারে সেই সমস্ত কাজ, যা দরকার. জাহাজ তৈরী করা হয়েছে সমুদ্রে চলার জন্য, তার কাজ কখনোই বন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা হতে পারে না".নাবিকদের সঙ্গে এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন সমুদ্রের পদাতিক বাহিনী, বিগত কিছু কাল ধরে তাদেরও যথেষ্ট কাজের চাপ ছিল. রাশিয়ার জলদস্যূ মোকাবিলা করা একটি বাহিনীর কম্যাণ্ডার আরতিওম ফিলাতকিন বলেছেন অসামরিক জাহাজের বিপদে পড়া নাবিকদের রক্ষার কাজ শুধুমাত্র আডেন উপসাগরেই করতে হয়না. ফিলাতকিন বলেছেন: "ন্যাটো জোটের দেশগুলির সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের প্রশিক্ষণের কাজে বহু রকমের অভিজ্ঞতা জড় হয়েছে, আর আমাদের সৈন্যরা বহু সময়েই কৃষ্ণ সাগরের নৌবাহিনীর যুদ্ধের কাজে অংশ নিয়েছে".    বর্তমানের যুদ্ধের মহড়া বিমান বাহিনীর অংশ নেওয়া ছাড়া ভাবাই যেতে পারে না. এবারে সমস্ত ধরনের বিমানকেই কাজে লাগানো হয়েছে: ফাইটার প্লেন, বোমারু বিমান, ডেস্ট্রয়ার, রকেট বাহী প্লেন সবই. তারা পদাতিক ও নৌবাহিনীর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ ভাগ করে নিয়েছে, বিমান বাহিনীর ঘাঁটির ডেপুটি কম্যাণ্ডার মিখাইল ম্যাক্সিমভ বলেছেন যে, বহুদিন হল পাইলটেরা এত নানা রকমের কাজ একসাথে করেন নি. তাঁর মতে:    "গত ১৫ বছরের মধ্যে এত বড় মাপের মহড়া হয় নি, এত এরোপ্লেন অংশ নিচ্ছে যে, এর জন্য বেশ কয়েকদিন লেগেছে সমস্ত গুলিকে জায়গায় পাঠাতে".    মহড়ার জায়গায় পৌঁছনোর পথে এক অতুলনীয় অপারেশন করা হয়েছে, রাশিয়ার এস ইউ – ২৪ নামের বোমারু বিমান গুলি হল্ট না করে দেশের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকের ঘাঁটি পর্যন্ত উড়ে গিয়েছে, এর জন্য দুবার আকাশেই তাদের জ্বালানী ভরতে হয়েছে. এর আগে কখনো এত ক্ষণ তাদের উড়তে হয় নি – আট হাজার কিলোমিটারেরও বেশী পথ. সুদূর পূর্বে দুটি নতুন ফাইটার বোমারু বিমান উড়ে এসেছে – এস ইউ – ৩৪.    যুদ্ধের মহড়ার জন্য শুধুমাত্র অন্তরীক্ষেই তৈরী হয় নি, জলেও তা হয়েছে. এ ছাড়া সম্ভাব্য শত্রুর অগ্নি বর্ষণের মধ্যেই তাদের জন্য আগে থেকে ঠিক করা কাজ করবে রেল পথের সেনা বাহিনী, রসদ যোগানোর জন্য বাহিনী, অন্তরীক্ষ প্রতিরক্ষা বাহিনী ও আরও অনেক ধরনের পরিষেবা. বড় মাপের মহড়ার জন্য সাময়িক ভাবে সেনা বাহিনীতে যুক্ত সৈন্য ও যারা চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেনা বাহিনীতে রয়েছেন, তারা কতটা তৈরী তার মূল্যায়ণ করে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার সেনা বাহিনীর উপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দিমিত্রি বুলগাকভ সাইবেরিয়াতে হয়ে যাওয়া মহড়ার পর বলেছেন:    "এটাই হল শিক্ষা, যেখানে সব কিছু মসৃণ ভাবে হতে পারে না, আমরা লোকেদের জন্য সেই সমস্ত পরীক্ষা তৈরী করে থাকি, যাতে তারা নিজেরাই ভাবতে বাধ্য যে, কি করে পার হওয়া যায়. যদি প্রশ্ন ওঠে যে, সৈন্যরা তাদের সামনে রাখা কাজ করতে পারে কি পারে না, তবে পরিস্কার করে জানিয়ে দিতে হবে যে, তাদের সন্তোষ জনক প্রশিক্ষণ হয়েছে বলে মূল্যায়ণ করা হয়েছে. এই সন্তোষ জনক মূল্যায়ণের মানে হল যে, তারা সামনে দেওয়া মহড়ার পরীক্ষা পাশ করতে পারে".    এই "পূর্ব দিক – ২০১০" এর প্রশিক্ষণে সামরিক বাহিনীর নতুন সাংগঠনিক কাঠামোরও পরীক্ষা হবে. কম্যাণ্ডার দের সামনে যে কাজ রাখা হয়েছে তা খুবই উচ্চাশা নিয়ে, তাদের প্রমাণ করতে হবে দেশের প্রশাসনের কাছে যে, গত তিন বছর ধরে সামরিক বাহিনীর কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে সামরিক বাহিনী আমূল পরিবর্তিত হয়েছে ও বর্তমানে সর্বাধুনিক ব্যবস্থায় রয়েছে. আর আমাদের অফিসারেরা আধুনিক কালের যুদ্ধের জন্য সমস্ত রকমের সেনা পরিচালনা করার কাজ জানেন. স্থলে, অন্তরীক্ষে, জলে এমনকি মহাকাশেও.