রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রথম বিশ্বের বিভিন্ন গরীব দেশকে জি – ৮ সংস্থার আওতায় রাশিয়া যে সব ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে তার এক ব্যাখ্যা সমেত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে.    গত ছয় বছরে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই সাহায্যের পরিমান দেড় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, তার মধ্যে সঙ্কটের ২০০৯ সালে মস্কো তার সাহায্য না কমিয়ে উল্টে বাড়িয়েছে. এই বছরে গত বছরের তুলনায় সাহায্য কিছুটা কম করা হবে. কিন্তু মন্ত্রণালয়ের মতে তা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার হয়ে যাবে.    যে সব ক্ষেত্রে রাশিয়া সাহায্য করে থাকে, তা হল স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানী, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা ও শান্তি প্রয়াস.    প্রশ্ন হল অন্য দেশের সমস্যায় অর্থ খরচ করা কতটা যুক্তিযুক্ত, যখন দেশের ভিতরের সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক সময়ই তা কম পড়ে, যে কোন দেশেরই এই রকম সমস্যা আছে, রাশিয়ারও তা আছে. রাশিয়ার বিশ্বের অবস্থানের উপর এর উত্তর নির্ভর করে, যদি দেশ চায় জি – ৮ এর এক সদস্য হতে, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে এই কাজ করতেই হবে, যে রকম অন্য সদস্য দেশ গুলিও করে আসছে.    এই বিষয়ে জাতীয় স্ট্র্যাটেজি পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইওসিফ দিসকিন উল্লেখ করে বলেছেন:     "জি – ৮ দেশের সব সদস্য দেশই নিজেদের জন্য এই দায়িত্ব নিয়েছে, যদি রাশিয়া চায় বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রগতির পথ নির্ধারক হতে এবং বিশ্বের অর্থনীতির গতিবিধির নিয়ম স্রষ্টা দের মধ্যে থাকতে, তাহলে কিছু সমস্যা কাঁধে নিতেই হবে. এই সমস্ত কর্মসূচীতে অংশ নিতেই হবে".    "রাজনৈতিক ভাবে এই বিষয়ের এটা একটা দিক. আরও একটি দিকও আছে তা বিবেক সংক্রান্ত. ইওসিফ দিসকিন নিজের মন্তব্যে আরও যোগ করেছেন যে, এমন সব দেশ আছে, যেখানে ভাল খাবার জল নেই, খুব খারাপ চিকিত্সা ব্যবস্থা, খাবার নেই. আর এই ধরনের গরীব দেশ গুলির সঙ্গে এক হওয়ার প্রচেষ্টা - এটা আমাদের মূল্যবোধের পরিচয় দেওয়ার পথও বটে, আমাদের বিশ্ব গঠন সম্পর্কে যে ধারণা তার প্রচার ও বিশ্বের ন্যায় ধারণার প্রচার করাও বলা যেতে পারে".    শেষমেষ একটি বাস্তব কারণ আছে. গরীব দেশ গুলিতে মানবিক পরিস্থিতি ভাল করে, রাশিয়া নিজেকেও সাহায্য করেছে, প্রতিবেশী দেশ গুলির থেকে কোন সমস্যা আসার পথ রোধ করতে পারছে, খুবই টাটকা উদাহরণ হল – তাজিকিস্থান থেকে রাশিয়াতে পোলিও রোগের পুনঃ প্রবেশ, যেখানে আফগানিস্থান থেকে পোলিও রোগ ঢুকেছে.   গরীব দেশ গুলিতে শিক্ষা বিস্তার করে রাশিয়া নিজের স্বার্থ রক্ষাই করছে, প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের মধ্য এশিয়ার রাজ্য গুলি থেকে বহু লোক রোজগারের আশায় রাশিয়াতে আসছেন, তাই রাশিয়ার জন্য এই সব দেশ প্রাথমিক ভাবে দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে. তারাও জানে যে, কোন রকমের সঙ্কট হলে মস্কো থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে. ইওসিফ দিসকিন বলেছেন:    "কিরগিজিয়াতে মানবিক সাহায্য পাঠানোর কথাই ধরা যাক, এঁরা যে আমাদেরই আগের দেশের লোক, আজ তাঁদের গৃহ যুদ্ধে নিরত করা হয়েছে, তাঁদের খাবার, ওষুধ এই সব দিয়ে সাহায্য তো করতেই হবে. তা না হলে সেখানে মানবিক সঙ্কট হতে বাধ্য".    এ ছাড়া রাশিয়া প্রাক্তন সোভিয়েত দেশে বহুমাত্রিক সাহায্যের এক নতুন ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে – এর জন্য সঙ্কট প্রতিরোধে এক বিশেষ তহবিল "ইউরেশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা" নামে তৈরী করা হয়েছে – এই তহবিলের ১০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সাড়ে সাত বিলিয়ন দিয়েছে রাশিয়া. কিছু দিন আগে এই তহবিল থেকে প্রথম ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাজিকিস্থান দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য বছরে শতকরা এক শতাংশ সুদের হারে ৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে. ২০ বছরের জন্য এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে, এই অর্থ দিয়ে সেই দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামাজিক বিষয়ে কাজ করা হবে, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর তাজিকিস্থানের অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের কাজও করা হবে.