আজ শুক্রবার কানাডার টরেন্টো শহরে জি – ৮ সম্মেলনের প্রথম বৈঠকের দিন, এখানে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি যোগ দেওয়ার জন্য এসেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুবই ঘটনা বহুল এক সাফল্যময় সফর শেষ করে, সেখানে তাঁর আলোচনার বেশীর ভাগই ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রশ্ন নিয়ে.    সমুদ্র পারে যাওয়ার আগেই দিমিত্রি মেদভেদেভ এই অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তিনি বিশেষ করে বলেছিলেন যে, চাইবেন "পুনঃ নবীকরণ" নামের সম্পর্ক উন্নতির সঙ্গে উত্পন্ন ইতিবাচক লক্ষণ গুলির পরে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যেন বাস্তবিক ভাবেই জোয়ার আসে. তাই তিনি তাঁর সফর শুরু করেছেন এবারে ওয়াশিংটন দিয়ে নয়, তার বদলে উচ্চ প্রযুক্তির রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার কেন্দ্র ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির কেন্দ্র সান ফ্রানসিস্কো শহর দিয়ে, সিলিকন ভ্যালি থেকে. এই রকমেরই এক কেন্দ্র রাশিয়ার স্কোলকোভো শহরে গড়ে তোলার কথা হচ্ছে. উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা ছাড়াও এবারে সেই সমস্ত দীর্ঘ আলোচিত বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে, যেমন, রাশিয়ার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাতে যোগদান. আলোচনার ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে.  মেদভেদেভ বলেছেন:  "আমরা আজ সত্যি যৌথ পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি. এই বিষয়ে মূল প্রশ্ন গুলি সবই বিচার করা সম্ভব হয়েছে, কিছু প্রযুক্তি গত প্রশ্ন বাকী রয়ে গেছে, যেগুলির সমাধানে প্রয়োজনীয় গতি দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যাতে আমরা ততটাই দ্রুত এগোতে পারি, যতটা বাস্তবে সম্ভব. আমরা আশা করব, এই বিষয়টি – আজকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের আগেই তা কার্যকরী হয়ে যাবে".রাশিয়া ও আমেরিকার শীর্ষ বৈঠকে আন্তর্জাতিক প্রশ্ন ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এখানে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা, কোরিয়া উপদ্বীপের সমস্যা নিয়ে উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে আলোচনা, নিকট প্রাচ্যের বিরোধের সমাধান সূত্র খোঁজা, কিরগিজিয়ার পরিস্থিতি. দুই দেশের রাষ্ট্রপতিদের স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক রণনৈতিক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত চুক্তি নিয়েও কথা হয়েছে, প্রসঙ্গতঃ দিমিত্রি মেদভেদেভ জানিয়েছেন:    "আমাদের এখনকার কাজ হল দুই দেশের পার্লামেন্ট যাতে এই চুক্তিকে শান্ত ও বোধগম্য ভাবে সমর্থন করে. আশা করব এটা খুব শীঘ্রই হবে. অন্ততঃ রাশিয়ার জাতীয় সভা ও লোকসভাতে এই প্রশ্ন নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে, একই ভাবে আমেরিকার সেনেট ও কংগ্রেসে আলোচনা চলছে. তাই মনে করি যে, এই রকম সক্রিয় আলোচনা সত্যে উপনীত করবে এবং একই সঙ্গে দুই দেশেই সমর্থন মিলবে".    এই সফর শুধু দুই দেশের রাষ্ট্রপতিদের সক্রিয় ভাবে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, উল্লেখ যোগ্য হল বৃহস্পতিবার বারাক ওবামা প্রাতঃরাশ করতে দিমিত্রি মেদভেদেভ কে নিয়ে গিয়েছিলেন রে হেল বার্গার নামে এক ফাস্ট ফুডের কাফেতে, সেখানে তিনি মেদভেদেভ কে খাবার বাছতে সাহায্য করেন ও এমনকি নিজেই বিল মেটান. মেদভেদেভ ভেজিটেবিল বার্গার নিয়েছিলেন চেদ্দের পনীর, টমেটো, পিঁয়াজ, স্যালাড পাতা সমেত, একই আলু ভাজার প্যাকেট থেকে দুজনেই খেয়েছেন. মেদভেদেভ পরে এই সম্বন্ধে বলেন যে, আজ আমি একসাথে রাষ্ট্রপতি ওবামার সঙ্গে এক দারুণ জায়গায় খেয়েছি, এটা একেবারে আমেরিকান জায়গা, হতে পারে যে, তা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল না, কিন্তু দারুণ ভাল স্বাদের, মোদ্দা কথা হল এখানেই আমেরিকার আত্মার দেখা পাওয়া যায়. এরপর রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিরা সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁদের বন্ধুত্ব মূলক সম্পর্কের কথা বলেছেন. মেদভেদেভ ওবামাকে রাশিয়ার প্রতিনিধিদলকে আমেরিকাতে তাঁর সানন্দ আয়োজন ও অতিথি পরায়ণতার জন্য ধন্যবাদ জানান.