রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা স্কোলকোভো প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের আশ্বাস দিয়েছেন, এঁরাই বহু অংশে আমেরিকার সিলিকন ভ্যালির সাফল্যের জন্য ধারণা ও প্রযুক্তির জন্ম দিয়েছেন. অন্ততঃ রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে সান ফ্রানসিস্কো শহরের উপকণ্ঠে সাক্ষাত্কারের সময় তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, নতুন মস্কো উপকণ্ঠের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি শহরকে দাঁড় করাতে তাঁরা সর্বতোভাবে সাহায্য করবেন.মনে হয়, এক সময়ে নিজেদের ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করতে যে সমস্ত রুশ বিজ্ঞানী দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা করার ধারণা বাস্তবায়িত হতে চলেছে. রেডিও রাশিয়ার সমীক্ষক স্ভেতলানা আন্দ্রেয়েভা এই সম্বন্ধে বিশদ করে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে জানিয়েছেন.উচ্চ প্রযুক্তির যুগে ও বিশ্বের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা জায়গায়, সিলিকন ভ্যালির এক কাফে তে ভবিষ্যতের প্রকল্প একটি সাধারন কাগজের রুমালের উপর আঁকা হয়েছিল. স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ প্রফেসরেরা এবং ক্যালিফোর্নিয়াতে কাজ করছে এমন সব বড় কোম্পানী গুলির প্রধানেরা আশাই করতে পারেন নি যে, তাঁদের পক্ষে যে সব বিষয় গুলি নিয়ে চিন্তা করতে হয়েছে, তা এত সহজে দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে. তাই হাতের কাছে যা পাওয়া গিয়েছিল, তাতেই আঁকতে হয়েছে ভবিষ্যতের কাঠামো ও লিখতে হয়েছে ব্যবসার পরিকল্পনা. কিন্তু এটা মাত্র একটা দিক যা নিয়ে এক তরফ তৈরী ছিল না. আলোচনা হয়েছে ইতিবাচক ভাবেই আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল দুই পক্ষই, রাশিয়ার সরকার এবং রাশিয়ার ব্যবসাদার ও ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা তৈরী আছেন এবং একসঙ্গে কাজ করতে চেয়েছেন. আর এটা আমাদের আলোচনার মূল বিষয়, তাই দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:"বাস্তবেই আমরা চাই যে, রাশিয়ার পরিস্থিতিতে বেশীর ভাগ লোক যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁরা যেন ফিরে এসে নিজের মত করে কিছু একটা করতে পারেন. আর সে ক্ষেত্রে অর্থই কারণ নয়. অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ হল পরিবেশ, আর এটা তৈরী করাই সবচেয়ে কঠিন, অনেক সহজ তার চেয়ে দরকারি যন্ত্রপাতি কেনা, অর্থ দেওয়া, বিশ্বের নাম করা বিজ্ঞানী ও ব্যবসাদার দের ডেকে আনা. প্রধান হল, কোম্পানী গুলি যেন গুণগত ভাবে উন্নত উত্পাদন করে. আর তার জন্য দরকার হল মানুষের, ভাল গোষ্ঠীর. কোন সার্বজনীন নির্দেশ নামা নেই, শুধু কাজ করতে হবে, আমরা রাশিয়াতে বিরাট সব ব্যবসা সৃষ্টি করতে শিখেছি, অর্থ খরচ করতে শিখেছি, আর সবার এটা ভালই লাগছে. স্কোলকোভো শহরের সাফল্য শুধু তখনই আসবে, যদি আমরা সকলের চেষ্টা এক করতে পারি. আর তা শুধু সরকারেরই নয়, অবশ্যই সরকার প্রথমে সেখানে অর্থ বিনিয়োগ করবেই, বরং তার সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে এই প্রকল্পের প্রতি ব্যবসায়ী ও বিজ্ঞানীরা কি চোখে দেখবেন". বলা দরকার অর্থের জন্য বেশী অপেক্ষা করতে হয় নি, ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতেই উদ্ভাবনী কেন্দ্র স্কোলকোভো এবং আমেরিকার সিস্কো কোম্পানীর মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তার জন্য সিস্কো স্কোলকোভো তে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চেয়েছে. আর তারাই একমাত্র কোম্পানী নয়, যারা ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক".একই সঙ্গে রাশিয়া ও আমেরিকার সহযোগিতা শুধুমাত্র তথ্য প্রযুক্তির এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই, ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য পালের সঙ্গে রাশিয়ার রেনোভা কোম্পানী এই রাজ্য প্রাচীন রুশ কেল্লা ও পার্ক ফোর্ট রস সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে. সেখানেই প্রশান্ত মহাসাগরের নিরুত্তাপ এক বদ্বীপে ২০০ বছর আগে রাশিয়ার ভোলগদা শহরের বণিক ইভান কুসকোভ আমেরিকায় প্রথম রুশ বসতি স্থাপন করেছিলেন, যাঁরা সেখানে পশুর লোম উত্পাদন ও বিক্রয় করত. আর তখন এখানেই আলাস্কা অভিযাত্রায় যাওয়া রুশ দলেরা তাঁদের প্রয়োজনীয় খাবার ও জ্বালানী কাঠ ভরে নিত. গত বছরে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় এই পার্কটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে ঠিক করা হয়েছিল. আজ রুশ দেশের সাহায্যে এই আমেরিকার মাটিতে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে জাতীয় ইতিহাসের স্মরণীয় প্রথম রুশ প্রজাতির বাসস্থানের অঞ্চলের রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে. সতেরোশ শতকের শেষে রুশ সম্রাট প্রথম পিওতর, দেশের লোকেদের বাইরে পাঠিয়ে ছিলেন বিভিন্ন বিষয়ে শিখে আসতে. লক্ষ্য ছিল দেশকে – তাঁদের জ্ঞান ব্যবহার করে উন্নত করে তোলা. বলতেই হবে যে, তা সাফল্যের হয়েছিল. আজকের পরিস্থিতি অন্যরকম. আজকের রুশ লোকেরা বাইরে চলেছেন অন্যরকম পরিস্থিতিতে কিন্তু একই লক্ষ্য পরিপূর্ণ করতে – দেশের অর্থনীতির উন্নতি করতে, দেশকে উন্নত করতে. এই লক্ষ্যের পূরণে যা তাই – তা কিন্তু এখনও একই আছে, শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান লোক, যারা বিরাট কাজ করতে পারেন.