রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বান কী মুনের রিপোর্ট অনুযায়ী এই বছরের প্রথম চার মাসে আফগানিস্থানে সন্ত্রাসবাদী সক্রিয়তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শতকরা ৯৪ ভাগ বা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে. সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন তাদের সংখ্যা শতকরা ৪৫ ভাগ বেড়ে গিয়েছে. আর আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদীরা মানব বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে প্রায় তিন গুণ বেশী বার. রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের মতে এই সবই ওই দেশে বিদেশী সৈন্যদের সংখ্যা ও তাদের দ্বারা সামরিক কার্যকলাপের ফল. কেন এই রকম হচ্ছে ও এর অর্থ কি ন্যাটো জোট ও হোয়াইট হাউস এই পরিস্থিতিতে সেখানে সামরিক উপস্থিতি কম করবে বা তাদের সামরিক কার্যকলাপ কম করবে? এই প্রশ্নটি আমরা রেডিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে সামরিক বিশেষজ্ঞ পিওতর গনচারোভ কে করছিলাম, তিনি উত্তরে বলেছেন:    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো আফগানিস্থানে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কম করবে না অন্ততঃ ততদিন পর্যন্ত, যতক্ষণ না সেই দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা বাড়ছে. আরও যতদিন না আফগানিস্থানের সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিজেদের কব্জায় আনতে পারছে. এই বিষয়টা সামরিক কার্যকলাপের ক্ষেত্রেও খাটে, আমার মতে ওরা শুধু কমাবে তো না ই, বরং আরও বেশী জোরদার করবে. আর এর জন্য নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কম করার বদলে আরো বাড়াতে হবে".    অন্য রকম কিছু হতেই পারে না, বর্তমানের আফগানিস্থানে ক্ষমতা দখলের নৃশংস লড়াই চলছে. তালিবদের পক্ষ থেকে আসছে নিষ্ঠুর সব আঘাত. তারা স্থানীয় জনসাধারনের কাছ থেকে বড় কোন সমর্থন না পেয়ে একেবারে চরম সমস্ত কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, - তারা শান্তি প্রিয় আফগান লোকেদের মধ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যারাই সহযোগিতা করছে, সেই সব মোল্লা ও পয়গম্বর লোকেদের মেরে ফেলছে. মসজিদ ও বিবাহ অনুষ্ঠানে অসংখ্য লোকের মাঝখানে বোমা ফাটাচ্ছে. এর মানে হল তারা কতটা সাধারন লোকের সমর্থন পেতে পারে তা বোধগম্য. এই সব করা হচ্ছে যাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতাকে ছোট প্রমাণ করা সম্ভব হয়, ভয় দেখিয়ে জনসাধারনকে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা যায়. তাদেরকে বিদেশী সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে কিছু বলানো সম্ভব হয়. কিন্তু আপাতত এই পরিস্থিতি খুব একটা করতে পারা যায় নি. তাই এটা অবশ্যই কাবুলের উল্লেখ যোগ্য সাফল্য এবং সরকারেরও. কিন্তু অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও রয়েছে, তাই পিওতর গনচারোভ বলেছেন:    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো আফগানিস্থানে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার আগে চলে গেলে তা তাদের পরাজয়ের সমান হবে. বোঝাই যাচ্ছে যে, তারা এই কাজ করতে পারে না, আবার অন্য দিক থেকে – তাদের এরকম করতেও দেওয়া হবে না. তাদের মধ্য এশিয়ার সরাসরি ও দূরের জোটের দেশেরা এই কাজ করতেই দেবে না".    এই রকমের কিছু একটা হতে পারে তা একাধিকবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যে টের পাওয়া গিয়েছে, সেই সমস্ত কার্যকলাপের বর্ণনার সময়ে, যেখানে ইরাক ও আফগানিস্থানের কথা উঠেছে. যেমন জেনেরাল ডেভিড পেত্রেউস বলেছেন পেন্টাগনে মনে করা হয়েছে যে, আফগানিস্থান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের যে ঘোষণা রাষ্ট্রপতি ওবামা করেছেন, এটা শুধু সেই কাজের শুরুর সময় হিসাবে বলা হয়েছে, প্রত্যাহার সত্যই হবে, যদি সেখানের পরিস্থিতিতে তা সম্ভাব্য বলে মনে হয় তবেই. এই রকমের একটা মত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ন্যাটো জোটের দেশ গুলিতে সমর্থিত হয়েছে. কিন্তু এর মানে নয় যে, আফগানিস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো জোটের যে পরিকল্পনাকে "ওবামা পরিকল্পনা" বলে লোকে জানে তাতে কোন বড় রকমের সংশোধন করতে হবে না. তালিবদের বর্তমানের কৌশল তো এই দিকেই নির্দেশ করছে.