রাশিয়া, সংবাদ প্রতিবেদন, সমাজ জীবন
এখন প্রচারিত হচ্ছে
ইন্টারনেটে "রেডিও রাশিয়া"
2013/06/17
   
 
   
 
   
 
   
 
সিরিয়ায় নো-ফ্লাই জোন করার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে বান কি মুন
ভারতে পাহাড়ী ভূমি ধ্বস ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা ষাট ছাড়িয়েছে
'জি-৮'-এর শীর্ষনেতারা বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকির নিম্নগতির কথা বলছেন
বড় আট দেশের শীর্ষ বৈঠক উত্তর আয়ারল্যান্ডে সরকারি ভাবে শুরু হয়েছে
মস্কোতে অনুষ্ঠিত হবে মিস ইউনিভার্স ২০১৩
রাজনীতি অর্থনীতি সমাজ জীবন সংস্কৃতি খেলাধূলা

স্মৃতি ও শোকের দিবস

জড়িত বিষয়ের ঠিকানা: রাশিয়া, সংবাদ প্রতিবেদন, সমাজ জীবন
 
22.06.2010, 14:43
প্রবন্ধটি ছাপানোর জন্য বন্ধুকে ইমেইল করুন এই পাতাটি ব্লগে যোগ করুন
Фото: РИА Новости
ধ্বণি ফাইল ডাউনলোড করতে হলে
Фото: РИА Новости
    ১৯৪১ সালের ২২শে জুন – এ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃখের ও বিপর্যের একটি দিন. ঐ দিন শুরু হয়েছিল পিতৃভূমির মহাযুদ্ধ, যাতে মারা গিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের তিন কোটিরও বেশি নাগরিক. ১৯৯৬ সাল থেকে ২২শে জুন স্মৃতি ও শোকের দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে রাশিয়ায়, তাছাড়া ইউক্রেনে, বেলোরুশিয়ায়, সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যান্য প্রজাতন্ত্রে, যারা প্রথম নিজেদের উপর গ্রহণ করেছিল হিটলারপন্থীদের আঘাত এবং নাত্সী দখলাবস্থার সমস্ত ভয়াবহতা.   সেই সময়, ৬৯ বছর আগে, যুদ্ধের শুরু উপলক্ষে দেশের নাগরিকদের কাছে রেডিওতে আবেদন করেন সোভিয়েত ইউনিয়নের এক নেতা ভিয়াচেস্লাভ মোলোতভঃ   আজ ভোর চারটায় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি কোনো অভিযোগ পেশ না করে, যুদ্ধ ঘোষণা না করে, জার্মান বাহিনী আমাদের দেশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, আমাদের দেশের সীমানার বহু জায়গায় আক্রমণ করেছে.   দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্য শেষ করেন এই কথাগুলি দিয়ে, আমরা ঠিক পথে রয়েছি! শত্রু পরাজিত হবে! বিজয় হবে আমাদের!” এইভাবে, ১৯৪১ সালের ২২শে জুন এক আঘাতে সমস্ত সোভিয়েত মানুষের জীবন বিভাজিত হয় দুই ভাগে- যুদ্ধের আগে ও যুদ্ধের পরে. মস্কো উপকণ্ঠের ১৭ বছর বয়সী মিখাইল শ্লেনোভের ভাগ্যও ব্যতিক্রম ছিল নাঃ   ১৯৪১ সালের ২২শে জুন আমি ল্যুবের্তসি স্টেডিয়ামে শ্রম ও প্রতিরক্ষায় প্রস্তুত নামে শরীরচর্চার মানের পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, স্মরণ করেন প্রবীন যোদ্ধা.তখন আমি পড়ছিলাম ১০ নম্বর কারিগরী শিক্ষালয়ে. শরীরচর্চার পরীক্ষা দেওয়ার পর আমরা শহরে যাচ্ছিলাম, সে সময় উল্টোদিক থেকে আসা লোকেরা জানায় যে, জার্মানরা আমাদের উপর আক্রমণ করেছে, কোনো রকম অভিযোগ পেশ না করেই. এইভাবে আমি পাই যুদ্ধ শুরু হওয়ার খবর.   মিখাইল শ্লেনোভ ফ্রন্টে যান স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে, অটোমেটিক রাইফেলধারী হিসেবে গোটা যুদ্ধ পার হন, - অংশ নেন অরিওল ও বেলগোরদের মুক্তিতে, লড়াই করেন কুর্স্কের বাঁকে, কেনিসবার্গ জয়ের লড়াইয়ে অংশ নেন, এলবা নদীর তীরে মিত্রপক্ষের বাহিনীর সাথে মিলিত হন, সিনিয়ার আন্ডার-অফিসার হিসেবে বালিনে যুদ্ধ শেষ করেন. তিনবার আহত হয়েছিলেন, ব্যক্তিগত সাহসের জন্য দুটি মেডেলে এবং লাল তারা অর্ডারে ভূষিত হন. যুদ্ধের পর ইনস্টিটিউটের পড়া শেষ করেন এবং সারা জীবন কাজ করেন মস্কোর লিখাচেভ নামাঙ্কিত মোটরগাড়ির কারখানায়. এখন তাঁর বয়স ৮৫ বছর, যুদ্ধের কথা বর্ণনা করেন নাতি-নাতনীদের, শুধু তা-ই নয় প্রায়ই মস্কোর স্কুল শিক্ষার্থীদেরও বর্ণনা করেন. মিখাইল শ্লেনোভ সর্বদা স্মরণ করেন, রাশিয়ায় এমন একটিও পরিবার নেই, যার যুদ্ধের মৃত্যুর ছোঁয়া লাগে নি. প্রত্যেক পরিবারেই আপন জন আছে, যারা ফ্রন্টে মারা গেছে, অথবা ফ্যাশিস্ট বন্দীশিবিরে অত্যাচারে অনাহারে মারা গেছে. সেই "কেউ বিস্মৃত নয়, কিছুই বিস্মৃত নয়" কথাগুলি রয়েছে পিতৃভূমির মহাযুদ্ধের স্মৃতির প্রতি বর্তমান ও ভাবী প্রজন্মের রাশিয়াবাসীদের সযত্ন ব্যবহারের ভিত্তিতে. স্মৃতি ও শোকের দিবসে পিতৃভূমির মহাযুদ্ধের বীরদের স্মরণিকের কাছে সর্বদা লোকে ফুল রেখে যায়. আর লক্ষ লক্ষ রাশিয়াবাসী শহীদ আত্মীয়দের স্মরণ করে বাড়িতে জ্বালায় মোমের বাতি, সেই সব স্মৃতিচিহ্ন বার করে যা মনে করিয়ে দেয় তাদের কথা, যারা ১৯৪১ সালের ২২শে জুন ফ্রন্টে চলে গিয়েছিল আর ফিরে আসে নি.সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সময় থেকে যত বেশি সময় কাটছে ততই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সেই স্মৃতি আর এ উপলব্ধি যে ফ্যাশিবাদের পুনরুথ্থান ঘটতে দেওয়া যায় না আর অস্ত্রের জোরে দেশে দেশে সঙ্ঘর্ষ মীমাংসা করা যায় না. স্মৃতি ও শোকের দিবস- আরও একবার ভাবার সুযোগ দেয় শান্তির ভঙ্গুরতার এবং যুদ্ধের অমঙ্গলতার.   


সর্ব শেষ খবর গুলি

17 জুন 2013
 

জনপ্রিয় বিষয়

 

আপনার মতামত

জেনেভার দ্বিতীয় সম্মেলনে কি সিরিয়া নিয়ে সমঝোতা হবে?
ছবিতে দেওয়া টেক্সট লিখুন

অন্য ছবি দেখতে হলে
 

জড়িত বিষয়ের ঠিকানা




রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা

এই হল রাশিয়া

এই হল রাশিয়া

 
Kolkata -
Dhaka -
Moscow -
© 2005-2013 রেডিও রাশিয়া
আমাদের ঠিকানা
 
Rambler's Top100