কিরগিজস্তানের অস্থায়ী সরকারে প্রধান রোজা আতুনবায়েভা আশা করছেন যে,দেশটির কার্যকরী সংবিধানের পরিবর্তন এনে গনভোটের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রে জাতিগত দ্বন্ধ উত্তরন করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবেন.রোজা আতুনবায়েভা ইজভেস্তিয়া সংবাদপত্রে দেওয়া সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন.এ দিকে কিরগিজস্তানে আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত জরুরি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিক্ষোভকারিদের কোন শক্তিতেই কোন সুযোগ দেওয়া হবে না.অস্থায়ী সরকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাকিয়েবের সমর্থকদের গনভোট আয়োজনের দাবীও একেবারে অগ্রায্য করছে না.বিশকেকের মতে ,তাদের কার্যক্রম শুধুমাত্র দেশের অভ্যন্তরেই সক্রিয় নয় বরং দেশের বাইরেও.কিছুদিন পূর্বে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খল ঘটনা শত শত লোকের প্রান কেড়ে নিয়েছে শরনার্থী হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ.উল্লেখ্য যে, ১১ জুন রাতে কিরগিজস্তানের দক্ষিনে ওশ শহরে কিরগিজ-উজবেক জাতিগত দ্বন্ধ শুরু হয় এবং তা পরে পার্শ্ববর্তী জালালাবাদ উপ-শহরে ছড়িয়ে পরে.এ ঘটনার পর কিরগিজস্তানের অস্থায়ী সরকার দেশটির দক্ষিণে জরুরি অবস্থা জারি করে.জুনের ঐ ট্রাজেডী ঘটনার পর গনভোট বিষয়ে আতুনবায়েবা এক বিবৃতিতে বলেন-গনভোটের শেষে যারা সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং ৭ এপ্রিলের পর সব ঘটনার বিরুদ্ধে যারা আছে,তারা সবাই জাতিগত বিদ্ধেষের এই সুযোগ নিয়ে পুরানো সরকার এবং বর্তমান সরকারের সম্পর্কের মাঝে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি সৃষ্টিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে.কিরগিজস্তানে জাতিগত বিদ্বেষ ও ব্যাপক শরনার্থীদের বিষয়ে একটি সুষ্ঠ কার্যক্রমে প্রসঙ্গে দেশটির কিছু রাজনীতিবিদদের শতর্কবানী সত্বেও রোজা আতুনবায়েভা ও বর্তমান সরকারের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন না.রাশিয়ার ইজভেস্তিয়া সংবাদপত্রে দেওয়া সাক্ষাতকারে আতুনবায়েভা বলেন,দায়িত্ববোধহীন কোন বিবৃতি যা দেশকে চুড়ান্তভাবে একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে এবং পরে জাতিগত বিদ্বেষ নিয়ে তা পূর্ণ স্বদেশী যুদ্ধে রুপ নিত.আতুনবায়েভার এই সিদ্বান্তকে কার্যকরী বলে মনে করছেন প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন দেশসমূহের পর্যবেক্ষক সেন্টারের পরিচালক আলেক্সেই ব্লাসব.রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন-আতুনবায়েভা নিজের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছেন এবং অস্থায়ী সরকার গনভোটের মাধ্যমে এই উদ্বুদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের আশ্বাষ দিয়েছন.আতুনবায়েভা মনে করেন ভোটে অংশগ্রহনেপর থেকে এটি অনেক বেশী গুতুত্বপূর্ণ কাজ,যেমন ,ট্রাজিডিপূর্ণ ঐ ঘটনার পর কয়েকহাজার উজবেক দেশ ছেড়ে চলে গেছে.এই কারণে অস্থায়ী সরকার হবে দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার আন্যতম একটি কাঠামো.একই সাথে আতুনবায়েভা বলেন, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট পদ কার্যকরী করার কোন যুক্তি আপাতত তিনি দেখছেন না,তবে তা শুধু খন্ডকালিন সময়ের জন্য সক্রিয় থাকবে.বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কিরিগিজস্তানের সংবিধানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যপকঅর্থে কমিয়ে আনা উচিত এবং কিরগিজস্তানকে মধ্য এশিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট রাষ্ট্রে গড়ে তোলা উচিত.সর্বশেষ তথ্যে জানা যায় যে,শরনার্থীরা উজবেকিস্তান থেকে কিরগিজস্তানের দক্ষিনে ফিরে আসতে শুরু করেছে এবং সীমান্ত এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে.হতে পারে দেশটিতে গনভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সেনাবাহিনীর শক্তি যথেষ্ট নয় এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ঘটার সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বজায় না রাখতে পারার সংশয়.কিছুদিন পূর্বেও কিরগিজস্তান রাশিয়া ও নিরাপত্তার একত্রিত নথিপত্র সংস্থার কাছে বিক্ষোভপূর্ণ এলাকায় শান্তিবাহিনী চেয়ে আবেদন করেছে. নিরাপত্তার একত্রিত নথিপত্র সংস্থা সিদ্বান্ত নিয়েছে যে, কিরিগিজস্তানে সেনা ও বিমানবাহিনী পাঠানো হবে.এরপর আতুনবায়েভা আর মনে করছে না যে,সম্মিলিত বাহিনী থেকে কিরগিজস্তানে কোন সৈন্য বাহিনী পাঠাতে হবে.