কিরগিজস্তানে সমস্যা আজকে শুরু হয় নি.কিরগিজস্তানের ভঙ্গুর নাগরিক সমাজ ও দূর্বল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানই এই সমস্যার জন্য দায়ী.এগুলোকেই প্রধান সমস্যা বলে মনে করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেব.অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, কিরগিজস্তানে জাতিগত দ্বন্ধের নিষপত্তি কয়েক দশক ধরে করা হচ্ছে,তবে শতাব্দি নয়. সাবেক কিরগিজ সরকারের প্রধান কুরমানবেক বাকিয়েব যদিও সরকারি শক্তি বৃদ্ধি এবং জনগনকের কাছ থেক ব্যক্তিগত সুনামের আশায় তাদেরকে নিযুক্ত করতে এবং যার ফলাফল ঘটেছে চুড়ান্ত খেলার মধ্য দিয়ে.

কিরগিজস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আস্কার আকায়েবের মতে,বিপদজনক বিষয় হল  ২০০৫ সনের সেপ্টেম্বরে "টিউলিপ বিপ্লবের" মাধ্যমে বাকিয়েব রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করে এবং সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্যায়ের ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়,অধিকার এবং রাজনৈতীক কূ-কর্মে.এখন,জনগনের একটা বিশাল অংশ,বিশেষ করে বেকার যুবকদের মাঝে একটা বিষয় কাজ করছে যে,কেউ যদি জনগনকে একত্রিত করে এবং সমস্যা সমাধান করে তাহলে ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যমে দ্রুত ধনী হওয়া যাবে.আকায়েব দৃড়তার সাথেই বলেন যে, এখন আমরা পাঁচ বছর পূর্বের ঐ ঘটনার ভাগ্যই দেখতে পাচ্ছি.একই সাথে তিনি বিশ্বাষ করেন যে, কিরগিজ পরিস্থিতির এবং অন্যসব উন্নয়ন এখন সোভিয়েত ইউনিয়নের রঙ্গিন বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদের প্রয়োজন,পশ্চিমা ধারা অবলম্বন করতে হবে.সবার আগে আকায়েব একই চিত্র দেখতে পাচ্ছেন জর্জিয়ার ক্ষেত্রেও

এ বিষয়ে রেডিও রাশিয়া কথা বলে প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের পর্যবেক্ষক সেন্টারের সভাবপতি আলেক্সেই ব্লাসোবের সাথে.তিনি বলেন-জর্জিয়াতে কিরগিজস্তানের চিত্রের পুনরাবৃত্তি হওয়া একটি সরলিকরন প্রশ্ন.যে পেক্ষাপট নিয়ে কিরগিজস্তানের দক্ষিনে ঘটে যাওয়া ট্রাজিডীমূলক ঘটনার রয়েছে অনেক জটিল ও বহুমাত্রার রুপ.জর্জিয়াতে পরিস্থিতি বেশী মাত্রায় একমুখী.সাকাশবিলির পক্ষে যেমন লোকজন আছে তেমনি আছে বিপক্ষেও,আছে তাকে সমর্থনকারী পশ্চিমা বিশ্ব ও আছে বিদেশী শক্তি যাদের একটি দল তার বিপক্ষে.যদি বলা হয় যে, সাকাশবিলির ভাগ্যে কী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করাই রয়েছে তাহলে সেই পরিস্থিতি হবে রঙ্গীন বিপ্লব.রণনীতির ক্রিয়াকলাপ ও পর্যবেক্ষক ইন্সটিটিউটের সভাপতি আলোক্সন্দার কানোবালোভ অবশ্য বর্তমানে কোন রঙ্গিন বিপ্লবই দেখছেন না যা তিনি দেখেছিলেন তার সময়ে কিরগিজস্তান,ইউক্রেন ও জর্জিয়ায়.তিনি বলেন-তিনটি বিপ্লবই জর্জিয়াতে (গোলাপি বিপ্লব),ইউক্রেনে (কমলা বিপ্লব)ও কিরগিজস্তানে(টিউলিপ বিপ্লব)এর প্রতিটিরই ছিল একটি বিষয়বস্তু,তাহল জনগন নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয় নি.তবে এর অনেক গুরুত্বপূর্ন ব্যতিক্রম আছে.তবে কিরগিজস্তানে ব্যপক অর্থে যা ঘটেছে তা হল কুচক্রি মহলে রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে হঠানো যা রাজনৈতিক ঘটনা থেকেও অনেক বেশী.সেখানে জাতিগত দ্বন্ধ বিষয়টি অনেক বেশী সক্রিয়.জর্জিয়ার যেসব স্থানে জাতিগত দ্বন্ধ রয়েছে বলে মনে করা হয় তিবলিসি তার মধ্যে নেই এবং জর্জিয়াতে কিরগিজস্তানের পরিস্থিতি ঘটার কোন পূর্বাভাষও নেই.তবে রয়েছে ভিন্ন মতামত.রাশিয়ার রণনীতি সমীক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষক আজার কুরতব অবশ্য আস্কার আকায়েবের সাথে কিছু বিষয়ে একমত প্র্রকাশ করেন.তিনি বলেন-টিউলিপ বিপ্লবপূনরায় ঘটার মত কিছু আভাষ এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিষয়ের সাথে রয়েছে যোগসূত্র পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে.বলতে গেলে এই যুদ্ধ দেশের পক্ষে,কিছু মুষ্টিমেয় গোষ্ঠির বিরুদ্ধে যারা নিজেদের নিঁচু মনের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যে বৃহত জনগোষ্ঠীকে ভূলে যায়.তবে এই চিত্রই মধ্য এশিয়ার অন্যান্য দেশ অথবা প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্য কোথাও ঘটবে তা আমি দেখছি না.বিশেষজ্ঞদের কথার সারমর্ম যদি করা হলে সমাপ্তিতে বলতে হয় যে,কিরগিজস্তানে ঘোটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়েনের অন্য কোন দেশের মাটিতে ঘটে নি এবং কিরগিজস্তানের সমস্যা ভবিষ্যতে কম হবে না.