রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেব যুক্তরাষ্ট্রে তার রাষ্ট্রীয় সফর উপলক্ষে সে দেশের দি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাত্কার বলেছেন যে,মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার সৈন্য পাঠানোর কোন প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুভব করছেন না.বর্তমান সময়ে আমাদের প্রধান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে কিরগিজিস্তান পরিস্থিতি এবং অবশ্যই এই সময় তার কারণ হচ্ছে সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাদের প্রস্তাবিত শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর সেই অনুরোধ ফিরিয়ে নিয়েছে.তার কারণ হিসাবে দিমিত্রি মেদভেদেব মনে করেন যে,দেশটিকে নিজেকেই তার এই সমস্য কাটিঁয়ে উঠতে হবে.আর তার ভাষায় এই সমস্যা যথেষ্ট জটিল এমনকি ট্রাজীডির.সৃষ্ট্র এই পরিস্থিতির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন,কিরগিজস্তানের সুশীল সমাজের সাধারন অবস্থা এবং দূর্বল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান.কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে পরিস্থিতি উত্তরনের উপায় নেই,অবশ্যই কিরগিজ সরকারের রয়েছে বুদ্ধি এবং কৌশল বিশেষকরে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সম্পর্কের জন্য তা অবলম্বন করতে হবে.কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে যেমন জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রে. কারণ,রাষ্ট্রছাড়া পুলিশের কর্তব্য পালন করা যায় না.রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ কিরগিজস্তানে মার্কিন সৈন্যঘাঁটির অবস্থানের বিরুদ্ধে নয়,তবে তিনি বলেন যে, এই সুযোগ দীর্ঘদিন থাকা ঠিক হবে না.মেদভেদেব উল্লেখ করেন যে,মার্কিন ঐ সেনাঘাঁটিটি আফগানিস্তানে অভিযান পরিচালনার জন্য স্থাপন করা হয় এবং সন্ত্রাসী দমনের ঐ ধারনাকে রাশিয়া সমর্থন জানায়.তবে এই সমস্যা সমাধানের পর সেনাঘাঁটির কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত.মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে আসন্ন দ্বিপাক্ষিক ঐ বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে গুরুত্বপূর্ন বিষয়টি হবে অর্থনৈতিক বিষয়ে দুই দেশের সম্পর্কে উন্নয়ন.সামগ্রিকভাবে দিমিত্রি মেদভেদেব বলেন যে, তিনি রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে ইতিবাচক সংলাপ সৃষ্টিতে যথেষ্ট আগ্রহী এবং তিনি আরও বলেন যে, কয়েক বছর পূর্বে এই সম্পর্ক ছিল ঠান্ডা যুদ্ধের মত.তবে সর্বশেষ সময় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একটি পূর্ণ সম্পর্কে ফিরিয়ে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যবলীর ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে যেমন,পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার হ্রাস করা বিষয়ে স্বাক্ষরিত চুক্তি.মার্কিন পত্রিকাকে দেওয়া স্বাক্ষাত্কারে প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেব বলেন যে,রাশিয়া মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এ ব্যাপারে  সাহায্য করতে প্রস্তুত.ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে,বিশ্বে নিয়ন্ত্রিত কাঠামো গঠনের জন্য আমাদেরকে এমন মারাত্বক বিপর্যয়ের ব্যাপারে চিন্তা করা দরকার.দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ বিনষ্টের কথা উল্লেখ করে এই বিষয়ে দিমিত্রি মেদভেদেব জুন মাসে কানাডায় অনুষ্টিতব্য  জি-২০ সম্মেলনে প্রশ্ন তুলবেন.প্রেসিডেন্ট বলেন যে,বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিটি রাষ্ট্রের উপরই নির্ভর করছে, তাই রাশিয়ার আগ্রহ-প্রতিটি বিশ্ব অর্থনৈতিক মূদ্রার সাম্যতা,সেই সাথে ইউরো যার মূল্য সর্বশেষ সময় অনেক কমে গিয়েছে.তিনি বলেন-শান্তি পরিবেশ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আমাদের অনেক আশা রয়েছে.তার কারণ প্রথমত, হচ্ছে রাশিয়া ইউরোপীয় দেশ.আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয় কিন্তু আমরা ইউরোপীয় দেশ .দ্বিতীয়ত,রাশিয়ার স্বর্ণমূ্ল্যের প্রাকৃতিক সম্পদ যা কয়েকটা ব্লকে ভাগ করে অন্যদের সরবরাহ করা হচ্ছে.যার মূল্য কেউ দিচ্ছি ডলারে আবার কেউ ইউরোতে এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অন্য মূদ্রাও ব্যবহার করা হচ্ছে.তাই ইউরোপ মহাদেশে  ভাল পরিবেশ বিরাজ করা রাশিয়ার ইতিবাচক পরিবেশের উপরই নির্ভর করছে.দিমিত্রি মেদভেদেব একসারি আন্তর্জাতিক সমস্যার প্রতি আলোকপাত করেন.আলাদাভাবে তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইরানের সাথে আলোচনার জন্য আহবান জানান এবং এই বিষয়টিকে জুরুরি ভিত্তিতে দেখতে হবে ,জনগনের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে দেওয়া যাবে না .মেদভেদেব বিপদজনক শব্দ উল্লেখ করে বলেন, ইরানের পারমানবিক অস্ত্র তৈরী যা মধ্যপ্রাচ্যে অনেক বড় সমস্যা সৃষ্টি করবে.দিমিত্রি মেদভেদেবকে প্রশ্ন করা হয় যে, সাবেক রুশি প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিনের সাথে বিভিন্ন দিক দিয়ে তার  সম্পর্ক কেমন.উত্তরে তিনি বলেন,পারতপক্ষে তা কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে.তাদের মধ্যে রয়েছে তা হল ভাল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক.দিমিত্রি মেদভেদেব একইসাথে বলেন যে,নিজেকে  স্বভাবিকভাবে সহযোগিতা করা অনেক সময় তার পক্ষে কঠিন হয়ে দাড়ায়.রাষ্ট্রের প্রধান শুধুমাত্র দেশের সমস্যা নিয়ে মন খারাপ করেন না সেই সাথে রাশিয়ার ফুটবল দলের সাফল্য না পাওয়াতেও তেমনি মন খারাপ করেন .