১৭ জুন পিটারবুর্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের(পিইইফ) প্রথম কার্যদিবস.এই ফোরামকে রাশিয়া ও বিদেশের প্রতিনিধিরা রুশি দাভোসনামে আখ্যায়িত করেছেন.ফোরামের কার্যকারিতার দিক দিয়ে একে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাথে তুলনা করা হয়েছ.ফোরামের কার্যক্রম শুরু হয় সেই ১৯৯৭ সনে যখন সেন্ট-পিটার্সবুর্গে রাশিয়া ও বিশ্বের নামিদামি ব্যাবসায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা বিশ্ব অর্থনীতি উন্নয়ন ও দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনায় মিলিত হয়.এর পরবর্তী বছর তা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতীক ফোরামের মর্যাদা পায় এবং ৩ বছর পর স্বাধীন কমনওয়েলথ রাষ্ট্রবর্গের(সিআইএস) শীর্ষ অর্থনৈতিক ফোরামের স্বীকৃতি পায়.ফোরামের আয়োজক ও অংশগ্রহনকারীরা শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষীক স্বাক্ষাতের জন্যই মিলিত হয় না বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক উন্নয়নের একটি স্বাধীন পথ নিয়ে আলোচনা করেন.ঐতিহ্যগতভাবে এই ফোরামে অংশগ্রহন করে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা ও পার্লামেন্ট প্রতিনিধীরা,আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফোরামের উদ্বোধন করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট.এই বছর বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাই সারকাজি ও আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের রাষ্ট্রপ্রধানসহ  বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত থাকবে.   পিইইফ এর কার্যকারিতা রাশিয়ার জন্য কতটুকো গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে বলা কঠিন.এই ফোরামের সহযোগিতায় রাশিয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে,বাড়িয়ে তুলছে নিজের ভাবমূর্তি এবং সৃষ্টি করছে বিনিয়োগপূর্ন পরিবেশ.যদিও ২০০৮ সনের তুলনায় গতবছর ফোরামে অংশগ্রহনকারীদের সংখ্যা  কমে যায় ,তা ছিল অর্থনৈতিক মন্দার স্বাভাবিক প্রভাব,ফোরামের কার্যক্রমের জন্য চুক্তিস্বাক্ষরের অর্থের পরিমান এবং বিলিয়ন ডলারের পরিমান.এবারের এই ফোরামকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন জাতীয় দুমার অর্থনৈতিক নীতিমালা ও বানিজ্য কমিটির সহকারি চেয়ারম্যান ব্লাদিমীর গালোবনেব.রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন-১৬-১৭ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক যুব অর্থনৈতিক ফোরাম যা ধারাবাহিকভাবেই মূল ফোরামের গুরূত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে এবং মূল ফোরামের গুরূত্ব অনেক.আমরা সবাই বুঝতে পারি যে,একদিক থেকে দেশ মন্দাভাব থেকে বেরিয়ে এসেছে কিন্তু বিশ্ব সমাজে এখনও অর্থনৈতিক মন্দা রয়েছে.ফোরামে আমরা দেখতে পাই সেইসব প্রক্রিয়াই যা বিশ্বে ঘটছে.রাশিয়া ও বিদেশের বানিজ্যিক কোম্পানীগুলো কিভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সে বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও মতামত আদানপ্রদানের একটা সুযোগ আছে.আমাদের অর্থনীতিকে পরিচালিত করার জন্য রাষ্ট্রের প্রধান নতুন কোন কার্যপ্রনালী বর্ননা করেন তা শোনা যাবে.আমরা দুমার প্রতিনিধীরা এখান থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতা ও উপদেশ পরবর্তিতে তা বিল আকারে দুমায় উপস্থান করব.২০০৬ সন থেকে এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেন্ট-পিটার্সবুর্গের অন্যতম প্রদর্শনী কমপ্লেক্স লেনএক্সপোতে.কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক সেরগেই আলেক্সেএব মনে করেন এই সিদ্বান্তটি সংগতকারনে এবং সাফল্যের দিক দিয়েই নেওয়া হয়েছে.তিনি বলেন-লেনএক্সপো অংশগ্রহনকারিদেরকে শুধুমাত্র সেই দিক থেকেই আকর্ষন করবে না যে,এখানে আছে প্যাবিলিয়ন,আছে আলোচনা কক্ষ এবং সেই সাথে বিভিন্ন ধাপ বরং এটি রাশিয়ার একমাত্র কমপ্লেক্স যা সরাসরি পানির উপর অবস্থিত.আমদের চারদিক জলধারা বেষ্টিত.আমাদের নিকটেই পিটার রাজবাড়ী অবস্থিত,আছে কন্সতানতিন রাজবাড়ী.আমি মনে করি যে,লোকজন শুধুমাত্র সেই দিক থেকেই আনন্দিত হবে না যে ,তারা নতুন বিষয়ে সম্পর্কে জানতে পারল ,বিখ্যাত ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হল বরং  একই সাথে অনুষ্ঠানে তারা অনেক উচুঁ সংস্কৃতি অনুভব করবে.পিইইফ ফোরামের প্রথম দিন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে.বিশেষকরে রাশিয়ার সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন,যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যেমন-বিশ্ব মন্দা মোকাবেলায় সম্মিলিত কার্যক্রম,জ্বালানি ও বিনিয়োগ শিল্পে সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি .ফোরামের ২য় প্রশ্ন নিয়ে যে আলোচনা করা হবে তা হল ফোরামের কার্যক্রমে বিদেশী কোম্পানীগুলোকে আধুনিক রাশিয়ার অন্যতম  প্রকল্প সোকালোবায়বিনিয়োগের আহবান জানানো এবং মস্কোতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা.রাশিয়া ও এর সহযোগি ব্যাবসায়ী প্রতিনিধীরা এই কার্যক্রমের জন্য নতুন ও বিশ্বস্ত প্রতিনিধি খুঁজছে.