কির্গিজিয়ায় ততিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সময় নিহতদের স্মৃতিতে. দেশে রাষ্ট্রীয় পতাকা অর্ধনমিত,সমস্ত বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে.  

 ওশ এবং জালাল-আবাদ প্রাদেশিক কেন্দ্র ১১ই থেকে ১৫ই জুন আন্তঃসাম্প্রদায়িক সঙ্ঘর্ষের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে. কির্গিজিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বিশৃঙ্থলায় নিহত হয়েছে প্রায় ১৮০ জন, ১৮০০ জনের উপর চিকিত্সা সাহায্যের জন্য আবেদন করেছে. নিহতদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে,কারণ মুসলমান রীতি অনুযায়ী মৃতের কবর দেওয়া হয় মৃত্যুর দিনই. প্রায়ই মেডিকেল সংস্থাকে না জানিয়ে.  

 ওশ ও জালাল-আবাদ আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে, প্রায় সমস্ত দোকান ও বাজার লুঠ হয়ে গেছে.দেশএর দক্ষিণাঞ্চলে খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় জলের অভাব অনুভূত হচ্ছে. শরণার্থীরা, বিশেষ করে আদি উজবেক জাতির লোকেরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের সংখ্যা এক লক্ষে পৌঁছেছে. আজ কির্গিজিয়ার দক্ষিণাঞ্চল ্পেক্ষাকৃত শান্ত.সেখানে পাঠানো হয়েছে প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবকদের দল. সৈনিক ও পুলিশদের গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে.  

  তবে পরিস্থিতির যথেষ্ট পরিবর্তন হওয়ার কথা বলা যায় না. তা অতি অস্থিতিশীল ও বিস্ফোরণোন্মুখ রয়েছে. যদি তা চলতে থাকে এবং  দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সীমানা পার হয়, তাহলে তা আঞ্চলিক- মধ্য-এশীয় সঙ্কটে পরিণত হতে পারে. সেইজন্য খাস কির্গিজিয়ায় এবং তার সীমানার বাইরে  এ দেশে শান্তি বাহিনী পাঠানোর প্রশ্ন আলোচিত হচ্ছে. বিশেষ করে কির্গিজ মানব-অধিকার সংস্থাগুলি রাশিয়ার কাছে আবেদন করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শান্তি বাহিনী পাঠানোর.আগে এ অনুরোধ জানান সাময়িক সরকারের নেত্রী রোজা ওতুনবায়েভা, যিনি সঙ্ঘর্ষের এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা অথবা শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শান্তি বাহিনী প্রণ সম্পর্কে আলাপ-আলোচনায় প্রস্তুতির খথা জানান. তবে, সব কিছু বিচার করে মনে হয় যে, এটি চূড়ান্ত উপায়, তবে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যদি অন্যান্য প্রচেষ্টা ফল না দেয়, মনে করেন স্বাধীন রাষ্ট্রবর্গের দেশগুলি অধ্যয়ন সংক্রান্ত ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ঝারিখিনঃ  

 যা ঘটছে তা শুধু কির্গিজিয়ারই নয় তার প্রতিবেশী দেশগুলিরও ব্যাপার. সেইজন্য যথাসম্ভব করা উচিত যাতে সঙ্ঘর্ষ সীমিত করা এবং বন্ধ করা যায়. তবে সঙ্ঘর্ষ থামানোর জন্য পদ্ধতি বেছে নেওয়াও খুব সহজ নয়. এ ক্ষেত্রে কথা উঠছে অঞ্চলে আন্তঃসাম্প্রদায়িক বা আন্তঃজাতীয় সঙ্ঘর্ষের, যে অঞ্চলে কির্গিজ ও উজবেকরা মিলেমিশে বাস করে এসেছে. আর আমরা এমন সঙ্ঘর্ষেরঅভিজ্ঞতা থেকে জানি যে শান্তি বাহিনী শত্রুভাবাপন্ন পক্ষগুলিকে ফলপ্রসূভাবে বিভাজন করতে সক্ষম নয়.  

  শান্তি বাহিনীর প্রশ্ন এথন বিদ্যমান থাকছে. তবে বর্তমানে জোর দেওয়া হচ্ছে কির্গিজ পক্ষকে সাহায্য দেওয়ার উপর. তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ, যিনি মস্কোয় কির্গিজিয়ার ঘটনা বিকাশ সংক্রান্ত রেডিও রাশিয়ার সংবাদদাতার প্রশ্নের উত্তরে বলেনঃ 

  যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা ইতিমধ্যে কির্গিজিয়াকে সহায়তা দিচ্ছে. তা করা হচ্ছে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার বিধানিক দলিলে সূত্রবদ্ধপ্রক্রিয়ার ভিত্তিতে. আর সঠিকভাবে বললে, তত্সংক্রান্ত রাষ্ট্রের অনুরোধ থাকা এবং এ অনুরোধের উত্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে একমত থাকা. বর্তমানে যৌথ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি হিসেবে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভের নির্দেশে নিরাপত্তা পরিষদের সচিবদের পর্যায়ে সংস্থার সব সদস্যের জরুরী সাক্ষাত্ হয়েছে. তাতে কির্গিজ পক্ষের আবেদনের উত্তরে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছ কির্গিজিয়ার শৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থাগুলিকে বৈষয়িক-প্রযুক্তিগত সাহায্য দেওয়ার ব্যাপারে, যাতে তারা আরও ফলপ্রসূভাব্ বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে পারে.  

 একই সঙ্গে কির্গিজিয়ায় পাঠানো হচ্ছে মানবতাবাদী সাহায্য. সোমবার মস্কো ও বিশকেকের মাঝে বিমান–সেতু গঠিত হয়েছে,যার মারফত পাঠানো হচ্ছে জ্বালানী, খাদ্যদ্রব্য, ওষুধপত্র, নিত্য-প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র. কথা হচ্ছে জরুরী পরিস্থিতি সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের ছয়টি পরিবহণ বিমানের, যার প্রতিটি ৪২ টন করে মানবতাবাদী সাহায্যের জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে.