কির্গিজিয়ায় আগের মতোই উত্তেজনা বজায় রয়েছে. প্রাপ্ত শেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃসাম্প্রদায়িক সঙ্ঘর্ষে প্রায় ২০০ জন মারা গেছে. আহত হয়েছে প্রায় দু হাজার জন. এ হল- সরকারী তথ্য, বেসরকারী তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যাগুলি তার চেয়ে অনেক বেশি.    কির্গিজিয়ার দক্ষিণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা এবং কির্গিজ ও উজবেক সম্প্রদায়ের মাঝে সঙ্ঘর্ষ শুরু হয় দক্ষিণের প্রাদেশিক কেন্দ্র ওশ শহরে ১১ই জুন রাতে. পর দিন তা ছড়িয়ে পড়ে জালাল-আবাদ প্রদেশে. সঙ্ঘর্ষের এলাকায় কির্গিজিয়ার কর্তৃপক্ষ জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে এবং কার্ফিউ জারি করে. পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য ওশ এবং জালাল-আবাদে পাঠানো হয় প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবকদের দল. সৈনিকদের জীবনের এবং শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের জীবনের বিপদের ক্ষেত্রে তাদের গুলি চালনার নির্দেশ দেওয়া হয়.    কির্গিজিয়ায় এ অত্যাচারের নিন্দে করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ. রুদ্ধদ্বার জরুরী বৈঠকে কূটনীতিজ্ঞরা আহ্বান জানান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রক্তপাত বন্ধ করার এবং মানবতাবাদী সাহায্য পৌঁছোনোর জন্য করিডোর গঠন করার. কির্গিজিয়ার পরিস্থিতি তার প্রতিবেশীদেরও উদ্বেঘ জাগাচ্ছে. যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার ( যাতে অন্তর্ভুক্ত আর্মেনিয়া, বেলোরুশিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং কির্গিজিয়া) নিরাপত্তা পরিষদের সচিবরা প্রজাতন্ত্রে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য ব্যবস্থাবলির খসড়া প্রণয়ন করেছেন. এ সংস্থার প্রধান সচিব নিকোলাই বর্দিউঝা এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভের সাথে ক্রেমলিনে সাক্ষাতে দমিত্রি মেদভেদেভ কির্গিজিয়ার পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেনঃ   এখন পরিস্থিতি সত্যিই অসহ্যকর হয়ে উঠছে. লোক মারা যাচ্ছে, রক্তপাত হচ্ছে, ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ঘটছে জাতিগত ভিত্তিতে, যা মধ্য এশিয়ার জন্য অতি বিপজ্জনক. সেইজন্য এ ধরণের ক্রিয়াকলাপ প্রতিহত করার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, আইনগত কিন্তু কঠোরভাবে. এ সম্বন্ধে আমি বলেছি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী রোজা ওতুনবায়েভাকে. অবশ্যই ওদের সাহায্য করা উচিত এ সমস্যার মীমাংসায়. প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা আপনারা প্রণয়ন করেছেন. এখন কাজে নামতে হবে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের.    এ প্রসঙ্গে দমিত্রি মেদভেদেভ যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার রাষ্ট্রনেতাদের জরুরী বৈঠক আহ্বানের সম্ভাবনা বাদ দেন নি. এর প্রাক্কালে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি রোজা ওতুনবায়েভা স্বীকার করেন যে, প্রজাতন্ত্র স্বতন্ত্রভাবে পরিস্থিতি মীমাংসা করতে সক্ষম নয়, এবং রাশিয়ার কাছে সামরিক সাহায্য চেয়েছেন. এ ক্ষেত্রে একটি গুরুতর প্রশ্ন ওঠে এ রকম আবেদনের বৈধতা সম্পর্কে, যে বিষয়ে এক সাক্ষাত্কারে মন্তব্য করে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ সের্গেই মাক্সিমোভ বলেনঃ   আমার মনে হয় না যে এটি অপ্রতিরোধ্য বাধা হয়ে উঠবে সাহায্য দানের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে. আমার মনে হয় রাশিয়ার কাছে আবেদন আপতিক ব্যাপার নয়. এজন্যই নয় যে সেখানে বেশির ভাগ অধিবাসী রুশ ভাষায় কথা বলে. আরও এজন্যও যে, পৃথিবীতে খুব কম দেশই আছে যে কার্যকরী সাহায্য দিতে প্রস্তুত নিজের সৈন্যবাহিনী পাঠাতে দেশের ভেতরে শান্তি বজায় রাখার জন্য. অবশ্যই কথা হচ্ছে অতি সীমিত বাহিনী পাঠানোর. তবে সঙ্ঘর্ষরত সম্প্রদায়গুলিকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য তা যেন যথেষ্ট হয়. আর এমন মেয়াদের জন্য যে সময়ের মধ্যে সঙ্ঘর্ষ মীমাংসার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য চরিত্রের ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবেশ দেখা দেয়.    রাশিয়া আপাতত কির্গিজিয়ায় পাঠাচ্ছে ১৫০ জন সৈনিককে, যারা যুক্ত হবে কির্গিজিয়ায় অবস্থিত রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির সৈনিকদের সাথে. যাতে আন্দোলনে ভরা কির্গিজিয়ায় তার সামরিক ঘাঁটি সুরক্ষিত করতে পারে. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা রাষ্ট্রনেতাদের পর্যায়ে.