রাশিয়ার প্রেসিডিন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের আদেশে কিরগিজস্তানে রাশিয়ার সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে.রবিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর একটি দলকে বহনকারী বিমান কিরগিজস্তানে অবতরন করেছে.

কিরগিজস্তানে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি কান্তে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে আরও ১৫০ জন সামরিক সৈন্য  পাঠানো হয়েছে.সৈন্যরা তাদের সামরিক পোশাক ও অস্ত্র নিয়ে সতর্ক অবস্থায় আছে.গত দুইমাসে এটি ২য় বারের মত রাশিয়ার সৈন্যদের ঐ অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে.উল্লেখ্য যে,গত ৮ এপ্রিল কিরগিজস্তানে সরকার বিরোধী অন্দোলনের সময়ও রাশিয়ার ১৫০ জন সৈন্যকে জরুরিভিত্তিতে পাঠানো হয়.সেই সময় তাদেরকে কিছুটা জটিল দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে.রাশিয়ার সৈন্যবাহিনীদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্ত প্রদান ও রাশিয়ার সেনা ঘাঁটির নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা.বসন্তের ঐ সময় কিরগিজস্তানে সরকার বিরোধী আন্দোলনের পর বর্তমানে দেশটিতে অন্তর্বর্তী সরকার শাষনক্ষমতা পরিচালনা করছে.গবেষকদের মতে ,প্রজাতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই জটিল অবস্থার মুখোমুখি. ১১জুন ,শুক্রবার রাতে কিরগিজস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের ওশ শহরে উজবেক ও কিরগিজদের জাতিগত দ্বন্দ্বের কারণে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে সরকারি হিসাবে পর্যন্ত এ ঘটনায় ১১০ জন নিহত ও ১৫০০ এরও বেশী লোক আহত হয়.এ সংঘর্ষ পার্শ্ববর্তী জালালাবাদের দিকে অগ্রসর হতে থাকে.টানা তিনদিন জাতিগত ঐ সংঘর্ষ চলতে থাকে.কিরগিজ ও উজবেক বিক্ষোভকারীরা যানবাহন ভাঙ্গচুর করে,দোকানপাট লুটপাট করে এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়.সংঘর্ষের এলাকাগুলোতে এখন জরুরি অবস্থা জারি আছে.

দেশটি ইতিমধ্যে এক ঘোষনায় জানায় যে, পরিস্থিতি আমাদের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে,জাতিগত ভাগাভাগির শুরু হয়েছে.কিরগিজস্তেনর সবথেকে বিশ্বস্থ সহযোগি রাষ্ট্র রাশিয়া এবং দেশটির আণঞ্চলিক রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করে শুধু রাশিয়াই.শান্তিবাহিনী চেয়ে শুধুমাত্র বেসরকারি সংস্থাই নয় বরং দেশটির অন্তর্বর্তি সরকার রাশিয়ার সাহায্য চেয়েছে.সোভিয়েত ইউনিয়ন শিক্ষা সেন্টারের সভাপতি আলেক্সেই ব্লাসব বলেন-এখন রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের একটি পথ হচ্ছে সাহায্য প্রদান.সাহায্য বলতে তারা শুধু আহতদের চিকিত্সা সেবা ও বন্দিদের অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়াই নয় ,মানবিক সাহায্যে দেওয়া.রাশিয়া যে বিষয়টি দেখছে তা হল কিরগিজস্তানে একমাত্র  শক্তি যা দেশটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে একটি উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করা.এই কারণেই অন্তর্বর্তি সরকার বুঝতে পেরেছে যে,তারা কোনভাবেই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারবে না.

একই সাথে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যে বিষয়টি ভাবা হচ্ছে তা হল ,কিরগিজস্তানে রাশিয়ার সামরিক সৈন্য ব্যবহার কারার মত এখনও সেই অবস্থার সৃষ্টি হয় নি.এটি অভ্যন্তরণীন কোন্দোল এবং রাশিয়া কোন যুক্তি দেখছে না কিরগিজস্তানের নিজেদের সৈন্য ব্যবহারের.ইতিমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় এ জরুরি ত্রাণমন্ত্রনালয়কে কিরগিজস্তানের জন্য মানবিক সাহায্যে পাঠানো এবং গুরুতর আহতদের মস্কো নিয়ে আসার আদেশ দিয়েছেন.রাশিয়ার জরুরি ত্রানমন্ত্রনালয়ের একটি বিমান রবিবার রাতে বিশকেক থেকে গুরুতর আহত ৬ জন কিরগিজস্তানের নাগরিককে  মস্কো আনা হয়েছে এবং সোমবার মানবিক সাহায্য নিয়ে রাশিয়ার ৩টি বিমান বিশকেকে অবতরন করেছে.